বিএনপি আগামীতে সব নির্বাচনে অংশ নেবে

88

সমীকরণ প্রতিবেদন:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের পর বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। দলীয় সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী দিনে সবপর্যায়ের নির্বাচনেই অংশ নেবে দেশের ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট এই দলটি। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয়নি। বিএনপির নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ রেখে রাতের আঁধারে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। চরম অনিয়মের ওই নির্বাচনের পর সারা দেশের জনগণের মতো ক্ষুব্ধ বিএনপিও আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা সব নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচকভাবেই ভাবছে। মাঠ পুরোপুরি ছেড়ে না দিয়ে গণতন্ত্রের ন্যূনতম স্পেস কাজে লাগানো, নির্বাচন ঘিরে সরকারি দলের ‘দখলদারি’ আচরণের ধারাবাহিকতা উন্মোচন ও নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে আমরা সিটি নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করছি। আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সম্প্রতি শেষ হওয়া ৩ শতাধিক উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, তাদেরও বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু অবস্থান পরিবর্তন করে দলীয় সিদ্ধান্তে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ীরা এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার পর, বিএনপি সবকিছুই নতুন করে ভাবছে। বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে দলটি অংশ নিয়ে জিতেছে। এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে।
বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, নেকাকর্মীদের উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে সব ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তও সঠিক ছিল না। কারণ গণহারে বহিষ্কারের পরেও অনেক তৃণমূল নেতাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে আনা যায়নি। যেহেতু সংগঠনকে শক্তিশালী করে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায়ে আন্দোলনে যেতে হবে, সেহেতু নির্বাচন বর্জন করে সংগঠনকে দুর্বল করার সিদ্ধান্ত আর বিএনপি নিতে চায়না। আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন, নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে সত্যিকারার্থে আরো শক্তিশালী করার সুযোগ পাওয়া যাবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা ভোটারদের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তাদের মধ্যে একটা চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে। অনিয়ম চ্যালেঞ্জ করে শেষ পর্যন্ত এসব নির্বাচনে জয় পেলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। অন্য দিকে সরকারের দখলদারি মানসিকতারও উন্মোচন হবে।
বিএনপির নেতারা বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর সব কিছুই তাদের নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে। হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়া নেতাকর্মীদের ফের সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। মামলা-হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীরা যাতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে সেই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পুরো দলকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। জেলাপর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব আসছে। অঙ্গসংগঠনগুলোতে নতুন কমিটি দেয়া হচ্ছে। এ বছরই হবে দলের সপ্তম কাউন্সিল। যার মধ্য দিয়ে ফের পুরো উদ্যমে জেগে উঠবে বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আপাতত বড় কোনো কর্মসূচিতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই বিএনপির। দল গোছানো শেষ হলে নতুন নির্বাচনের দাবিতে দলটি ধীরে ধীরে মাঠের কর্মসূচিতে নজর দেবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচন বলতে যা বুঝায় তা গত ৩০ ডিসেম্বর হয়নি। অনিয়মের সেই নির্বাচন জনগণ মেনে নেয়নি। তাই মধ্যবর্তী নয় যত দ্রুত সম্ভব আরেকটি জাতীয় নির্বাচন চায় বিএনপি। নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তনে বিশ্বাস করে জাতীয়তাবাদী এই দলটি।