বিশেষ সম্মননা প্রদান অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার বিদায়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন : আত্মসমর্পণকারি মাদকব্যবসায়ীদের পূণর্বাসন করে যেতে পারলে ভালো হতো

225

সমীকরণ ডেস্ক: চুয়াডাঙ্গার বিদায়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনকালে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে এ জেলাকে মাদকমুক্ত করতে অনন্য অবদান রাখার জন্য এ সম্মাননা দেয় দৈনিক সময়ের সমীকরণ পরিবার। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিকের উপস্থাপনায় পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনের সভাপতিত্বে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু। অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, দামুড়হুদা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আসাদুল হোসেন জোয়ার্দ্দার লেমন, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সভাপতি মাহাতাব উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি আজাদ মালিতা, সাধারণ সম্পাদক ফাইজার চৌধুরী, প্রথম আলো প্রতিনিধি শাহ আলম সনি। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি তোজাম্মেল হক, বৈশাখী টিভির প্রতিনিধি মরিয়ম শেলী, প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ বিপুল আশরাফ, ইনকিলাব প্রতিনিধি কামাল জোয়ার্দ্দার, গাজী টিভি প্রতিনিধি রিফাত রহমান, দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আওয়াল হোসেন ও চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স এর পরিচালক কিশোর কুমার কুন্ডু প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পত্রিকার সর্বকনিষ্ঠ প্রতিনিধি মেহেরাব্বিন সানভি। পরে চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকমুক্ত করতে অবদান রাখায় তাকে দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদায়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষ হানাহানি, মারামারি ভুলে গেছে। এখন আর এগুলো হয়না। যখন চুয়াডাঙ্গায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করি তখন এসে দেখি প্রায়ই মারামারি, হানাহানি, রাহাজানি, দোকান-পাট ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। এরপর জেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতায় পুলিশ তা বন্ধ করতে পেরেছে। চুয়াডাঙ্গা চার শতাধিক মাদকব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছে। এখনও অনেকে মাদকব্যবসা করছে। যারা সেদিন মাদকব্যবসা করবেনা বলে অঙ্গিকার করেছিলো, তাদের পূণর্বাসন করা সম্ভব হয়নি। তাদের মধ্যে এখনও যারা ব্যবসা করছে না এমন ১শ জনকে ১০ হাজার টাকা করে দিলেও পূণর্বাসন করা যেতো। ১শ জনের পূণর্বাসনে প্রয়োজন ছিলো ১৫ লাখ টাকা। হাতে সময় নেই, সময় থাকলে বিভিন্ন মহলে হাত পেতে ওই টাকা গোছানোর চেষ্টা করতাম। সর্বশেষে তিনি সকলের কাছে দোয়া চান যেন নতুন কর্মস্থলে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এসময় তিনি দৈনিক সময়ের সমীকরণকে ধন্যবাদ দেন তাকে সম্মান দেওয়ার জন্য।
প্রধান বক্তা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, একটা সময় ছিলো, চুয়াডাঙ্গা শহরে স্থানীয় কিছু যুবকরা চলন্ত মোটরসাইকেলে বসে রাস্তার সাথে ধারালো অস্ত্র দা ঠেকিয়ে আগুন জ্বালাতে জ্বালাতে যেতো। এখন আর সেটা দেখা যায়না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের সর্বোচ্চ সহযোগিতায় এখন তা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। আমরা দুজন সৎ পুলিশ কর্মকর্তাকে হারালাম। এর আগে পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান চুয়াডাঙ্গাবাসীকে কাঁদিয়ে জেলা থেকে বিদায় নেন। এবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেনও সকলের মনে নাড়া দিয়ে বিদায় নিতে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র সাধারণ সম্পাদক মাবুদ সরকার, দেশটিভি প্রতিনিধি খাইরুজ্জামান সেতু, চ্যানেল নাইন প্রতিনিধি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র প্রতিবেদক উজ্জল মাসুদ, নিজস্ব প্রতিবেদক আফজালুল হক, শহর প্রতিনিধি আনিছ বিশ্বাস, সোহেল সজীব, তিতুদহ প্রতিনিধি আকিমুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা অফিসের সহকারি অফিস প্রধান মাহফুজ আহমেদ, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি কাজী সোহাগ, কুড়–লগাছি প্রতিনিধি আহাদ আলী, গোপালপুর প্রতিনিধি রোকনুজ্জামান রোকন, অফিস স্টাফ বজলুল আলম জীবন, কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি সুলতান জসিমসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ছিলেন পত্রিকার বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক সেলিম হাবিব, সহ-সম্পাদক সুমন পারভেজ, পলাশ কুমার সাহা, আব্দুস সালাম ও সার্কুলেশন ম্যানেজার আলমঙ্গীর হাসান।