বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আটক ১৫৯

70
ভারতে এনআরসি আতঙ্ক: মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে শত শত ভারতীয় নারী-পুরুষের
সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে : ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল কামরুল আহসান
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ভারতের এনআরসি আতঙ্কে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে ভারতীয় বাঙালিরা। মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশের জন্য ভারতের সীমানায় অপেক্ষা করছে শত শত নারী-পুরুষ। এদিকে গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১৫৯ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে বিজিবি। বিজিবি ও থানা সূত্র জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে মহেশপুর উপজেলার জলুলী, পলিয়ানপুর, খোসালপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অনুপ্রবেশের সময় ৫১ জন শিশু, ৪৭ জন পুরুষ ও ৬১ জন নারীসহ মোট ১৫৯ জনকে আটক করেছে ৫৮ বিজিবির আওতাধীন বিওপি ক্যাম্প। আটককৃতদের ঝিনাইদহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আটককৃতরা অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রাদায়ের মানুষ। এ ব্যাপারে ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল কামরুল আহসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভারতে মাইগ্রেশন হয়ে যাওয়া লোকজনের বসবাসের অসুবিধার কারণে তারা আবার বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে। গত এক সপ্তাহে শিশু সহ ১৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে আরও ৪০জন আটক ছিল।’
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, যা ধরা পড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশী লোক বিভিন্নভাবে দেশের ভেতরে প্রবেশ করেছে। ভারত থেকে বাংলাদেশের এক নাগরিক সম্প্রতি দেশে ফিরে এসে বলেন, দালালরা শত শত নারী পুরুষ সীমান্তে জড়ো করে রেখেছে। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে না। ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক আরও জানান, তারা সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।
মহেশপুর থানার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতরা ভারতের আসাম ও ব্যাঙ্গালুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিল। সম্প্রতি ভারতের নাগরিকপঞ্জির(এনআরসি) কারণে সেখানে তাদের বসবাসে অসুবিধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।
আটককৃত ভারতীয় বাঙালিদের দাবি, ,তাদের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল অঞ্চলে ছিল। বিগত এক-তিন দশক আগে ভারতে পাড়ি জমিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিল। সেখানে ভারতের একটি বিশেষ বাহিনী বিভিন্ন অযুহাতে তাদের আটক ও নির্যাতন করার কারণে তারা বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে।