ফারুকের মুখে তাঁর নায়িকাদের কথা

214

বিনোদন ডেস্ক: এফডিসির শিল্পী সমিতিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন চিত্রনায়িকা রোজিনা ও ফারুক। পাশাপাশি বসে তাঁরা দুজন মুঠোফোনে কী যেন দেখছিলেন। কিছুক্ষণ পর হেসে ওঠেন। কী এমন দেখছেন, কেনইবা এভাবে হেসে উঠছেন জানতে চাইলে ফারুক প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমাদের সিনেমার গান দেখছিলাম। দেখে সে সময়কার অনেক স্মৃতি উঁকিও দিচ্ছে। তাই এভাবে হেসে উঠেছি।’ কথা প্রসঙ্গে ফারুক জানান, দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি অনেক নায়িকার সঙ্গে অভিনয় করেছেন। কারও সঙ্গে তাঁর জুটি গড়ে ওঠেনি। তবে তিনি নিজে থেকেও জুটি গড়ে তুলতে চাইতেন না। তা ছাড়া তিনি জুটি প্রথায় বিশ্বাস করতেন না। ১৯৬৮ সালে ‘জলছবি’ সিনেমার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে নাম লেখান ফারুক। তবে ছোটবেলা থেকে তাঁর ইচ্ছে ছিল রাজনীতিবিদ হবেন। বাবা আজগার হোসেন পাঠান চেয়েছিলেন ছেলেকে আইনজীবী বানাতে। শেষ পর্যন্ত কোনোটাই হয়ে ওঠেনি তাঁর। তিনি হয়ে যান সিনেমার নায়ক। ষাটের দশকে অভিনয় শুরু করা ফারুকের অভিনয়জীবন ৪৯ বছর পার হতে চলল। এই দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি অনেক নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করেছেন। এঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে নিয়ে বলেছেন কিছু কথা। ফারুকের মতে, একসঙ্গে অভিনয় করতে গেলে নায়িকার সঙ্গে নায়কের প্রেম হবেই। যদিও এই কথাটা অনেকেই স্বীকার করতে চাইবেন না এবং প্রকাশ্যে বলবেনও না। আমি তা বলে দিলাম। তিনি বলেন, ‘প্রেম না হলে একটা মেয়ে আর ছেলের সম্পর্ক ওভাবে পর্দায় কখনোই দেখানো সম্ভব না। তবে এই সম্পর্কের মধ্যে শ্রদ্ধাও থাকে, বন্ধুত্বও থাকে। অনেকের সঙ্গে অভিনয় করেছি, তবে সবচেয়ে কম সিনেমায় অভিনয় করেছি ববিতার সঙ্গে। বেশি করেছি রোজিনার সঙ্গে। এমনকি নূতনের সঙ্গেও অভিনয় করেছি। শবনমও একটি সিনেমায় ছিলেন আমার নায়িকা। যদিও তিনি আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়। তারপরও তাঁর সঙ্গে রোমান্টিক সিনেমায় অভিনয় করেছি। আমি স্ক্রিনে এলে সুচরিতার সঙ্গে যেমন মানিয়ে যেত, তেমনি রোজিনার সঙ্গে মানাত।’ দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একজন নায়িকার সঙ্গে ফারুকের পর্দায় রসায়ন ভালো হয়নি। ফারুক বলেন, ‘শাবানার সঙ্গে আমার পর্দা রসায়ন জমত না। তাঁর সঙ্গে আর্টিফিশিয়াল পারফরম্যান্স মনে হতো। তবে “সখী তুমি কার” সিনেমায় আমরা ভিন্নভাবে এসেছিলাম। ত্রিভুজ প্রেমের সেই সিনেমায় রাজ্জাক সাহেবও ছিলেন। স্ক্রিনে আমার কেন জানি মনে হয়েছে, আমার সঙ্গে ববিতা-রোজিনাকে বেশি মানিয়ে যেত। আবার কবরীকে যখন মানাত তখন তা ছিল একবারেই ভিন্ন।’