বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা

269

প্রথম দিনে রংপুর, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগ
একই আসনে একাধিক মনোনয়ন
জোটকে কত আসন ঘোষণা দেয়া হয়নি
সমীকরণ ডেস্ক: অধিকাংশ আসনে একাধিক প্রার্থী রেখে ধানের শীষের প্রাথমিক মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র দেয়া শুরু করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার বিকেল থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের দলীয় চিঠি দেয়া শুরু করেছে দলটি। গতকাল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ এই তিনটি আসনের মনোনয়নের চিঠি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হাতে হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে বগুড়া-৬ আসনের মনোনয়নের চিঠি গ্রহণ করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং ৭ আসনের জন্য চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। তাদের হাতে প্রত্যয়নের চিঠি তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দলীয় মনোনয়নের এই প্রত্যয়নপত্রও জমা দিতে হবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিএনপি মোট কতটি আসনে নিজেদের প্রার্থী দিচ্ছে আর কতটি আসন জোট শরিকদের জন্য ছাড়ছে- সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও দেয়নি।
খালেদা জিয়ার মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তরের পর বিকাল চারটা থেকে বরিশাল বিভাগে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেয়া শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যা ছয়টায় রংপুর বিভাগের এবং রাত আটটায় রাজশাহী বিভাগের প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র তুলে দেয়া হয় প্রার্থীদের হাতে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা প্রত্যেকটি আসনে দু’জন করে প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিচ্ছি। কোনো কারণে একজনের না হলে পরেরজন যাতে সুযোগ পান। আর আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যেখানে যারা আছেন, সেখানে তারাই মনোনয়ন পেয়েছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রাথমিক মনোনয়নের ক্ষেত্রে এক আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যায়ন দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতীক বরাদ্দের আগে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। সেখানে যাদের নাম থাকবে, কেবল তারাই শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন, বাকিদের মনোনয়নপত্র বাদ যাবে।
প্রথম দিনে বিএনপির যেসব মনোনয়ন প্রার্থীদের হাতে দলের প্রত্যয়নপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে তারা হলেন-
রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও তৌহিদুল ইসলাম, পঞ্চগড়-২ আসনে জাগপার তাসমিয়া প্রধান জুঁই ও ফরহাদ হোসেন আজাদ। ঠাকুরগাঁও-১ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-২ মো. আবদুস সালাম, জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী তুলা, ঠাকুরগাঁও-৩ জাহিদুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম জিয়া। দিনাজপুর-১ মঞ্জুরুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ চৌধুরী, দিনাজপুর-২ সাদিক রিয়াজ পিনাক ও বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর-৪ হাফিজুর রহমান ও আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫, এজেডএম রেজওয়ানুল হক ও এসএম জাকারিয়া বাচ্চু, দিনাজপুর-৬ মো. লুৎফর রহমান, সাহিদুল ইসলাম শাহীন ও শাহীনুর ইসলাম মন্ডল। নীলফামারী-১ রফিকুল ইসলাম ও ন্যান্সি রহমান কবির, নীলফামারী-২ শামসুজ্জামান জামাল ও কাজী আক্তার জামান, নীলফামারী-৩ ফাহমিদা ফয়সাল কমেট চৌধুরী, লালমনিরহাট-২ সালাউদ্দিন হেলাল, লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু। রংপুর-১ আসনে মোকররম হোসেন সুজন, রংপুর-২ ওয়াহেদুজ্জামান মামুন ও মোজাফফর আলী, রংপুর-৩ মোজাফফর আহমেদ ও রিটা রহমান (পিপিবি), রংপুর-৪ এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৫ সোলায়মান আলম ও ডা. মমতাজ, রংপুর-৬ সাইফুল ইসলাম। কুড়িগ্রাম-১ মো. সাইফুর রহমান রানা ও তার স্ত্রী শামিমা রহমান আপন, আবুল হাসনাত কায়কোবাদ, কুড়িগ্রাম-২ আবু বকর সিদ্দিক ও সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, কুড়িগ্রাম-৩ তাজবিরুল ইসলাম ও আব্দুল খালেক, কুড়িগ্রাম-৪ আজিজুর রহমান ও মোখলেসুর রহমান। গাইবান্ধা-১ খন্দকার জিয়াউল ইসলাম ও মোজাহারুল ইসলাম, গাইবান্ধা-২ টুটুল ও আহাদ আহমেদ, গাইবান্ধা-৩ ডা. সাদিক, গাইবান্ধা-৪ ওবায়দুল হক ও ফারুক আলম, গাইবান্ধা-৫ হাসান ও ফারুক কবীর।
রাজশাহী বিভাগ: এই বিভাগের মধ্যে জয়পুরহাট-১ আসনে ফয়সাল আলিম, জয়পুরহাট-২, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা। বগুড়া-১ মো. শোকরানা, বগুড়া-৪ ডা. জিয়াউল হক মোল্লা, বগুড়া-৫ জি.এম সিরাজ, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ বেগম খালেদা জিয়া। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ মো. শাহজাহান মিয়া ও বেলাল বাকী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আনোয়ারুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ হারুন অর রশিদ ও আবদুল ওয়াহেদ। নওগাঁ-১ সালেক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান ও মাসুদ রানা, নওগাঁ-২ শামসুজ্জোহা খান ও খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, নওগাঁ-৩ রবিউল আলম বুলেট ও পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী, নওগাঁ-৪ শামসুল আলম প্রামাণিক ও একরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ জাহেদুল ইসলাম ধলু ও নাজমুল হক সনি, নওগাঁ-৬ আলমগীর কবির ও শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু। রাজশাহী-১ আসনে ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-২ মিজানুর রহমান মিনু ও সাঈদ হাসান, রাজশাহী-৩ শফিকুল ইসলাম মিলন ও মতিউর রহমান মন্টু, রাজশাহী-৪ আবু হেনা ও মো. আবদুল গফুর, রাজশাহী-৫ নাদিম মোস্তফা, নজরুল মন্ডল, রাজশাহী-৬ আবু সাঈদ চাঁদ ও নুরুজ্জামান খান মানিক। নাটোর-১ তাইফুল ইসলাম টিপু ও কামরুন্নাহার শিরীন, নাটোর-২ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, নাটোর-৩ দাউদার মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন আনু, নাটোর-৪ আব্দুল আজিজ।
সিরাজগঞ্জ-১ কনকচাঁপা ও নাজমুল হাসান রানা, সিরাজগঞ্জ-২ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও রুমানা মাহমুদ, সিরাজগঞ্জ-৩ আইনুল হক ও আব্দুল মান্নান তালুকদার, সিরাজগঞ্জ-৫ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আমিরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৬ এম এ মুহিত ও কামরুদ্দিন ইয়াহিয়া। পাবনা-৫ এড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
বরিশাল বিভাগ: বরিশাল বিভাগের আসনগুলোর মধ্যে বরগুনা-১ আসনে মতিউর রহমান তালুকদার ও নজরুল ইসলাম মোল্লা, বরগুনা-২ খন্দকার মাহবুব হোসেন ও নূরুল ইসলাম মনি। পটুয়াখালী-১ আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ মুনির হোসেন, সুরাইয়া আখতার চৌধুরী, শহীদুল আলম তালুকদার ও সালমা আলম, পটুয়াখালী-৩ আসনে গতকালই বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের মনোনয়ন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মওলা রনি। তার সাথে এই আসনে আরও প্রত্যয়নপত্র পেয়েছেন হাসান মামুন ও মো. শাহজাহান, পটুয়াখালী-৪ এ বি এম মোশাররফ ও মনিরুজ্জামান মুনির। ভোলা-১ আসনে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (জেপি), ভোলা-২ হাফিজ ইব্রাহিম ও রফিকুল ইসলাম মনি, ভোলা-৩ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও কামাল হোসেন, ভোলা-৪ নাজিম উদ্দিন আলম ও নূরুল ইসলাম নয়ন।
বরিশাল জেলার আসনগুলো মধ্যে বরিশাল-১ আসনে জহির উদ্দিন স্বপন ও আবদুস সোবহান, বরিশাল-২ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, শহিদুল হক জামাল, বরিশাল-৩ জয়নুল আবেদিন ও সেলিমা রহমান, বরিশাল-৪ রাজিব আহসান ও মেসবাহ উদ্দিন ফরহাদ, বরিশাল-৫ মজিবর রহমান সরোয়ার ও এমাদুল হক চাঁন, বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান ও রশিদ খান। ঝালকাঠি-১ ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ঝালকাঠি-২ রফিকুল ইসলাম জামাল, ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো ও জেবা আলম। পিরোজপুর-১ ও ২ আসন দুটি জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। পিরোজপুর-৩ রুহুল আমিন দুলাল ও শাহজাহান মিয়া।
নোয়াখালী সাংগঠনিক বিভাগ: ফেনী-১ বেগম খালেদা জিয়া, ফেনী-২ ভিপি জয়নাল আবেদীন, ফেনী-৩ আব্দুল আউয়াল মিন্টু। নোয়াখালী-১ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, নোয়াখালী-২ জয়নাল আবদীন ফারুক, নোয়াখালী-৩, নোয়াখালী-৪ মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজিম। লক্ষীপুর-১ শাহাদাত হোসেন সেলিম (এলডিপি), লক্ষীপুর-২ আবুল খায়ের ভূইয়া, লক্ষীপুর-৩ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, লক্ষীপুর-৪ আশরাফ উদ্দিন নিজাম।
ঢাকা বিভাগ: ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে কয়েকটি আসনে প্রার্থীর হাতে প্রত্যয়নপত্র তুলে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে- ঢাকা-২ আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-৫ নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা-৬ কাজী আবুল বাশার, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা-১৩ আব্দুস সালাম। নরসিংদী-১ খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-২, নরসিংদী-৩ সানাউল্লাহ মিয়া। এছাড়া সিলেট-২ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদী লুনা, চট্টগ্রাম-১৪ কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ (এলডিপি), কুমিল্লা-৭ ড. রেদওয়ান আহমেদ (এলডিপি), মৌলভীবাজার-২ সুলতান মুহাম্মদ মনসুর (ঐক্যফ্রন্ট), ময়মনসিংহ-৪ এজেডএম জাহিদ হোসেন ও আবু ওহাব আকন্দ, মেহেরপুর-১ মাসুদ অরুণ, মেহেরপুর-২ আমজাদ হোসেন, নড়াইল-২ ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (এনপিপি), কুমিল্লা-১ ও ২ আসনে ধানের শীষের টিকেট পেয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।