প্রমোদতরীর ‘নোংরা বিলাসিতা’

179

বিস্ময় ডেস্ক: বিলাসিতা ক্ষতিকর হলে সে বিলাসিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। বিলাসবহুল প্রমোদতরীগুলোর পরিবেশ ধ্বংসকারী আচরণের জন্য পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অনেক দিন ধরেই সতর্ক করে আসছে। পরিবেশ ধ্বংসকারী সমুদ্রভ্রমণ: এনএবিইউ, সংক্ষেপে নাবু নামে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা একটি জার্মান সংস্থা ২০১৭ সালে বিশ্বের ৭৭টি প্রমোদতরীর উপর একটি গবেষণা করে। গবেষণালব্ধ তথ্য বলছে, ৭৭ টির মধ্যে ৭৬ টি প্রমোদতরীই তীব্র বিষাক্ত জ্বালানি ব্যবহার করে। এ জাহাজগুলোর পরিবেশ বিধ্বংসী আচরণের ভয়াবহতা উল্লেখ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি প্রমোদতরী পাঁচশ’টি গাড়ির সমান পরিমান পরিবেশ দূষণ করে। একমাত্র ব্যতিক্রম: গবেষণা করা ৭৭টি জাহাজের মধ্যে ব্যতিক্রম পাওয়া গেছে মাত্র একটিতে। এইডানোভা নামের এ জাহাজটি জ্বালানি হিসাবে কিছুটা কম ক্ষতিকর এলএনজি ব্যবহার করে। প্রমোদতরী শিল্পে নতুন যোগ হওয়া এ জাহাজটি ‘মায়ার শিপইয়ার্ড’ নামে একটি জার্মান কোম্পানির তৈরি। এরকম আরো নতুন ছয়টি জাহাজ শিগগিরই বাজারে আসবে বলে জানা গেছে। একটু কম ক্ষতিকর যারা: টুই ক্রুজেস ও হাপাগ-লয়েড ক্রুজেস কোম্পানির তৈরি প্রমোদতরীগুলো কিছুটা কম ক্ষতিকর। বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই কোম্পানির তৈরি জাহাজগুলো নাইট্রিক অক্সাইডের ব্যবহার কমিয়ে আনে। তাদের জাহাজগুলোর তীরে নোঙ্গর করা অবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করার সক্ষমতাও রয়েছে। নেই জ্বালানি পরিশোধক: অনেক জাহাজেই ডিজেল বা ধোঁয়া ফিল্টারিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ভয়ানক বিষয় হলো, জাহাজের ডেকের বাতাসে সূক্ষকণার ঘনত্ব একটি ব্যস্ততম রাস্তার বাতাসে বিদ্যমান সূক্ষকণার ঘনত্বের চেয়ে ২০ গুন পর্যন্ত বেশি হতে পারে। নির্মল বাতাস: ডেক থেকে তীরে: এইডানোভা’র পরিবেশবান্ধব উপায়ে সীসা নিঃসরণকারী নতুন প্রযুক্তির প্রশংসা করেছে নাবু নামের সংস্থাটি। তারা বলছে, অন্যান্য প্রমোদতরীগুলোরও জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করা উচিত। এতে করে উপকুলীয় অঞ্চলের বায়ুমন্ডল নিরাপদ থাকবে। এলএনজি’ই শেষকথা নয়: প্রমোদতরীগুলোতে জ্বালানি হিসেবে এলএনজির ব্যবহারই পরিবেশ রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। যানবাহন ও পরিবেশ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, প্রমোদতরীগুলোর পরিবেশ বিধ্বংসী আচরণ ঠেকাতে প্রয়োজন লাগসই ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।