বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলায় সকল অভিযুক্ত খালাস

23

বিশ্ব প্রতিবেদন
ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলায় অভিযুক্ত সকলকেই খালাস দিয়েছে দেশটির আদালত। এ মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন ভারতের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানি, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী, উমা ভারতী ও উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংসহ মোট ৩২ জন। বুধবার উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌ আদালত ষোড়শ শতকে নির্মিত ওই মসজিদটি ভেঙে ফেলার ২৮ বছর পর এই রায় দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিলনা এবং এরসঙ্গে মামলায় অভিযুক্তরা যুক্ত ছিলেননা। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি। খবরে জানানো হয়, অভিযুক্ত ৩২ জনের মধ্যে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ২৬ জন। উপস্থিত ছিলেন না ৯২ বছর বয়সী লালকৃষ্ণ আদভানি ও ৮৬ বছর বয়সী মুরলী মনোহর যোশী। কোভিড নাইন্টিনের আক্রান্ত হওয়ায় উমা ভারতীয়ও আসেননি আদালতে। মসজিদ ভাঙার পর এ মামলার তদন্ত করেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিবিআই। তার ওপর ভিত্তি করে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে ১৭ জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা শুরু করতে ঘন্টাখানেক দেরি হয়ে যায়। আদালতের রায়ে বিচারক সুরেন্দ্রকুমার যাদব বলেন, মসজিদ ভাঙার ঘটনা পরিকল্পিত ছিলনা এবং অভিযুক্তরা বরঞ্চ মসজিদটিকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযুক্তদের ফাঁসানোর চেষ্টাও হয়েছে বলা হয় রায়ে। ২৩০০ পৃষ্ঠার রায়ে আরো বলা হয়, মসজিদ ধ্বংসের সঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও আরএসএসের কোনো স¤পর্ক নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে ধ্বংস হয় বাবরি মসজিদ। সেসময় সমগ্র ভারতজুড়ে আদভানির নেতৃত্বে রথযাত্রা আয়োজিত হয়েছিল। মসজিদ ধ্বংসের সময় সেখান থেকে কাছেই একটি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আদভানি, যোশী ও উমা ভারতী। তারা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উপস্থিত জনতাকে মসজিদ ধ্বংসে প্ররোচিত করেছে এমন অভিযোগ উঠেছিল। তবে আদালতের রায়ে এটিকে অসত্য দাবি বলা হয়েছে। ১৫ শতকে মুঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাকি অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নির্মান করেন। হিন্দুদের দাবি, এটি দেবতা রামের জন্মস্থান। সেখানে পূর্ব থেকেই থাকা রাম মন্দির ধ্বংস করেই এই বাবরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। গবেষণায় মসজিদের নিচে দশম শতকে নির্মিত অমুসলিম স্থাপনার প্রমাণ মিল্লেও তা রাম মন্দিরই ছিল কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়না। মুঘল আমল থেকেই এ নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে বলেও দাবি করেন হিন্দুত্ববাদীরা। পরবর্তীতে বৃটিশরা ভারতবর্ষ শাসন করতে শুরু করলে সেসময় বাবরি মসজিদকে দুইভাগে ভাগ করে সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। একাংশ ছিল হিন্দুদের জন্য, অপর অংশ মুসলিমদের জন্য। ১৮৮৫ সালে ওই ভূমিতে রাম মন্দির স্থাপনের আবেদন নিয়ে আদালতে যান পূজারি মহন্ত রঘুবীর দাস। ১৮৮৬ সালে জেলা বিচারক এফ ই এ চ্যামিয়ের তার আবেদন খারিজ করে দিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। ভারতের স্বাধীনতার পর এই বাবরি মসজিদ হয়ে ওঠে দেশটির রাজনীতির সবথেকে বড় বিতর্কের নাম। ১৯৯২ সালে মসজিদটি ভাঙার পর ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পরে ভয়াবহ ধর্মীয় দাঙ্গা। প্রাণ হারান ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। সর্বশেষ, গত বছরের নভেম্বর মাসে দেশটির হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে মসজিদের স্থানে রাম মন্দির স্থাপনের অনুমতি প্রদান করেন।