ব্যাংকের আমানত সুরক্ষা করতে হবে

170

আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থের সুরক্ষার বিষয়টি খুব যে গুরুত্ব পাচ্ছে তা নয়। বিদ্যমান ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন-২০০০’ এক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে বলা যাবে না। আমানতকারীদের জমা অর্থের বীমা সুবিধা নেই। ফলে গ্রাহকদের এক ধরনের অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদ্যমান আইনটির কিছু সংশোধন করে ‘আমানত সুরক্ষা আইন’ নামে নয়া আইন প্রণয়ন করেছে। প্রস্তাবিত এই আইনে ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের আমানতের ওপরও বীমা করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আইন প্রণয়নের আগে ও পরে প্রতিষ্ঠিত সব তফসিলী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই বীমার অন্তর্ভুক্ত হবে। কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বীমা না করলে আমানত সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান আমানতের বিপরীতে বীমার প্রিমিয়াম জমা দিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হলে সেই প্রতিষ্ঠানকে অবসান বা বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমানতকারীদের জন্য এই উদ্যোগ সুসংবাদ যেমন, তেমনি দুশ্চিন্তামুক্ত করার প্রক্রিয়া বৈকি। তবে আইনে কোন ধরনের জটিলতা থাকলে তা বিরূপ অবস্থার তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৭টি ব্যাংক এবং ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলোতে মোট নয় লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা আমানত জমা হয়েছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে জমা আমানতের পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। বিদ্যমান আইনে শুধু ব্যাংকের আমানতের বীমা সুবিধার কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে প্রস্তাবিত আইনে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানতেরও বীমা সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে কোন কারণে দেশে কার্যরত কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া হবে এ আইনের অধীনে, যা গ্রাহকদের জন্য অবশ্যই স্বস্তির কারণ। অতীতে অনেক ব্যাংক গ্রাহক এই অবস্থার শিকার হয়েছে। আমানত হারিয়েছে। আরও স্বস্তি দায়ক যে, আমানতকারীদের জমা আমানতের মধ্যে বীমার সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেয়া হবে। বন্ধ হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করা হবে। আমানতকারীরা অবশ্য আশাবাদী যে, খসড়া আইনে তাদের পুরস্কার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হবে। বিদ্যমান আইনে যে ঘাটতি ছিল, তা পূরণ হওয়ার পর কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া গেলে আমানতকারীদের লাঘব হবে দুশ্চিন্তা। বন্ধ হবে অস্বস্তিকর ও অব্যবস্থাপনা। আশার আলো জ্বালাবে নয়া আইনÑ এমন ভরসা রাখি।