বাড়ছে মানবপাচার

22

দ্রুত প্রতিরোধের উদ্যোগ নিতে হবে
বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারের ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত মে মাসে অবৈধভাবে ভূমধ্য সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার সময় নৌকাডুবিতে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৭ জনই ছিল বাংলাদেশি। তিউনিশিয়া উপকূলে স্থানীয় জেলে ও কোস্ট গার্ড মিলে যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছিল, তার মধ্যে ১৪ জনই ছিল বাংলাদেশি। গতকাল প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে মেক্সিকোতে আটক হওয়া ৬৫ জনের মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, লিবিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অভিবাসী আটকের যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেখানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ছিল বাংলাদেশিরা। তারা সবাই মানবপাচারকারী বা দালালদের খপ্পরে পড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল। বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বিশ্বে এখন বাংলাদেশ হচ্ছে মানবপাচারের একটি বড় উৎসস্থল। আর এর প্রধান কারণ দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় তরুণরা সহজেই দালালদের খপ্পরে পড়ে যায়। নারী-শিশুরাও ব্যাপকভাবে চোরাচালানের শিকার হয়ে যৌন ব্যবসায় কিংবা ক্রীতদাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ধারণা করা হয়, দক্ষিণ এশিয়া থেকে প্রতিবছর দেড় লাখ মানুষ চোরাচালানের শিকার হয়, যার একটি বড় অংশই যায় বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশের শক্ত প্রতিরোধ না থাকা এবং মানবপাচারের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা দুর্বল হওয়াকেই এর জন্য দায়ী করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ছয় হাজার ১০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শাস্তি হয়েছে মাত্র ২৫ জনের। ২০১২ সালের মানবপাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত হয়নি। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের টায়ার-টু পর্যবেক্ষণ তালিকায় বাংলাদেশকে রাখা হয়েছে। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার সংক্রান্ত আইনের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করে না, তাদেরই এই তালিকায় রাখা হয়। কয়েক বছর আগে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের বেশ কিছু গণকবরও আবিষ্কৃত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দাতব্য সংস্থার তথ্য থেকে জানা যায়, থাইল্যান্ড থেকে শুরু করে আফ্রিকা পর্যন্ত অনেক মানবপাচারকারী সিন্ডিকেট সক্রিয়। বাংলাদেশেও তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে। শুধু পাচার নয়, জালে আটকে নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ও তাদের অবৈধ উপার্জনের একটি বড় কৌশল। মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির মতো অমানবিক অভিযোগও রয়েছে এসব চক্রের বিরুদ্ধে। এমন গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারে এত দুর্বলতা কেন? আমরা মনে করি, দ্রুত মানবপাচারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই ঘৃণ্য অপরাধ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে।