ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা আর কতদিন?

251

দেশের ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য ও অরাজকতা চলছে, তার একটি উদাহরণ হল অবলোপনকৃত ঋণের টাকা আদায় না হওয়া। এ তথ্যটি খুবই উদ্বেগের, বিভিন্ন ব্যাংকের ২২ হাজার ২২১ কোটি টাকা নানা কৌশলে পকেটে ভরেছেন শীর্ষ ২০ খেলাপি এবং এই পুরো অর্থই অবলোপন করা হয়েছে। নিয়ম হল, অবলোপন করার পর টাকা আদায় করা হবে। কিন্তু গত ১ বছরে অবলোপনকৃত একটি টাকাও আদায় করতে পারেনি ৪টি ব্যাংক। অন্যান্য ব্যাংকের চিত্রও সন্তোষজনক নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, টাকাগুলো কেন আদায় হচ্ছে না? এ তো সাধারণ মানুষেরই টাকা। তবে কি এটাই সত্য যে, কিছু লোক ব্যাংকের টাকা নিয়ে যাচ্ছেতাই করবে আর দেশবাসীকে সেই অপকর্ম হজম করতে হবে? অবলোপনকৃত টাকা আদায় করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ মার্চে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, শীর্ষ ২০ অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায় সন্তোষজনক নয়। আদায় নিশ্চিত করার জন্য তাগিদ দেয়া শুধু নয়, সতর্ক করা হয়েছে ব্যাংকগুলোর কর্তৃপক্ষকে। এ চিঠিতে কতটা কাজ হবে বলা যাচ্ছে না। কারণ একটি ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ বলেছে, দীর্ঘদিন খেলাপি থাকার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঋণ অবলোপন করা হয়েছে; কিন্তু টাকা না দিয়ে তারা ছলে-বলে-কৌশলে পার পেয়ে যাচ্ছেন, কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করে যাচ্ছে, তবে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। প্রথম কথা হচ্ছে, যাদের সঙ্গে কুলিয়ে ওঠা যায় না, তাদের ঋণ দেয়া হয়েছে কেন? দ্বিতীয় কথা, জানা গেছে, বেশ কিছু ঋণের বিপরীতে যথাযথভাবে জামানত রাখা হয়নি। জামানত না থাকলে ঋণ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে, এ তো খুবই সাধারণ কথা। প্রকৃতপক্ষে ঋণগুলো নেয়া হয়েছিল জালিয়াতির মাধ্যমে। এটাও বোঝা খুব সহজ, শীর্ষ ঋণখেলাপিদের অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হয়েছেন, তারা প্রভাবশালী এবং অনেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকেন। ফলে তারা ধরে নিয়েছিলেন, ব্যাংকের টাকা ফেরত না দিলেও চলে। কালো টাকা ও রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তি প্রয়োগ করেই তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে কোনো কাজ হবে না। অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরাও সেটাই বলছেন। ঋণের টাকা উদ্ধার করতে এখন দরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা। এক বিশেষজ্ঞ এমনও বলেছেন, প্রয়োজনে শীর্ষ খেলাপিদের বিচার করে জেলে পাঠাতে হবে। শুধু তাই নয়, ব্যাংকের যেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবসর নিয়েছেন, তাদের কার আমলে কত টাকা কীভাবে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়েছিল, সেগুলোরও তদন্ত হওয়া দরকার। মোট কথা, কর্মরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত, যাদের কারণে ঋণ কেলেঙ্কারি হয়েছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। জামানত ও যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া যারা ঋণ মঞ্জুর করেছেন, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া চলবে না।