বাংলাদেশের গনতন্ত্র এখন কোন পথে-?

1118

মানুষ সামাজিক জীব। এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে পাচটি মূল উপাদান তা বাধাগ্রস্থ হয় যদি গনতন্ত্র ব্যহত হয়। মানুষের মৌলিক অধিকার খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা ,চিকিৎসা, বাসস্থান যখন অনুপুস্থিত হয় তখন মানুষ ঝুকে পড়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতর চরম অবনতি ঘটে। ।

আইনের শাসন বিঘ্নিত হলে মানুষের অধিকার সংকোচিত হয় যার ফলে ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয় সাধারন মানুষ । আজকের জঙ্গিবাদ এক দিনের সৃষ্টি নয়। ধাপে ধাপে তাদের উথ্থান ঘটেছে। গনতন্ত্র বিকাসের জন্য যে সমস্ত পদক্ষেপ জরুরী সে গুলো কে পাশ কাটিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকিয়ে নানা ফন্দিফিকির আকা হয় তখনই মৃর্তু হয় একটি সত্যিকারের গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার।

এমন কি গনতন্ত্র পরিচ্ছন্নতা পর্যন্ত পায়না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বরিশালের সচেতন নাগরীক কমিটি (সনাক) এর সাবেক সভাপতি প্রফেসর এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গনতন্ত্র হচ্ছে আমাদের মুক্তিযোদ্ধের প্রধান মত। আমরা পাকিস্তানীদের হাতে যে নিষ্পেষিত হয়েছি তা থেকে মুক্তির অপর নাম গনতন্ত্র। গনতন্ত্র মানে জনগনের হাতে আসল ÿমতা থাকবে। জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিরা সংবিধান কে সম্মান করে তারা কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক।

সেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সু-শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এখন আমাদের দেশে যে ক্রাইসেস চলছে তাতে সবাই কে এক কাতারে সামিল হয়ে কাজ করতে হবে। এ মুর্হুতে আমি মনে করি বর্তমান সরকার সস্ত্রাস রোধে যে ব্যবস্থা গ্রহন করেছে তার সাথে আমাদের সবার জনস্বার্থে ও প্রগতির স্বার্থে সরকার কে সমর্থন দিয়ে চলা উচিৎ। এই মূহুৃতে জাতীয়তার স্বার্থে আমাদের ঐক্যের প্রয়োজন।

এরই ধারাবাহিকতায় গনতন্ত্র ব্যহত হলে মানুষের মধ্যে হতাসা বিরাজ করে কথা বলার ক্ষমতা লোভ পায়। মানুষ ণির্ভয়ে মতামত প্রকাশ করতে না পারলে রাষ্ট্রে একটি চরম নৈরাজ্য বিরাজ করে। সমাজের সকল অপশক্তি তখন দানা বেধে ওঠে। যা আজ বর্হিবিশ্বে দৃশ্যমান। পেছনে তাকালে দেখা যায় বৃটিশ উপনিবিশ শাসনামল থেকে আজ অব্দি মানুষ তার অধিকার আদায়ে সব সমই সোচ্চার ছিল। যার প্রতিফলন বাংলাদেশে কয়েকবার ঘটেছিল। আবার কখনো কখনো তা দমিয়ে রাখা হয়েছে।

যখন যে সরকার ÿমতায় ছিল তখন সে সরকারের পদলেহনকারী কিছু সংখ্যক অসাধূ ব্যক্তিরাই গনতন্ত্র কে বিপদাগামী করে তুলেছে। ইংরেজ বেনিয়া শাষনামল থেকে পাক আমল পর্যন্ত এ দেশের সাধারন মানুষ কে বার বার কোন ঠাসা করে রাখা হয়েছে। বৃটিশদের দুইশত বছরের গোলামীর পর ৭১ এ বাঙ্গালী চেতনায় ফিরে ৯ মাসের রক্তÿয়ী সংর্ঘষের পর যুদ্ধ শেষে একটি নতুন পতাকা ও রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। কিন্তু বহু ত্যাগের সেই স্বাধীনতার চেতনা যেন আষ্টেপৃষ্ঠে বিলিন হয়ে যায় ১৫ ই আগষ্ট কালো রাত্রি জাতীরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্ব-পরিবারে হত্যার পর গনতন্ত্রে একদলীয় শাসনামলের অবসান ঘটে। দেশ হারায় সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী এক মহান নেতা ও রাজনৈতীক ব্যক্তিত্ব কে।

আলাপকালে বরিশালের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্ক্ষ হানিফ বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে এত মানুষের রক্তের বিনিময় স্বাধীনতা আসেনি যা বাংলাদেশে এসেছে। এই স্বাধীনতা কে রÿা করার জন্য সর্বস্তরের লোকজন কে একত্রে কাজ করে যেতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধে দেশবাসীকে আহব্বান জানাচ্ছি। জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশে নয় এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর বিরুদ্ধে আমাদের সবাই কে সরকারের সাথে এক যোগে রুখে দাড়াতে হবে। বাংলাদেশে যে গনতন্ত্র বর্তমান সরকারের অধীনে তা উল্টো পথে নেই কিন্তু চলার পথে কিছু বাধা আছে। সরকারকে সবাই সঠিক পথ দেখাচ্ছে না বা সহযোগীতা করছেনা। ফলে কঠিন পথে এগুচ্ছে। যে লÿে আমরা মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহন করেছি আশা করি তা বাস্তবায়ন হবে। আমরা সঠিক পথেই এগুছি আমাদের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে অসুবিধা হবেনা। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সবার সোচ্চার হতে হবে।

আলাপকালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রবীন রাজনৈতীক ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস হোসেন বলেন, এদেশে যারা গনতন্ত্রের বা জাতীয়তার কথা বলে তারা তাতে বিশ্বাসী নয়। এদেশের স্বাধীনতায় তারা বিশ্বাসী নয় । তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে। ৭৫- আর ২০১৬ এক নয় এখন বাংলাদেশ অনেক স্বয়ংসর্ম্পূন। কাজেই অপ-শক্তি যতই চেষ্টা করুক গনতন্ত্র ভাংগতে পারবেনা। গনতন্ত্র অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।

সামপ্রতিক জঙ্গি সমস্যায় কিছু ভালো পরিবারের কু-সন্তানদের বাছাই করে ওরা জঙ্গি তৈরী করে সমস্যা করছে কিন্তু ইসলাম তো শান্তির ধর্ম। কাজেই তারা চেস্টা করছে যেমন নির্বাচনের সময় এ সব অপ-শক্তি দেখা যায় কিন্তু তারা গনতন্ত্রের কিছুই করতে পারবেনা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সচেতন আছেন

একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায় এ দেশে বহু দলীয় গনতন্ত্রের প্রবর্তন শুরু করেন তৎকালীন সেনা প্রধান মেজর জিয়াউর রহমান। বহু চরাই উৎরাই গড়িয়ে ৯০ এর গনঅভ্যুথ্থানের পরে স্বৈরাচার এরশাদ সরকার পতনের মধ্য দিয়ে গনতন্ত্র ফিরে পায় এদেশের মানুষ। আসলে আজ ও কি গনতন্ত্রে প্রকৃত স্বাদ পেয়েছে ১৬ কোটি বাঙ্গালী-? গনতন্ত্র যেন তারকাটায় আটকা পড়ে আছে। গনতন্ত্র নামক সরকারের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা সব সময়ই বন্দী ছিল।

News:  primenewsbd