বাংলাদেশের আজ বিশ্বকাপ শুরু

75

সমীকরণ প্রতিবেদন:
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ঢাকে কাঠি পড়েছে আগেই। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের উত্তেজনার শেষ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবারের শিরোপা কার হাতে উঠবে এ নিয়ে চলছে অহর্নিশ যুক্তিতর্ক। এরই মধ্যে ময়দানের লড়াই এগিয়ে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে চলতি আসরের চতুর্থ দিনে নিজেদের বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে মাশরাফির বাহিনী। প্রথম ম্যাচেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি বাংলাদেশ। লন্ডনের ওভালে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় দল দুটি একে অপরের মুখোমুখি হবে। তবে বিশ্বকাপে নামার আগে বাংলাদেশের দুর্ভাবনা বাড়াচ্ছে ইনজুরি। ফিটনেসের জন্য লড়াই করছেন দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই। নতুন করে চোটের মিছিলে যোগ হয়েছেন দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। গত শুক্রবার ওভালে ব্যাটিং অনুশীলনের সময় বাম হাতের কব্জির নিচে বলের আঘাত পান তামিম। আজকের ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে সুখবর পাওয়া গেছে এক্স-রে রিপোর্টে। কোনো চিড় ধরা পড়েনি তামিম ইকবালের হাতে। ঊরুর ব্যাথার কারণে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলতে পারেননি তামিম। তার জায়গায় সৌম্য সরকারের সঙ্গী হিসেবে ইনিংস উদ্বোধন করেন লিটন কুমার দাস।
বাংলাদেশ শিবিরে ইনজুরির তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ভুগছেন অধিনায়ক মাশরাফি। শুক্রবার অনুশীলনও করেননি টাইগার অধিনায়ক। অনুশীলন করেননি পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন আহমেদও। পুরো ফিটনেস পেতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান ও মাহমুদুউলস্নাহ। চোটের সঙ্গে লড়াইরত সাকিব আল হাসান ও রুবেল হোসেনও দলের হয়ে নিয়মিত খেলতে পারছেন না। ত্রিদেশীয় সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ নিয়ে বিশ্বকাপ মিশনে নামা বাংলাদেশের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইনজুরি। এদিকে, বিশ্বকাপের মূল পর্বের লড়াইয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গো-হারা হারার পর তেঁতে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির। অধিনায়ক ফ্যাফ ডু পেস্নসির নেতৃত্বে প্রোটিয়া বাহিনী আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় দিয়েই লড়াইয়ে ফিরতে চাইবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ১০৪ রানে হেরেছিল তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটা তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দলটির জন্য। কারণ ৫ জুন প্রোটিয়াদের তৃতীয় ম্যাচটি বিশ্বকাপের আরেক ফেবারিট দল ভারতের বিপক্ষে। বাংলাদেশের শুভ সূচনা তাই দলটির জন্য দুঃসংবাদ। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ স্টিভ রোডস দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ম্যাচটা কঠিন হবে নিঃসন্দেহে। ছেলেরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। দারুণ হবে যদি বাংলাদেশ তাদের চাপে ফেলতে পারে।’ বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ, তার বিশ্বকাপ অভিষেক। বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে দর্শকদের জন্যও বার্তা দিলেন রোডস, ‘আশা করছি দারুণ টুর্নামেন্ট হবে। তবে আমাদের দর্শকদের অবশ্যই একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। আমরা হয়তো খুব টাইট কোনো ম্যাচ হেরে যাব, আবার কিছু জিতব। তবে সেরাটাই দিতে চাইব আমরা।’
বিশ্বকাপের আগেই হয়তো এমন সম্ভাবনার কথা ভেবে রেখেছিলেন ডু পেস্নসি! মিট দ্য ক্যাপ্টেনস অনুষ্ঠানে মাশরাফি বিন মর্তুজা এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো শুরু করবে এমন আশাবাদ শুনিয়েছিলেন। সঞ্চালক এ নিয়ে ডু পেস্নসিকে জিজ্ঞেস করতেই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বলেছিলেন, আশা করি সেটা হবে না! বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই। ইংল্যান্ডের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগারদের বিপক্ষে তাই আরও সতর্ক ডু পেস্নসির প্রোটিয়া বাহিনী। প্রথম ম্যাচে যেসব ভুল করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে তার সবই শোধরাতে চান। তিনি বলেন, ‘খেলার তিনটি বিভাগেই ইংল্যান্ড আমাদের চেয়ে ভালো ছিল। ওরা দেখিয়ে দিয়েছে কেন ওরা ভালো ক্রিকেট দল। কিন্তু এবার এটা লিগ প্রতিযোগিতা। আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে যতই হতাশ হই না কেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এ ভুলগুলো থেকে যেন দ্রম্নত শিখতে পারি। কারণ পরে আরেকটি ম্যাচ আছে এবং আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন আমরা আবার ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।’ স্বপ্নের চূড়া ছোঁয়ার দুঃসাহস নিয়ে এবার বিশ্বকাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কাজটা কঠিন। ভীষণ কঠিন। আছে অনেক সীমাবদ্ধতা। পেরুতে হবে অনেক বন্ধুর পথ। তবু বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। স্বপ্নের আগে অবশ্য আছে লক্ষ্য। অন্তত সেরা চারে থাকা। সহজ নয় সেটিও। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবার টুর্নামেন্টের ফরম্যাট।
অনেককে চমকে দিয়েই ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। আরও বিস্ময় উপহার দিয়ে সেমিফাইনালে খেলেছে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তবে ওই দুবারই ফরম্যাট ছিল চমক দেয়ার জন্য তুলনামূলক অনেক সহজ। গ্রম্নপ পর্বে একটি-দুটি জয়, অন্য ম্যাচের ফল পক্ষে আসা মিলিয়ে ধরা দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। কিন্তু বিশ্বকাপে এবার ১০ দল খেলবে পরস্পরের সঙ্গে। ভিন্ন ভিন্ন উইকেটে ভিন্ন শক্তি ও সামর্থ্যের প্রতিপক্ষ সামলানো, নানা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়া, প্রতিটি ধাপেই অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ। দলের বড় শক্তি একই সঙ্গে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতা। গড় বয়সের হিসেবে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম তরুণ দল বাংলাদেশ। আবার ম্যাচ খেলার বিবেচনায় সবচেয়ে অভিজ্ঞ দলগুলোর একটি। একই দলে দুটির সমন্বয় যথেষ্টই বিরল। বাংলাদেশ দলে এটি সম্ভব হয়েছে, কারণ দলের মূল ক্রিকেটাররা সেই ১৮-১৯ বছর বয়স থেকে একসঙ্গে খেলছেন। অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে দলকে পরের স্তরে নিয়ে যেতে পেরেছেন। চেষ্টা করছেন আরও ওপরে তুলতে। দলের চার ক্রিকেটারের এটি চতুর্থ বিশ্বকাপ, আরও দুজনের তৃতীয় বিশ্বকাপ।
অপরদিকে, বর্ণবাদের দায়ে প্রথম চার আসরে খেলা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। তারপর থেকে প্রতিটি আসরে তারা ছিল অন্যতম ফেভারিট। তবে বিধিবাম; প্রায় প্রতিবারই বিদায় নিতে হয় দুর্ভাগ্যের খাড়ায় কাটা পড়ে। ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নক আউট পর্বে জয় পাওয়া দলটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যায় সেমি-ফাইনালে। ১৯৯২ আসর দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেক হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে কখনো দুর্ভাগ্য, কখনো পাগলামি, কখনো নির্বুদ্ধিতায় বিদায় নিতে হয় তাদের। চাপের মুখে বারবার ভেঙে পড়ায় জুটেছে ‘চোকার্স’ তকমা।