বিষাদের ছায়ায় ভক্তদের শ্রদ্ধা-ভালবাসায় দেবী দুর্গার বিসর্জন

31

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ সারা দেশে সংসারের সমৃদ্ধি কামনায় হিন্দু নারীদের সিঁদুর খেলা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাম্বলীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলো। গতকাল সোমবার চোখের জলে লাখ লাখ সনাতন ধর্মাম্বলীরা ‘মা দুর্গাকে’ বিদায় জানায়। এদিকে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ সারা দেশে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে পাঁচদিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। গতকাল বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তারা এ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন। তবে এবার মহামারী করোনার কারণে মন্দিরগুলোতে লাইটিং ও শোভাযাত্রাসহ বাদ পড়েছে নানা আয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সনাতন ধর্মাম্বলীরা পাঁচদিন দুর্গোৎসবে মেতেছিল।
চুয়াডাঙ্গা:
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে গত বৃহস্পতিবার ষষ্ঠীতে শুরু হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। বোধনে অরুণ আলোর অঞ্জলি নিয়ে আনন্দময়ী মা উমাদেবীর (দেবী দুর্গা) আগমন ঘটে মর্ত্য।ে পরের তিন দিন আনন্দের বর্ণিল ছটা ছড়িয়ে যায় সর্বত্র। গতকাল সোমবার সেখানে বাজল বিষাদের করুণ সুর। হিন্দু বিশ্বাসে টানা পাঁচদিন মৃন্ময়ীরূপে মণ্ডপ ছেড়ে ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে স্বামী শিবের সান্নিধ্যে। বছর ঘুরে আবার আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখো ভক্তকে ভারাকান্ত করে গজে চড়ে বিদায় নিলেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। এরই মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
গতকাল সকাল থেকেই বিহিত পূজার পর ভক্তের কায়মনো প্রার্থনা আর ঢাক-উলুধ্বনি-শঙ্খনিনাদে হিন্দু রমণীদের পরম আকাক্সিক্ষত সিঁদুর খেলায় মুখর হয়ে ওঠে মন্দিরগুলো। বিকেল হতেই মণ্ডপের পর্ব চুকিয়ে বিজয়া মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন সবাই। সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গার তীরজুড়ে ‘দুর্গা মা কি, জয়। মহামায়া কি, জয়।’ একের পর এক এমন জয়ধ্বনি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টা বাজিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এবারে অন্যবারের মতো করে করোনাভাইরাসের কারণে শোভাযাত্রা বের না হলেও, অনেক ভক্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি, নাচ, সিঁদুর খেলা হয়। মুখরিত হয়ে ওঠে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। ধান, দুর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা।
একদিকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। মালোপাড়া, দাসপাড়া, তালতলা, কুলচারা, আলুকদিয়া, দৌলাতদিয়াড় এলাকার পূজামণ্ডপগুলো থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাথাভাঙ্গা নদীর বিভিন্ন অস্থায়ী ঘাটে প্রতিমাগুলোর বিসর্জন দেওয়া হয়। সকালে দেওয়া হয় দর্পণ ঘট বিসর্জন। এমনই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী বাবার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে গেলেন স্বামীগৃহে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অসুর শক্তি বিনাশকারী দেবী বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে সব অপশক্তির বিনাশ হবে। শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে যাবে সবখানে। অনেকে মায়ের বিদায়ের বিরহে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রথা অনুযায়ী, প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে শান্তির জল মঙ্গলঘটে নিয়ে তা হৃদয়ে ধারণ করা হয়। আগামী বছর আবার এ শান্তির জল হৃদয় থেকে ঘটে, ঘট থেকে প্রতিমার সম্মুখে রেখে পূজা করা হবে। দৈনন্দিন জীবনে বাঁধা হিসেবে আবদ্ধ বাঙালি আসলে পূজার চার দিনে মুক্তির ছোঁয়া পায়। সারা বছরে লুকিয়ে থাকা ইচ্ছে ডানাগুলো এদিক-ওদিক থেকে বেরিয়ে আসে। খুশিয়াল মেজাজে ভর করে তাদের চার দিন অবাধ ওড়া-উড়ির সমাপ্তি হলো গতকাল সোমবার। এবার তাদের গুটিয়ে যাওয়ার পালা। এবার ফিরে চলা প্রতীক্ষার কাছে। তবে মনের মধ্যে অবিরাম ঢাকের বাদ্যি জানান দিয়ে যায়, আসছে বছর আবার হবে।
দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর দৈনন্দিন পরিদর্শন রিপোর্ট অনুযায়ী, সার্বজনীন এ উৎসবের প্রত্যেক দিনই সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের সব বয়সের নারী-পুরুষ মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন। পাশাপাশি দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গার কৃপা লাভের আশায় তারা আরাধনা করেন। প্রতিবারের ন্যায় এ বছরও দুর্গাপূজা উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরসহ গোটা জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে শ্রেণি বিন্যাসে বিপুলসংখ্যক আনসার, ব্যাটালিয়ন পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বসানো হয় অস্থায়ী কন্ট্রোলরুম ও ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরা (সিসি টিভি)। বিসর্জনের ঘাটগুলোতে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে ছিল পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। নিরাপত্তা বিবেচনায় লাগানো হয় সিসি টিভিও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে প্রশানের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদেরও মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামসহ জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনেরা।
সরোজগঞ্জ

চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জেও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। গতকাল সাড়ে ৬ টার দিকে খাড়াগোদা চিত্রা নদীতে দেবী দুর্গাকে বির্সজন দেওয়ার মধ্যেদিয়ে শেষ হয়। এ উপলক্ষে সরোজগঞ্জ কাছারিপাড়া, বোয়ালিয়া, ধুতুরধাট, দাসপাড়া, গড়াইটুপি, তেঘরিসহ চুয়াডাঙ্গার শংকরচন্দ্র ও কুতুবপুর এবং তিতুদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামন্দিরে দেবী দুর্গা পূজা উপলক্ষে শোভা যাত্রা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সরোজগঞ্জ কাছারিপাড়ার পূজামন্দিরে সভাপতি উত্তম কর্মকার, সেক্রেটারি শংকর শর্মা, দেবাশীস, সিজন, সুজয়, শুভংকর, শ্যামলসহ প্রমুখ।
আলমডাঙ্গা

আলমডাঙ্গায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় ৩১ পুজা মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার আলমডাঙ্গা উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা, শ্রাদ্ধঞ্জলি নিবেদন এবং প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব উদযাপন শেষে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছেন। গতকাল সোমবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান শেষ হয়। সার্বজনীন এই উৎসবের প্রত্যেক দিনই সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল বয়সের নারী-পুরুষ মণ্ডপে-মণ্ডপে গিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন। পাশাপাশি দূর্গতিনাশিনী দেবীদূর্গার কৃপা লাভের আশায় তারা আরাধনা করেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। প্রতিটি মণ্ডপে আনসার, ব্যাটালিয়ান পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিটন আলী, পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে দশমী পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন দেয়া হয়। দশমীতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠেন ‘মা দুর্গা’ ভক্তরা। বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশে পৌর এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা কুমার নদের পাড়ে নিয়ে আনা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসার কাদীর গনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিটন আলী, থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পুজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক প্রশান্ত অধিকারি, উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডা. অমল কুমার বিশ্বাস, আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ইয়াকুব আলী, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, যুগ্ম সম্পাদক প্রশান্ত বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন, পৌর কাউন্সিলর জহুরুল ইসলাম স্বপন, পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক মতিয়ার রহমান ফারুক, বিদ্যুৎ সাহা, পরিমল কুমার কালু ঘোষ, ওসি তদন্ত মাসুদুর রহমান, ওসি অপারেশন স্বপন কুমার দাস প্রমুখ।
শেষ দিকে এসে দেবী দুর্গার বিদায় বেলায় আনন্দ-বেদনার মিশ্রণ অনুভূতিতে ‘মা দূর্গা’র ভক্তদের হৃদয় সিক্ত করে তুলে। আলমডাঙ্গা পৌর এলকার ১২ টি দুর্গাপ্রতিমা সন্ধার পর পর বাদ্য-বাজনার তালে-তালে গোধুলিলগ্নে আলমডাঙ্গা কুমার নদে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। বিজয়া দশমীর মাধ্যমে গতকাল সোমবার পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।
দর্শনা

সারা দেশের ন্যায় দর্শনাতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মালম্বীদের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার পূজা মণ্ডপগুলোতে লাইট আর ভিন্ন রকম সাজে সজ্জিত হয়ে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উৎযাপন শেষে বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছর দর্শনা কেরুজ পূজা মন্দির, আমতলা পূজা মন্দির, পুরাতন বাজার পূজা মন্দির, রামনগর দাসপাড়া পূজা মন্দির, রামনগর মুচিপাড়া পূজা মন্দির ও পারকৃষ্ণপুর হালদার পাড়া পূজা মন্দিরে এই উৎসব পালিত হয়েছে। ৫ দিন ব্যাপী উৎসব শেষ করে গতকাল দর্শনা মেমনগরে মাথাভাঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে এ বছরের দুর্গোৎসব সমাপ্তি হয়। গতকাল সোমবার দুপুর ২ টার দিকে স্ব স্ব মন্দির হতে প্রতিমা ট্রাকে তোলা হয়। পরে জেলার বিভিন্ন স্থান প্রদর্শন শেষে মাথাভাঙ্গা নদীতে নৌকায় চেপে সাতপাকে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান, প্যানেল মেয়র-১ রবিউল হক সুমন, সকল সনাতন ধর্মালম্বীসহ, সকলমন্দির কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আন্দুলবাড়ীয়া

সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সর্বত্র কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তায় সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বিরা দেবীদূর্গা বিজয় দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শারদীয় উৎসব শেষ করেন। গতকাল সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে পৃথক-পৃথক ভাবে স্থানীয় নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেন।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে ন্যায় গতকাল সোমবার মেহেরপুর সদরে মোমিনপুর শ্রী শ্রী রামমন্দির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজা শেষ হয়েছে।
মেহেরপুর

মেহেরপুরে সিঁদুর উৎসব ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিমা বিসর্জনের আগে পূজা মণ্ডপগুলোতে চলে সিঁদুর খেলা আর আনন্দ-উৎসব। হিন্দু সধবা নারীরা প্রতিমায় সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং নিজেরা একে অন্যকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। এ সময় চলে মিষ্টি মুখ আর ঢাকের তালে তালে নাচ-গান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর শহরের শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, শ্রী শ্রী হরি ভক্তি প্রদায়িনী পূজা মন্দির, নায়েব বাড়ি মন্দির, মালো পাড়া মন্দির, হালদার পাড়া মন্দির, বামনপাডা মন্দির মেহেরপুরের ভৈরব নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়। করেনা ভাইরাসের কারণে এবার প্রতিমা নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করা থেকে বিরত থেকে সরাসরি ভৈরব নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। গত ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিবারের মতো মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছেন। দশমীর দিনে গতকাল সকাল থেকে সিঁদুর উৎসবের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবং সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গাপূজা।
বারাদী

প্রতিবারের ন্যায় এ বছরও মোমিনপুরে দুর্গাপূজার আয়োজন করে হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বিরা। সার্বজনীন এই উৎসবের প্রত্যেক দিনই হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল বয়সের নারী-পুরুষ মণ্ডপে-মণ্ডপে গিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন। পাশাপাশি দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গার কৃপা লাভের আশায় তারা আরাধনা করেন। ৫দিন ব্যাপী দুর্গোৎসব এর পর গতকাল বিজয় দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শারদীয় উৎসব শেষ হয়।
মোমিনপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাস দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বিকাশ পাত্র বলেন, ছেউটিয়া নদীতে বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। এই বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে এবারের পূজার সমাপ্ত ঘটে।
ঝিনাইদহ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে দেবী দুর্গার বিদায়ের সময়ে সিঁদুর খেলায় মেতেছিল রমনীরা। গতকাল সোমবার বেলা ১২ টার দিকেল শহরের বারোয়ারি পুজা মন্দির, কালীতলা পুজা মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানের মন্ডপে মন্ডপে চলে সিঁদুর কোটা যাত্রা (সিঁদুর খেলা)। সকালে পুর্জা অর্চনার পর দেওয়া হয় পুষ্পাঞ্জলী। এরপরই হিন্দু বিবাহিত নারীরা দেবীর পায়ে লাল টকটকে সিঁদুর পায়ে নিবেদন করেন। পের সেই সিঁদুর একে অপরকে লাগিয়ে আগামী দিনের জন্য শুভ কামনা করেন। শহরের বারোয়ারি পুজা মন্দিরে আসা বাসন্তী রানি নামের এক ভক্ত জানান, সিঁদুর কোটা যাত্রা (সিঁদুর খেলা)র মাধ্যমে নারীরা স্বামী ও সন্তানের দীর্ঘায়ূ কামনা করেন। তারা যেন ভালো থাকেন এই কামনা করেন সিঁদুর খেলার মাধ্যমে। পুজারীরা জানান, এ বছর জেলার ৬ উপজেলায় ৪’শ ৩ টি মন্ডপে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরের পর বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয় উৎসব। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ধরিত্রী থেকে স্বামীগৃহে ফেরেন দুর্গতি নাশিনী দুর্গা। মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে বিশ্ববাসিদের মুক্ত আর দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের কল্যাণ করবেন তিনি এমনটি আশা করেন তারা।