বিনোদনপিপাসু হাজারো মানুষের ঢল

31

দর্শনা পারকৃষ্ণপুরে মাথাভাঙ্গা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক : ইউএনও মুনিম লিংকন
ওয়াসিম রয়েল:
দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর ও রামনগর-সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীর শ্মশান ঘাটে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিনোদনপিপাসু হাজারো মানুষ উপস্থিত হন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পারকৃষ্ণপুর গ্রামের প্রত্যয় উন্মুক্ত পাঠাগারের আয়োজনে এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রামবাংলার গান আর বৈঠার ছন্দে মেতে উঠেছিল মাথাভাঙ্গা নদীর ঢেউ। আর সে ছন্দে তাল মিলিয়ে নদীর তীরে হাজার হাজার শিশু-কিশোর-কিশোরী-বয়োবৃদ্ধ নেচে-গেয়ে এ নৌকাবাইচ উপভোগ করেছেন। নৌকাবাইচ শুরুর আগে বিকেল থেকে নদীর পাড়ে মানুষের ভিড় জমতে থাকে।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার আটটি দলের অংশগ্রহণে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার বাছাইপর্ব শুরু হয়। বাছাইপর্বে পাঁচটি দল ফাইনাল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাওয়া দলগুলো হলো পারকৃষ্ণপুর লাল-সবুজ ক্রীড়া সংঘ একাদশ, পারকৃষ্ণপুর একাদশ, চ-িপুর সার্বজনীন দুর্গা পূজাম-প একাদশ, কুড়ুলগাছী একাদশ ও পারকৃষ্ণপুর আধুনিক স্পোর্টিং ক্লাব একাদশ। পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাথাভাঙ্গা নদীর পারকৃষ্ণপুর ও রামনগর-সংলগ্ন শ্মশান ঘাটে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার ফাইনাল শুরু হয়। প্রতিযোগী দলেরা তাদের নানা রঙে রাঙানো নৌকা নিয়ে এ বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে সকাল থেকেই পারকৃষ্ণপুর গ্রামে হাজারো মানুষের ঢল নামে।
টান টান উত্তেজনাকর এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে পারকৃষ্ণপুর লাল-সবুজ ক্রীড়া সংঘ একাদশ, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে পারকৃষ্ণপুর আধুনিক স্পোর্টিং ক্লাব একাদশ এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে যৌথভাবে চ-িপুর সার্বজনীন দুর্গা পূজাম-প একাদশ ও কুড়ুলগাছী একাদশ।
প্রতিযোগিতা শেষে মাথাভাঙ্গা নদী-সংলগ্ন পারকৃষ্ণপুর পার্ক চত্বরে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। সমাজসেবক আয়ুব আলী রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মুনিম লিংকন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এস এম মুনিম লিংকন বলেন, গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ ফিরিয়ে আনতে নৌকাবাইচের বিকল্প নেই। নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। এটাকে জাগ্রত রাখতে হবে। আজকের হাজার হাজার উপস্থিত দর্শকই প্রমাণ করে, এ নৌকাবাইচের কত জনপ্রিয়তা, এসব সংস্কৃতি তুলে ধরলে দেশ থেকে অপসংস্কৃতি দূর হবে। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ সংস্কৃতি অব্যাহত রেখে এ দেশ থেকে জঙ্গিবাদ দূর করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা ও জীবননগর সার্কেল) আবু রাসেল, দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম জাকারিয়া আলম, কুড়ুলগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ এনামুল করীম ইনু, দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহাবুবুর রহমান, ইউপি সদস্য খাইরুল বাসার, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা কামরুজ্জামান যুদ্ধ, টিটো খান, দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আওয়াল হোসেন, প্রত্যয় উন্মুক্ত পাঠাগারের সভাপতি কিতাব আলী, সাধারণ সম্পাদক শাকিল হোসেন, বিপ্লব, রিয়াদ, সাইফুল ইসলাম, নাহিদ জুয়েল ও সাগর।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন আলী আহম্মেদ এবং সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ছাত্রলীগের নেতা মোখলেচুর রহমান। নৌকাবাইচের ফাইনাল খেলা শুরু হওয়ার আগে বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে দর্শনা আনন্দধাম সাংস্কৃতিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা।