বাংলাদেশ নিয়ে অপপ্রচার

39

প্রিয়া সাহার বক্তব্যের যথাযথ তদন্ত হোক
এরা কারা? এদের উদ্দেশ্য কী? কেন তারা রক্তে কেনা বাংলাদেশ নিয়ে এভাবে অপপ্রচারে নেমেছে? সংগত কারণেই প্রশ্নগুলো সামনে এসে যায়। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, প্রিয়া সাহা নামে এক নারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার আবেদন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্মেলনের প্রতিনিধিদের সামনে হোয়াইট হাউসে প্রিয়া সাহা বলেন, এরই মধ্যে তিন কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু ‘ডিস-অ্যাপেয়ার্ড’ বা নিখোঁজ হয়ে গেছে। এখন যে এক কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু আছে, তাদের রক্ষায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান। বাংলাদেশে আমরা কি তেমন কোনো পরিস্থিতি দেখছি? গত শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার প্রিয়া সাহার বক্তব্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, আট মাস ধরে তিনি বাংলাদেশে আছেন, তাঁর দেখা মতে, আন্তর্র্ধমীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ হতে পারে। তাহলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা কিসের ভিত্তিতে ও কেন হোয়াইট হাউসে এমন বক্তব্য দিলেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। নানা ধরনের অপপ্রচারও চলছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিয়ে অপপ্রচার তারই অংশ। কয়েক দশক আগের অস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে কিছু টিভি চ্যানেলে বলা হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘নীরব হত্যাযজ্ঞ’ চলছে। জম্মু জনগণের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে তথা রাষ্ট্রকে। প্রিয়া সাহার দাবি অনুযায়ী ৩৭ মিলিয়ন বা তিন কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু নিখোঁজ হয়েছে এবং এক কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু অস্তিত্ব সংকটে আছে। বাংলাদেশ সৃষ্টির সময় এ দেশে তিন কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু ছিল কি? ১৯৭০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ১৯ থেকে ২০ শতাংশ। সে সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে সাত কোটি। তাতে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল দেড় কোটির মতো। তাহলে এই বিপুলসংখ্যক নিখোঁজের ঘটনা কবে, কখন ঘটল, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে? জানা যায়, প্রিয়া সাহা ‘শারি’ নামে একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক এবং ‘দলিত কণ্ঠ’ নামের একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। তার অর্থ তিনি ছোটখাটো কেউ নন, দেশে ও বিদেশে তাঁর ভালো যোগাযোগ এবং শক্ত ভিত্তি থাকার কথা। তিনি নিশ্চয়ই তাঁর বক্তব্যের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। রাষ্ট্রকে অবশ্যই সেই ব্যাখ্যা শুনতে হবে এবং জনগণকে তা জানাতে হবে। বাংলাদেশ নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক খেলা কম হচ্ছে না। আর তাতে মদদ দিচ্ছে স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী। বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গাদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছিল, তখন সীমান্ত খুলে দেওয়ার দাবিতে কিছু এনজিওসহ এই শ্রেণিটি উঠেপড়ে লেগেছিল। একই ঘটনা দেখেছি পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের মিথ্যা অভিযোগের সময়। অঙ্গলি হেলনে ঝাঁপিয়ে পড়াদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। প্রিয়া সাহার বক্তব্যের ভিত্তি ও উদ্দেশ্য জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।