বুকজ্বালার কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

230

স্বাস্থ্য ডেস্ক: আপনি যদি সপ্তাহে দু’বারের বেশি বুকজ্বালায় ভোগেন তাহলে বুঝবেন আপনার অ্যাসিড রিফ্লাক্স হয়েছে। অ্যাসিড রিফ্লাক্স ‘গ্যাস্ট্রইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’ নামেও পরিচিত। খাদ্যনালী বেয়ে অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসলে বুকজ্বালা অনুভূতি হয়। জ্বালা প্রথমে বুকে আরম্ভ হয়ে গলা বা চিবুক বা থুতনিতে পৌঁছে যেতে পারে। খাদ্যনালীর নিম্নস্থ পেশি যথার্থভাবে বন্ধ না হলে এটি ঘটে থাকে ও জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হয়। মাঝে মাঝে বুকজ্বালা হলে সমস্যা নেই। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বুকজ্বালা প্রায় সময় হয়ে থাকলে বুঝতে হবে আপনার গ্যাস্ট্রইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা অন্য কোনো রোগ হয়েছে। তখন আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং শরীরটাকে সঠিক অবস্থায় রাখা। ওয়েবএমডি’র তথ্যানুসারে, গ্যাস্ট্রইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্সের একটি সাধারণ কারণ হচ্ছে পাকস্থলীর অস্বাভাবিকতা, যাকে হায়াটাল হার্নিয়া বলা হয়। সাধারণত পাকস্থলীর ওপরের অংশ ও খাদ্যনালীর নিম্নস্থ পেশি গলাকে অ্যাসিডের আওতামুক্ত রাখে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলে অর্থাৎ অ্যাসিড গলার স্পর্শ পেলে এই হার্নিয়া হয়ে থাকে ও জ্বালা অনুভূত হয়। কিন্তু অন্যান্য কারণেও গ্যাস্ট্রইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স হতে পারে। যেমন-
* বেশি খাবার খাওয়া, খাওয়ার পর শুয়ে থাকা বা কোমর বাঁকিয়ে বসা, বেশি ওজন বা মোটা হয়ে যাওয়া, ঘুমাতে যাওয়ার অল্প আগে খাওয়া, লেবু, টমেটো, চকলেট, পুদিনা, রসুন, পেঁয়াজ বা মসলাযুক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়, কার্বোনেটেড পানীয়, কফি কিংবা চা পান করা, ধূমপান করা, গর্ভবতী হওয়া, বেদনানাশক ওষুধ (যেমন- অ্যাস্পিরিন, ইবুপ্রোফেন), পেশি শিথিলকরণ বা রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণ করা।
লক্ষণ: গ্যাস্ট্রইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্সের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হল বুকজ্বালা ও উগরানো। বুকজ্বালা হল এমন প্রদাহ যা আপনাকে অস্বস্তিকর অনুভূতিতে ভোগাবে। প্রদাহ পাকস্থলী থেকে পেট, বুক এমনকি গলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। উগরানো হলে টক অ্যাসিড গলা কিংবা মুখে চলে আসতে পারে। বুকজ্বালা ও উগরানো কোনোটাই সুখকর নয়। কিন্তু উভয়েই গ্যাস্ট্রইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স রোগের নির্দেশক। গ্যাস্ট্রইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্সের হলে অন্যান্য উপসর্গও দেখা দিতে পারে। যেমন- পেটে গ্যাসের বৃদ্ধি যাতে পেট ভরা ও টাইট মনে হয়, রক্তাক্ত বা কালো মল, রক্তাক্ত বমি, উদগার তোলা, খাদ্যনালীর সংকীর্ণতা যাতে মনে হয় খাবার গলায় আটকে আছে, হিক্কা বা হেঁচকি উঠা, বমি বমি ভাব, ব্যাখ্যাতীত ওজন হ্রাস, শ্বাস ফেলার সময় বুকে শব্দ হওয়া, শুষ্ক কাশি, কণ্ঠস্বরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন।
চিকিৎসা: আপনি যদি সপ্তাহে দু’বারের বেশি এসব উপসর্গের সম্মুখীন হন বা এসব আপনার জীবন বা ঘুমে প্রভাব বিস্তার করে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। নিচে উল্লেখিত ধাপ অনুসরণ করে আপনি গ্যাস্ট্রইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স রোগ অর্থাৎ বুকজ্বালা প্রতিরোধ করতে পারেন। যেমন:-  খাওয়ার পর না ঘুমানো কিংবা কোমর বাঁকা করে না বসা বা ভর দেওয়া, ঘুমানোর সময় মাথা উপরে রাখা, ঘুমাতে যাওয়ার ২/৩ ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়া, দিনে চেয়ারে অল্প ঘুম যাওয়া, ওজন কমানো (যদি মোটা হয়ে থাকেন), টাইট বেল্ট না পরা, ধূমপান বর্জন করা, ট্রিগার ফুড যেমন- মসলাযুক্ত খাবার, পেঁয়াজ, লেবুজাতীয় ফল, টমেটো থেকে উৎপন্ন খাবার( যেমন- পাস্তা সস বা কেচাপ), চর্বিযুক্ত বা ভাজা খাবার, সুগন্ধিযুক্ত খাবার (যেমন- পুদিনা), চকলেট, অ্যালকোহল, কার্বোনেটেড পানীয়, কফি, অন্যান্য ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় বর্জন করা, অত্যধিক খাবার না খাওয়া। বুকজ্বালায় চিকিৎসক আপনাকে ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ (যা কিনতে ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন লাগে না) অথবা পাকস্থলীর অ্যাসিড কমাতে নির্দিষ্ট ওষুধ খেতে বলতে পারেন। চিকিৎসকের কাছে আপনার জীবনপ্রণালী কিংবা খাবার অভ্যাস এবং উপসর্গ সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন, যাতে তিনি সঠিক চিকিৎসা করতে পারেন।