বিদায় পৃথিবী লিখে হরিণাকুন্ডুতে দুই বন্ধুর আত্মহত্যা

359

ঝিনাইদহ অফিস: দিনের বেশির ভাগ সময় একসঙ্গে থাকতেন দুই বন্ধু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিপন আর আওয়াল। মৃত্যুও হলো একসঙ্গে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার বাহাদুরপর গ্রামের মাঠে পাওয়া যায় বন্ধুর লাশ। কাছেই ছিল দুটি বিষের বোতল। গ্রামবাসী আর পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তাঁরা একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন। লাশের পাশে একটি চিঠিও পেয়েছে পুলিশ। সেখানে লেখা, ‘বাবা-মাকে কষ্ট দিতে এই দুনিয়ায় আর থাকব না। তাই দুই বন্ধু আত্মহত্যার পথ বেছে নিলাম।’ বিদায় পৃথিবী”। রিপন হোসেন (২৩) ওই গ্রামের গুলবক্স হোসেনের ছেলে। আর আওয়াল হোসেন (২২) একই গ্রামের বিশারত হোসেনের ছেলে। তারা দুজনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে রিপন ২০১৬ সালে জোড়াদহ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন। আওয়াল একই দলের কর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানান হরিণাকুন্ডু উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল রানা। রিপনের বাবা গুলবক্সের বরাত দিয়ে হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আইয়ূবুর রহমান জানান, পারিবারিক এমন কোনো বিরোধ ছিল না যে তারা আত্মহত্যা করতে পারেন। এরপরও কেন তাঁরা এভাবে মারা গেলেন, তা পরিবার দুটি বুঝে উঠতে পারছে না। বাহাদুরপুর গ্রামের সামাজিক দলের নেতা মতিয়ার রহমান জানান, তাঁরা দুজনই খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। সব সময় একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। ছাত্ররাজনীতিও করতেন একসঙ্গে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে তাঁরা দুজনই নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের পাননি। রাতে তারা বাড়ি ফেরেননি। সকালে গ্রামের লোকজন দেখতে পান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে রিপন আর আওয়ালের লাশ পড়ে আছে। হরিণাকুন্ডু থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে দেখি মৃত দুই যুবকের মুখ দিয়ে ফেনা ও লালা বের হয়েছে। পাশে বিষের বোতল পড়ে আছে। এতে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে তারা আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরো জানান, যুবক রিপনের পকেটে একটি সুইসাইডাল নোট পাওয়া গেছে। বাবা মায়ের উদ্দেশ্যে চিরকুটে লেখা আছে, “তোমাদের অনেক জ্বালিয়েছি, কষ্ট দিয়েছি। আর কষ্ট দিতে চাই না। বিদায় পৃথিবী”। জীবনের প্রতি হতাশা ও বেকারত্বের কারণে তারা আত্মহত্যা করতে পারে এমন আশংকার কথাও জানায় পুলিশ। গ্রামবাসি জানায়, ২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় বহিস্কার হওয়ার পর বন্ধু আওয়ালের সাথে ঢাকায় চলে যায় রিপন। আওয়াল এবং রিপন দুই বন্ধু হলেও তারা গ্রাম সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। ঢাকায় সরকারী চাকরী পাওয়ার কথা বলে দুইজনই তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেয়। ঈদে বাড়িতে এসে তারা জানায় তাদের চাকরী হয়নি। চাকরীর নাম করে টাকা নিয়ে পরিবারের কাছে কটু কথা শুনতে হতো। এদিকে খবর পেয়ে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিবার ও গ্রামবাসির সাথে কথা বলেন।