বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশ আজ

117

সমীকরণ প্রতিবেদন:
কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে আজ মঙ্গলবার আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ উভয়পক্ষের শুনানি গ্রহণ করে আদেশের দিন ধার্য করেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। তিনি আদালতে বলেন, মামলা দু’টিই জামিনযোগ্য। আপিল বিভাগের গাইডলাইন রয়েছে জামিনযোগ মামলায় আসামি জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন দেবেন। এ ছাড়া এ মামলাগুলো করেছেন এ বি সিদ্দিকী নামে একজন, যিনি সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এসব মানহানির মামলা করেছেন। শুনানির সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আরও ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জামিল আক্তার এলাহী, এইচ এম কামরুজ্জামান মামুন, জিয়া উদ্দিন জিয়া, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, আনিসুর রহমান খান প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এফ আর খান। তিনি আদালতে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করলে যে কেউ মামলা করতে পারেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়া একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির দায়িত্বপূর্ণ বক্তব্য দেয়া উচিত। তিনি জামিনের বিরোধিতা করেন। এর আগে গত ২২ মে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানি তারিখ ১৭ জুন ধার্য করেন। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এর তীব্র বিরোধিতা করে বলেছিলেন, এটা জামিনযোগ্য মামলা। আপিল বিভাগের গাইড লাইন আছে জামিনযোগ্য মামলায় জামিন দিতে হবে। মানহানির দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদনের বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়া একটি মামলায় কারাগারে আছেন তা জেনেও আবেদন করা হলেও তাঁকে আদালতে হাজির করার জন্য প্রডাকশন দিচ্ছে না। সেই কারণে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর ২০১৪ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত মামলা দু’টি বিচারাধীন রয়েছে। জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির এ মামলা করেন। এ মামলায় গত ২০ মার্চ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ অবস্থায় ওই দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। গত ২২ মে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনে শুনানির জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।