বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইংল্যান্ড

224

b2cca40cf630378eb585575db522398c-

বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইংল্যান্ড
শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশ : রাজনৈতিকভাবে আরও ঘনিষ্ঠ হতে চায় যুক্তরাজ্য
সমীকরণ ডেস্ক: ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে যাওয়ার পর দেশটিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকারের সুবিধা চায় বাংলাদেশ। এটাকে বিবেচনায় রেখে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে সম্মতি জানিয়েছে লন্ডন। মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য প্রথম স্ট্র্যাটেজিক সংলাপে বসেছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি স্যার সাইমন ম্যাকডোনাল্ড। ব্রেক্সিট পরবর্তী যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা হয় তাদের মধ্যে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আর দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের জন্য ভিসা ব্যবস্থা সহজীকরণের বিষয়েও কথা বলেছেন তারা। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা জানি, ধারাবহিকভাবে এখনকার মতো সুবিধা পেতে চায় বাংলাদেশ। এটাই ছিল আমাদের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি নিশ্চিত করছি, সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা সুদৃঢ় করবে লন্ডন। ইউরোপের বাইরে ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়ে আমরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন।’ জানা গেছে, বুধবার (২৯ মার্চ) ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক পত্র দেবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। আগামী দুই বছরের মধ্যে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্য পুরোপুরি বেরিয়ে যাবে বলে মঙ্গলবার আলোচনায় উল্লেখ করেন সাইমন ম্যাকডোনাল্ড। এদিন সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি। এ সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেওয়া একটি চিঠিও হস্তান্তর করেন তিনি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকার বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন থেরেসা মে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান তিনি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্রও মঙ্গলবার সকালে মাহমুদ আলির কাছে হস্তান্তর করেন সাইমন ম্যাকডোনাল্ড। দীর্ঘদিন পর যুক্তরাজ্যের কোনও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। স্ট্র্যাটেজিক সংলাপ শেষ হওয়ার পর এতে অংশগ্রহণকারী একজন কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের শেষভাগে এই সফর হতে পারে। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে আরও ঘনিষ্ঠ হতে চায় যুক্তরাজ্য। ফলে আগামীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাত্রা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা-বাংলাদেশ থেকে কার্গো চলাচলের ওপর গত বছর যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য একটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়ে সময়সীমা বেঁধে কাজ করা হবে বলে মঙ্গলবার স্ট্র্যাটেজিক সংলাপে আলোচনার পর একমত হয়েছে দুই পক্ষ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বিমানবন্দরের বর্তমান অবস্থা জানার জন্য একটি যৌথ কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে এবং তারপর কোথায় কোথায় আরও উন্নতি দরকার তা ঠিক করে নিষেধাজ্ঞা উত্তোলনের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। এ প্রস্তাবে যুক্তরাজ্যও রাজি।’
ভিসা ব্যবস্থা সহজীকরণ-যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ হয়ে থাকে ভারতে। আর যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য সব কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণ হয় সেই দেশেই। তবে মঙ্গলবারের বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষকে জানানো হয়, এখন থেকে সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়াকরণের কাজ যুক্তরাজ্যে সম্পাদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সেন্টার ঢাকায় নিয়ে আসার প্রস্তাব দিলে তারা জানায় গোটা ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে শুধু যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা যুক্ত এবং তারা গোটা প্রক্রিয়াটি যুক্তরাজ্যে সরিয়ে নিচ্ছেন। যদি কোনও বাংলাদেশির জরুরি ভিত্তিতে ভিসা প্রয়োজন হয় তাহলে তিন-পাঁচ দিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’