বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বাংলাদেশের জন্য নতুন মাইলফলক

114

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ছাত্রলীগের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধনকালে এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ) উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগ। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ মাঠে এ খেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ খেলার উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা এ দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি। তাঁর ডাকেই সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিউবার বিল্পবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন, আমি হিমালয় দেখেনি, বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন বঙ্গবন্ধুকে। প্রকৃতপক্ষেই বঙ্গবন্ধু এমন একজন নেতা। তিনি বিশ্বের নেতা। তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আজকে গ্রাম থেকে শুরু করে সব জায়গায় উন্নয়ন হচ্ছে। আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর এ জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশের জন্য নতুন মাইলফলক তৈরি করছে। যদি চুয়াডাঙ্গার দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাচ্ছি খেলাধুলার জন্য বিশাল বড় একটি স্টেডিয়াম আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চারিদিকে খেয়াল আছে। উন্নয়নের ব্যাপারে কোনো তুলনা নেই তাঁর।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমাদেরকে খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। যুবক ছেলেদের মাঠে আসতে হবে। ছাত্রলীগের আয়োজনে এ খেলার মাধ্যমে নতুন কিছুর সূচনা করতে হবে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজি আলী আজগর টগর। এ সময় তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা একটি লাল সবুজ পতাকা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ আমাদের গড়তে হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মুজিববর্ষে শপথ নিতে হবে, এ দেশকে আমরা সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। আমাদেরকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে হবে। তাঁর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি পড়তে হবে। আমি স্পষ্ট করে বলতে পারি, যেই পড়বে, তাঁর চোখ দিয়েই পানি পড়বে। আমাদের জন্য তিনি যে কঠিন কষ্ট স্বীকার করেছেন, তা সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা বলে থাকি এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাওয়ার তাঁর শ্রেষ্ঠ সময়। এখানে ছাত্রলীগের যারা আছে, সবাইরই এখন যৌবন। এখন সবার কাজ করার সময়, জীবন যুদ্ধে যাওয়ার সময়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন, সুখী-সমৃদ্ধ একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ার। সেই সোনার বাংলা গঠনে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ স্লোগানে এগিয়ে যাচ্ছেন। ভিশন ২০৪১ নামে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছেন। সেখানে এই তারুণ্যের শক্তিটাকে এক নম্বরে রাখা হয়েছে। এ তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকার বিভিন্ন সিরিজ প্রোগ্রাম থ্রো করেছে। ছাত্রলীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা তারই অংশ হিসেবে এ আয়োজন করেছে। আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ইতিহাস মনে রাখা একটি বিষয়। বঙ্গবন্ধু দেশের সম্পদ, জাতীয় সম্পদ, বিশ্বের নেতা। তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে। আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি আন্তজার্তিক পরিমন্ডলের একজন নেতা।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজেও বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ আমাদের জন্য নতুন এক দিগন্ত। এ বছরকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন যেমন একধাপ এগিয়ে গেল, তেমনি আরও এগিয়ে নেওয়ার কাজ করতে হবে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম সাইফুর রশিদ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, মাসুদুজ্জামান লিটু, সাবেক পিপি অ্যাড. সামসুজ্জোহা, মদনা ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলম, জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা রেডক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সাহান, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন হেলা, চুয়াডাঙ্গা ডিএফ-এর সভাপতি রফিকুল ইসলাম লাড্ডু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম, জেলা দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান নুরু ও জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাহাবুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন জেলা বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল। অনুষ্ঠানে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে পুলিশ সুপার বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ের একটি কপি উপহার প্রদান করেন। বইটি এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন ছাত্রলীগ সভাপতির হাতে তুলে দেন। পরে অতিথিরা ব্যাটিং ও বোলিং করে খেলার উদ্বোধন করেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ খেলার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনে।