প্রাথমিকে কমেছে সোয়া দুই লাখ শিক্ষার্থী

40

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দেশের তিনটি বিভাগের ১৪ জেলায় শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন ল-ভ-, তখন আগামী রোববার থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। প্রাথমিকে এবার ২৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৬৭ জন ছাত্রছাত্রী অংশ নিচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৬১৫ জন শিক্ষার্থী কম। ইবতেদায়িতে অংশ নেবে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৭১ জন। গতবারের তুলনায় ৩০ হাজার ৯৮৩ জন পরীক্ষার্থী বেড়েছে এখানে। এবারের সমাপনীতে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৪ জন বেশি। আগামী রোববার (১৭ নভেম্বর) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়ে এ পরীক্ষা চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।
প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন বলেন, দেশে জন্মহার কমার কারণে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমেছে। সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ২০১৫ সাল থেকেই শিক্ষার্থী কমা শুরু হয়েছে। এখন সারা দেশে প্রাথমিকে ভর্তির হার ৯৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে, দেশের কোথাও কোনো শিশু ভর্তির বাইরে নেই। তবে সচিব স্বীকার করেন, প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার এখনও ১৮ শতাংশ। এটি আগামীতে এক অংকে নেমে আসবে।
প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমলেও ইবতেদায়িতে কিভাবে বাড়ছে? তার ব্যাখ্যায় প্রতিমন্ত্রী ও সচিব বলেন, সামাজিক বাস্তবতায় ইবতেদায়িতে শিক্ষার্থী বেড়েছে। মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা স্বাস্থ্য ও পরিবার সম্পর্কে সচেতন নন। এটিই মূল কারণ। গতকাল দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন উপরিউক্ত কথা বলেন। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করার পদ্ধতি মন্ত্রণালয় বার বার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সচিব বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এক উপজেলার খাতা অন্য উপজেলার শিক্ষকদের দ্বারা মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখানে শিক্ষকদের নীতি-নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। অধিক স্বচ্ছতার স্বার্থেই এটি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে পরীক্ষা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি উল্লেখ করে সচিব আকরাম আল হোসেন স্বীকার করেন, দেশের তিনটি বিভাগ খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রামের আংশিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুরো চিত্র ও পরিসংখ্যান পাওয়ার পর সেখানে দ্রুত বরাদ্দ দেয়া হবে মেরামতের জন্য। যাদের বইপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের বই-খাতা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের। সমাপনী পরীক্ষা সারা দেশে সর্বমোট সাত হাজার ৪৭০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে সাত হাজার ৪৫৮টি এবং দেশের বাইরে আটটি দেশে ১২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। দেশের বাইরে সৌদি আরবে চারটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুটি এবং বাহরাইন, ওমান, কুয়েত, লিবিয়া, গ্রিস ও কাতারে একটি করে কেন্দ্র রয়েছে। বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬১৫ জন।
প্রাথমিক সমাপনীর সূচি :
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ১৭ নভেম্বর ইংরেজি, ১৮ নভেম্বর বাংলা, ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ২০ নভেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২১ নভেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং ২৪ নভেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ইবতেদায়ি সমাপনীর সূচি :
ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীতে ১৭ নভেম্বর ইংরেজি, ১৮ নভেম্বর বাংলা, ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান, ২০ নভেম্বর আরবি, ২১ নভেম্বর কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং ২৪ নভেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০মিনিটে শুরু হয়ে বেলা ১টায় শেষ হবে।