পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলাচর্চার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

24

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনূর্ধ্ব-১৭-এর (বালক-বালিকা) চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ে ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত (বালিকা) ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় দামুড়হুদা উপজেলা বালিকা ও আলমডাঙ্গা উপজেলা বালিকা দল। নির্ধারিত সময়ে ফাগুন ও বেবীর পা থেকে দুটি গোল নিয়ে আলমডাঙ্গাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে দামুড়হুদা উপজেলা দল। এ ছাড়া টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হয় রানার্সআপ দলের অধিনায়ক বিদিশা, ম্যান অব দ্য ফাইনাল ফাগুন ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার লাভ করে চ্যাম্পিয়ন দলের দলনায়ক বেবী। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়াহ্ ইয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, এনডিসি সিব্বির আহমেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাইরুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আহামেদ প্রমুখ। দামুড়হুদা উপজেলা দলের কোচ ছিলেন শিপন ও ওমর ফারুক এবং ম্যানেজার ছিলেন এম নুরুন্নবী।
এদিকে, বিকেল পাঁচটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক) ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বালক বিভাগে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ২-০ গোলে দামুড়হুদা উপজেলা দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পৌরসভার পক্ষে গোল দুটি করে সাকিব ও পুলক। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায় চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু সব খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দলের ম্যানেজার ছিলেন মাহাবুল ইসলাম সেলিম ও কোচ ছিলেন মিলন বিশ্বাস। বালক বিভাগে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রানার্সআপ দামুড়হুদা দলের দলনায়ক মিঠু, ম্যান অব দ্য ফাইনাল চ্যাম্পিয়ন দলের সাকিব ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার লাভ করে একই দলের পুলক।
বালকদের খেলা শেষে সন্ধ্যায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ পর্বের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন ও চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার উভয় দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত আদর্শ যুবসমাজ গড়ে তুলতে সুস্থ ধারার খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি বালক টিম ও পাঁচটি বালিকা টিম থেকে বাছাই করা খেলোয়াড়দের নিয়ে দুটি টিম (বালক-বালিকা) গঠন করা হবে। এ দুটি টিম খুলনা বিভাগে গিয়ে চুয়াডাঙ্গার জেলার প্রতিনিধিত্ব করবে। আমরা সবাই চাইব, চুয়াডাঙ্গার দুটি টিমই যেন ভালো ফলাফল বয়ে নিয়ে আসতে পারে। তবে পরবর্তী সময়েও পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার চর্চা থাকতে হবে সব সময়। সন্তানেরা খেলার মাঠে ব্যস্ত থাকলে বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।’
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের এনডিসি সিব্বির আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক শওকত আলী বিশ্বাস, ডিএফএর সভাপতি রফিকুল ইসলাম, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুন্সী রেজাউল করিম খোকনসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থা, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও চুয়াডাঙ্গা ডিএফএর নির্বাহী সদস্যরা। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়াহ্ ইয়া খান। ফাইনাল ম্যাচ দুটি পরিচালনা করেন রবিউল ইসলাম রবি, মাসুদুর রহমান খোকন, রেজাউল হক রেজা, লিটা হোসেন ও রিয়ান আহম্মেদ এবং ম্যাচ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃতী ফুটবলার মাহমুদুল হক লিটন ও জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সেলিনা খাতুন।