বিভ্রান্তের সাংবাদিকতা থেকে বিরত থাকুন- হুইপ ছেলুন আসেন সবাই মিলে এলাকার উন্নয়ন করি- টরিক

890

DSCN1108নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভ্রান্তের সাংবাদিকতা থেকে বিরত থাকুন । সত্যটাকে তুলে ধরুন । তাতে সম্মান বাড়বে, কমবে না। গতকাল দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সাংবাদিকতার নানান দিক নিয়ে আলোকপাত করতে যেয়ে মাননীয় হুইপ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। তিনি অরো বলেন, কারো পিছু লাগDSCN0927বেন না। আপনার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আপনার পত্রিকা পাঠক প্রিয়তা অর্জন করবে। আপনার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাাদিকতা বা সত্য সাংবাদিকতা না থাকলে আপনার পত্রিকা টিকে থাকবে না। আপনারা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করেন জেলার সমস্যার সংবাদ বেশী বেশী করে প্রকাশ করেন । সমস্যার সংবাদ প্রকাশ করলে আমরা বিষয়টি জাতীয়  ফোরামে তুলে ধরতে পারি।
একই মঞ্চে সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাহিদ গ্রুপের চেয়ারম্যান হাজী সাহিদুজ্জামান টরিক তার বক্তব্যে বলেন, আসুন – সবাই মিলে এলাকার উন্নয়ান করি। আপনার কর্ম আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে। আপনি নিজের জন্য চেষ্টা করবেন অনেক কিছু করেও যাবেন,   মানুষের কল্যাণে কিছু  না করলে আপনি মারা যাবার পর  দুনিয়াতে আপনার পরিচয় DSCN1063মুছে যাবে।  কেউ আপনার নাম মুখে আনবে না। তাই আসুন সবাই মিলে সবার জন্য কাজ করি এবং আগামী প্রজন্মকেও আদর্শ মানুষ হিসাবে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন, দৈনিক সময়ের সমীকরণের সম্পাদক ও প্রকাশক পুত্র তারিফুল আহম্মেদ। এরপর প্রধান অতিথিকে  ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে  নেন সময়ের সমীকরণের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হাজী সাহিদুজ্জামান টরিক, বিশেষ অতিথি চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগরকে ফুল দিয়ে বরণ করেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম শ্যামল, চুয়াডাঙ্গা বিজিবি- ৬ এর পরিচালক  লেঃ কর্ণেল আমীর মজিদকে ফুল দিয়ে বরণ করেন বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিক, ভারপ্রাপ্ত  পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে ফুল দিয়ে বরণ করেন শহরDSCN1038 প্রতিনিধি আফজালুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট দেব প্রসাদ পালকে ফুল দিয়ে বরণ করেন বিশেষ প্রতিবেদক উজ্জল মাসুদ, পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুকে ফুল দিয়ে বরণ করেন শহর প্রতিনিধি আনিছ, অনুষ্ঠানের সভাপতি হাজী সাহিদুজ্জামান টরিককে ফুল দিয়ে বরণ করেন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান।
আলোচনা সভার বিশেষ অতিথি  চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর তার বক্তব্যে বলেন, দৈনিক সময়ের সমীকরণ এত অল্প সময়ে পাঠক প্রিয়তা অর্জন DSCN1057করবে ভাবতেই পারিনি। স্থানীয় সাংবাদিকতায় ও  পত্রিকাগুলোর  এলাকার উন্নয়নে  কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। আমি মনে করি সময়ের সমীকরণ সে দিক থেকে গত এক বছরে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
চুয়াডাঙ্গা বিজিবি- ৬ এর পরিচালক  লেঃ কর্ণেল আমীর মজিদ তার বক্তব্যে বলেন, সময়ের সমীকরণ স্থানীয় সাংবাদিকতার সকল ধারাকে সমুন্নত রেখে জনগুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করবে এটা আমার আশা। তবে, আমি চুয়াডাঙ্গায় যোগদান করেই পত্রিকাটি প্রতিদিন পড়ি।  আমার কখনো মনে হয়নি এই পত্রিকাটির বয়স মাত্র এক বছর।
চুয়াডাঙ্গা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিজয়ের মাসে সমীকরণের লাল সবুজের বিশেষ প্রকাশনা আমাকে অভিভ’ত করেছে। অল্প দিনে সমীকরণ পাঠক সমাজে বেশ সমাদৃত । এই পত্রিকার আগামী দিন সুন্দর হোক।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট  দেব প্রসাদ পাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, সময়ের সমীকরণের সকল সাংবাদিকদেরকে বলবো এলাকার উন্নয়নে উন্নয়ন সাংবাদিকতা করবেন।  আর এই উন্নয়ন সাংবাদিকতার পথ পরিক্রমায় চুয়াডাঙ্গা জেলা একদিন উন্নয়ন সম্মৃদ্ধ জেলায় পরিনত হবে।
চুয়াডাঙ্গার পৌর  মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু তার বক্তব্যে বলেন, সময়ের সমীকরণ অল্পদিনেই বেশ ভাল অবস্থানে স্থান করে নিয়েছে। পত্রিকার সাংবাদিকদেরকে আহব্বান জানাই, আপনার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করলে, সমাজের মানুষ যেমন উপকৃত হবে এজেলার উন্নয়নও হবে। DSCN1008
সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন তার বক্তব্যে বলেন, সময়ের সমীকরণ নতুন হলেও বর্তমান সময়ে পাঠকদের মন জয় করছে।
জীবননগর উপজেলা চেয়াম্যান আবু মোহাম্মাদ আব্দুল লতিফ অমল তার বক্তব্যে বলেন, সময়ের সমীকরণ এলাকার জনমানুষের মুখপত্র হয়ে কাজ করবে এই আশাকরি। সাংবাদিকতার ধারবাহিকতায় যদি হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ হয় মানুষ সাংবাদিকদের সম্মান করবে।
চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সী আবু সাইফ বলেন, সমীকরণ আজ  সঠিক ধারার  সাংবাদিকতার পথে চলছে বলে এত অল্প সময়ের মধ্যে পাঠকের মাঝে বিস্তৃতি লাভ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা  শিল্প বনিক সমিতির সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক তার বক্তব্যে বলেন, সময়ের সমীকরণ আমাদের পত্রিকা, তার সার্বিক কল্যাণ হোক , ভাল ভাবে চলুক এই প্রত্যাশা রাখি।
দৈনিক প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি শাহ আলম সনি তার বক্তব্যে বলেন, দৈনিক সময়ের সমীকরণ নিরবিচ্ছন্নভাবে যে একটা বছর পার করলো এ জন্য পত্রিকার সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আগামী দিনগুলিও সুন্দর হোক এই প্রত্যাশা করি।
এছাড়া অরো বক্তব্য রাখেন, সমীকরণের শুভাকাঙ্খী মুজিব নগরের আব্দুর রশীদ, পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক  আশরাফুল ইসলাম শ্যামল , বার্তা সম্পাদক  হুসাইন মালিক, অনুঠানের সাবিক উপস্থাপনায় ছিলেন সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন।
এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সার্বক্ষনিক যারা ব্যস্ত ছিলেন, তারা হলেন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সার্কুলেশন উপদেষ্টা সেলিমুল হাবিব, সার্কুলেশন ম্যানেজার আলমগীর হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি উজ্জল মাসুদ, শহর প্রতিনিধি আফজালুল হক, আনিস হোসেন, বজলুল আলম জীবন, এছাড়া শুভাকাঙ্খী হিসেবে ছিলেন, সুমন পারভেজ,হাবলু,পলাশ, মাভুতসহ আরো  অনেকে।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলার ছয় গুণীজনকে বিভিন্ন  ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। এঁদের মধ্যে রাজনীতি ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য  চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখায় প্রবীন শ্রমিক নেতা নিমাই পদ সিংহ রায়, সুদীর্ঘ ৫০ বছর সুনামের সাথে সাংবাদিকতা করায়  সাংবাদিক মাহাতাব উদ্দীন স্যার , শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখায় অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, ক্রীড়ার প্রসারে অসামান্য অবদানের জন্য সরোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার মধু এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের  জন্য সাহিদ গ্রুপের চেয়ারম্যান হাজী সাহিদুজ্জামান টরিক।
সন্ধ্যায় শহরে আরেক দফা সমীকরণ সদস্যরা ব্যান্ড পার্টিসহ আতশবাজি ফুটিয়ে নেচে গেয়ে শহরের বিশেষ সড়ক প্রদক্ষিন করে। এসময় আতশ বাজির ঝলকানিতে শহরের আকাশ আলোকিত করে তোলে। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ পার্কে সমীকরণ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে স্টার গ্রুপের শিল্পী শান্ত,সাগর ,রিপা, সুমাইয়া। উদীচি শিল্পী  গোষ্ঠীর ফরিদুর রহমান ফরিদ, অতিথি শিল্পী এস আই আব্দুল বারেক, পুলিশ সদস্য সদর উদ্দীন। কবিতা আবৃত্তি করে গাংনি উপজেলার আইরিন আক্তার লিঞ্জা। একক অভিনয় সানোয়ার হোসেন এবং একক নাচ করে সমীকরণের বিক্রয় প্রতিনিধি মাসুদ। সবশেষে সমীকরণ পরিবারের সদস্যরা একসাথে মঞ্চে উঠে সাধের লাউ গান ও বাদ্য যন্ত্রের তালে বহু অঙ্গভঙ্গিমার নাচে মেতে ওঠেন।