বড়বেলায় খেলনা গাড়ির শখ

55

বিস্ময় ডেস্ক:
ছেলের শখ কী, এমন প্রশ্নের জবাবে কেউ যদি বলেন ‘গাড়ি জমানো’, তাহলে অনেকেই চোখ কপালে তুলতে পারেন। অবাক হওয়ার মতোই তো ব্যাপার। গাড়ি জমানো! এ তো বিরাট ব্যাপার! অসাধারণ, অভাবনীয় এক শখই বটে। কিন্তু প্রশ্নের উত্তরে কেউ যদি বলেন, ‘খেলনা গাড়ি জমানো।’ তাহলেও চোখ কপালেই উঠবে। বাচ্চাকাচ্চারা খেলনা গাড়ি কেনে বলে শোনা যায়, কিন্তু চাকরি-বাকরি করা কিংবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা যে দোকানে গিয়ে খেলনা গাড়ি কেনেন, তা দিয়ে সংগ্রহশালা বানাতে পারেন—এমনটা বিশ্বাস করবেন না অনেকেই। কিন্তু খেলনা গাড়ি জমানো একটা শখ হতে পারে। যাঁরা এই শখ মনের গভীরে নিয়ে ঘোরেন, তাঁদের কাছে একেকটি খেলনা গাড়ি যে কী জিনিস, সেটি বলে বোঝানো সম্ভব নয়। খেলনা গাড়ি শব্দটায় তাদের আপত্তি থাকতে পারে ঘোরতর—ভাই কী বলেন! আমরা খেলনা জমাই নাকি! আমরা তো জমাই একটি নির্দিষ্ট মডেলের গাড়ির ‘মিনিয়েচার’ বা ক্ষুদ্র সংস্করণ, বাইরের দেশে যেটি অনেক পুরোনো একটি ধারণা। আমাদের দেশেও এমন কিছু ব্যাপ্তি মিলছে কিছু মানুষের হাত ধরে। তাঁরা অনেকেই চাকরি-বাকরি কিংবা ব্যবসা করেন—উপার্জনের টাকা বাঁচিয়ে সেটি ব্যয় করেন নতুন কোনো মডেলের গাড়ি কিনতে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার অবসরে হাতখরচের টাকার একটা বড় অংশ এই কাজে ব্যয় করার মানুষও কম নেই এ দলে। ডাইকাস্ট কালেক্টরস অব বাংলাদেশ’—এমন শখের মানুষেরা একটি নির্দিষ্ট ব্যানারের অধীনে এসেছেন এ নাম দিয়েই, ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি একটি ফেসবুক গ্রুপ হিসেবে যেটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। জহির ইবনে মজিব এই গ্রুপের শুরুটা করেছিলেন। কিন্তু গত পাঁচ বছরে এটির সদস্যসংখ্যা যে প্রায় চার হাজার হয়ে যাবে, সেটি তিনি কখনোই ভাবেননি। ছোটবেলায় খেলনা গাড়ির শখ অনেকেরই থাকে, সেটি পরিণত বয়সের সময় কাটানোর উপাদান হয়ে যাওয়ায় দারুণ সন্তুষ্ট তিনি, ‘ছোটবেলা থেকেই শখটা ছিল। বড় হওয়ার পরও সেটি ভেতরে থেকে যাওয়ায় মাঝেমধ্যেই লজ্জা পেতাম। কেমন যেন পাগলামি মনে হতো! কিন্তু ফেসবুকেই এমন কিছু গ্রুপের খোঁজ পেলাম, যারা খেলনা গাড়ি নিয়ে রীতিমতো পাগল। এমন কিছু মানুষকে পেলাম আমাদের মধ্যেই।’