বানর ও ইঁদুরে সফল অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন

20

স্বাস্থ্য ডেস্ক:
বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিন তৈরিতে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের গবেষণা চলছে। কয়েকটি দেশে করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষাও করা হয়েছে। বানর ও ইঁদুরের দেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। করোনার ভ্যাকসিন ইনজেকশনের পরিবর্তে ট্যাবলেটের মাধ্যমে মানবদেহে পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। এদিকে, করোনা মহামারী মোকাবেলায় ভ্যাকসিন তৈরিসহ বৈশ্বিক সমন্বয়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। খবর এএফপি, সায়েন্স ফোকাস ও এনডিটিভি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ছয়টি রিসাস মাকাকুইস বানরের শরীরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করেন। এরপর সেগুলোর শরীরে আবার করোনার জীবাণু ব্যাপকভাবে প্রবেশ করানো হয়। তবে বানরের শরীরে করোনা সংক্রমণ ঘটাতে পারেনি বলে তারা প্রমাণ পেয়েছেন। ইঁদুরের শরীরেও ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়। হাফ ডোজ ভ্যাকসিন দেয়ার ১৪ দিনের মধ্যে কয়েকটি ইঁদুরের শরীরে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছিল। ২৮ দিনের মধ্যে সব কটি ইঁদুরের শরীরেই অ্যান্টিবডি তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ফার্মাকোসপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক স্টিফেন ইভান্স বলেন, ফলাফলগুলো খুবই স্পষ্টভাবে একটি সুসংবাদ দিচ্ছে। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধানটি হল ভাইরাল লোড এবং পরবর্তী নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকারিতার সংমিশ্রণ। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, এ ফলাফল মানুষের মধ্যে একইভাবে প্রতিফলিত হবে কি না, তা জানা যায়নি। তবে এগুলো দেখে উৎসাহিত হওয়াই যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে মানবদেহে টেস্ট শুরু হচ্ছে: ট্যাবলেটের মাধ্যমে মানবদেহে করোনা ভ্যাকসিন পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিউনোলজিস্টরা। চার মাসের বেশি সময় গবেষণার পর আট সদস্যের একটি দল ইনজেকশনের পরিবর্তে ট্যাবলেটে করার অভিনব চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। ইমিউনোলজিস্ট শন টকার বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ল্যাবে কিছু ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু জুলাইয়ের শুরুতে মানবদেহে পরীক্ষা করা হবে। ভ্যাকসার্টের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা টকার (৫২) বলেন, এ বছরের শেষের দিকে বা সামনের বছরের প্রথমে মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
ভ্যাকসিন নিয়ে বিল গেটস ও মোদির আলোচনা
করোনা ভ্যাকসিন তৈরি করাসহ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি বিল গেটস। গত বৃহস্পতিবার এক ভিডিও কনফারেন্সে তাদের আলোচনার কথা টুইটারে নিশ্চিত করেছেন নরেন্দ্র মোদি। টুইটে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, করোনা নিরাময়ের জন্য ভ্যাকসিন তৈরি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিল গেটস টুইটারে লেখেন, বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা হল। তাকে ধন্যবাদ জানাই এ আলোচনা ও করোনা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের জন্য। টিকা তৈরি, চিকিৎসা ব্যবস্থা সবকিছুতেই ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। করোনার টিকা গোটা বিশ্বকে একযোগে দেয়ার প্রতিশ্রুতি সানোফির : করোনার টিকা সারা বিশ্বে একযোগে পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফ্রান্সের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি সানোফি। বৃহস্পতিবার সানোফির সিইও পল হাডসন জানান, করোনার টিকা কোনো দেশে আগে বা কোনো দেশে পরে দেয়া হবে না। তিনি জানান, তাদের বেশ কয়েকটি উৎপাদনশীল সংগঠন রয়েছে। ৩২টি দেশে ৭৩টি শিল্প পরিচালনা করে সানোফি।
কানাডায় চীনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় দফা ক্লিনিক্যাল টেস্ট: চীনা কোম্পানির ভ্যাকসিন পরীক্ষা এবং উৎপাদন দ্রুততর করতে চীনা কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি করেছে কানাডা। এর আগে বেশ কিছুদিন ধরেই চীনে এটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের পর এর ক্ষতিকর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।