বর্জ্যে বিপর্যয়ের ঝুঁকি

18

শঙ্কা দূর করতে ব্যবস্থা নিন
করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে মানুষের মধ্যে শুচিতাবিষয়ক সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বেড়েছে। সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের প্রবণতাও বেড়েছে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বর্জ্য, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ করোনাবর্জ্য জমছে সারা দেশে। শুধু রাজধানীতেই প্রতি মাসে ছয় হাজার মেট্রিক টনের বেশি করোনাবর্জ্য জমছে। এর কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মিশে পরিবেশ-প্রতিবেশ দূষিত করছে এসব বর্জ্য। এতে স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরই নির্দেশনা দিয়েছে, সংক্রমণ প্রতিরোধে সাবান-পানি দিয়ে দিনে কয়েকবার হাত ধুতে হবে, হাতে স্যানিটাইজার (বিশোধক) মাখতে হবে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে এবং অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। ফলে এসব সামগ্রী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং এসবের ব্যবহার বেড়ে যায়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিভিন্ন সুরক্ষাসামগ্রীও ব্যবহার করছে মানুষ। এই সুরক্ষাসামগ্রীর একটি বড় অংশ রাস্তাঘাটে বা উন্মুক্ত জায়গায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ বাড়িতে আলাদাভাবে করোনাবর্জ্য জমা রাখলেও বর্জ্য সংগ্রহকারীরা অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে এগুলো মিশিয়ে পরিবহন ও ডাম্পিং করছে। সচেতন বা অবহিত না থাকার কারণে এসব বর্জ্য থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। করোনাবর্জ্য বিষয়ে রাজধানীতে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সংগঠন ‘নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ (এনসিসিবি)’। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় দিনে গড়ে ২০৬.২১৭ মেট্রিক টন করোনাবর্জ্য তৈরি হচ্ছে মাসওয়ারি হিসাবে গড়ে ছয় হাজার ১৮৬.৫১ মেট্রিক টন। অথচ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৬১.১ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহকারীর এই বর্জ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। জরিপে দেখা গেছে, ৪৯.১ শতাংশ পরিবার করোনাবর্জ্য আলাদা ঝুড়িতে রাখে। কিন্তু সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এই বর্জ্য সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলছে বর্জ্য সংগ্রহকারীরা। আবার অনেকে দুই বর্জ্য আলাদা রাখার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত নয়। যেসব করোনা সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তাতে প্রচুর প্লাস্টিকজাতীয় দ্রব্য থাকে, যাতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত করোনাভাইরাস টিকে থাকতে পারে। এগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থা কার্যকর নির্দেশনা দেয়নি বলে ৫৫.৬ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহকারী জানিয়েছে। অনেকে নির্দেশনা পেয়েও করোনাবর্জ্য আলাদা করে না। যথারীতি পরিবেশদূষণ ঘটছে। করোনাবর্জ্যকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় নিতে হবে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসাবর্জ্য বিষয়ক বিধিমালা ও আইন সংশোধন করতে হবে।