বাকসংযম সাফল্যের মন্ত্র

28

ধর্ম ডেস্ক
প্রয়োজনের বেশি কথা না বলা সবসময়ই নিরাপদ। বেশি কথার চেয়ে যারা কম কথা বলেন তারা কাজ করেন বেশি। কাজের মানুষরা অহেতুক কথা বলেন না। জ্ঞানীরা বাকসংযমী হওয়ার পরামর্শ দেন। বেশি কথা বললে বেশি ভুল হয়। বাচাল প্রকৃতির লোক ব্যক্তিত্বহীন, তাদের সমাজের কেউ পছন্দ করে না। ইসলামের চোখেও বাকসংযমী লোকেরা পছন্দনীয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করে সে যেন বললে ভালো কথা বলে, আর তা না হলে যেন চুপ থাকে।’ হাদিসে আছে, ‘যদি কেউ দুটি অঙ্গের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে পারে তবে আমি তার জান্নাতের দায়িত্ব নিতে পারি, একটি হলো জিহ্বা; অন্যটি হলো লজ্জাস্থান।’ অতিকথন মাত্রই সমূহ বিপত্তির সম্ভাবনা। এ জন্য রাসুলের (সা.) নির্দেশনা হলো, ‘যে নীরব থাকল সে বেঁচে গেল।’ জিহ্বা আল্লাহতায়ালার অন্যতম নিয়ামত। বিভিন্ন বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করা ও মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে জিহ্বা দান করেছেন। জিহ্বা বা মুখের ব্যবহার থেকেই বুঝে নেয়া যায়, কোন ব্যক্তি কতটা বুদ্ধিমান অথবা নির্বোধ। কে কতটা সভ্য অথবা অসভ্য। এই জিহ্বার অযাচিত ব্যবহারের ফলেই অনেককে হতে হয় বিপন্ন অথবা লাঞ্ছিত। এই জিহ্বার অপব্যবহারের কারণেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে অনেক মানুষকে। আল্লাহতায়ালা ও তার রাসুল (সা.) জিহ্বাকে সর্বাবস্থায় হেফাজত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখের হেফাজতের ব্যাপারে অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। মানুষের মুখের কথা খুবই স্পর্শকাতর। যা ইচ্ছে তাই বলে ফেলা একজন মুমিনের আচরণ হতে পারে না বরং প্রতিটি কথাই হিসাব করে বলা উচিত। আমাদের সমাজে জবানের হেফাজতকে একটি তুচ্ছ বিষয় বলে মনে করা হয়। খুব কম মানুষই রয়েছেন যারা বিষয়টির প্রতি যথার্থ গুরুত্বারোপ করেন। অথচ আমরা যা বলছি প্রতিটি কথা হুবহু রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে। আমাদের কাঁধে থাকা দুই ফেরেশতা এগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখছেন। এর সব রেকর্ড একদিন আল্লাহর দরবারে হাজির করা হবে। মুমিনকে প্রতিটি কথা বলার আগে ভাবতে হবে, এর কারণে আমাকে আল্লাহর কাঠগড়ায় জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে নাতো! আমরা সবাই কথা বলায় সংযমী হলে সমাজের অনেক বিশৃঙ্খলা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত কমে যাবে। এজন্য সবার উচিত ভেবেচিন্তে কথা বলা। প্রয়োজনের বেশি কথা বলা থেকে বিরত থাকাই হলো উত্তম।