প্রবাসী কর্মীরা ফিরছেন

13

নতুন বাজার খুঁজে বের করুন
একসময় জনশক্তি রপ্তানি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় উপাদান ছিল। দেশের অর্থনীতির চাকা সক্রিয় ও সচল রাখতে এখনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। একসময় মালয়েশিয়ায় ‘জি-টু-জি’ অর্থাৎ সরকারের সঙ্গে সরকারের বোঝাপড়ার ভিত্তিতে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে। কিন্তু এর বাইরেও অনেকে অবৈধ পথে বিভিন্ন দেশে গিয়েছে। অনেকে বৈধ পথে বিদেশে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের পর অবৈধ হয়ে পড়েছে। প্রবাসে শ্রম বিক্রি করতে যাওয়া জনশক্তির একটি বড় অংশ অদক্ষ। আমরা দক্ষ জনশক্তি সেভাবে বিদেশে পাঠাতে পারিনি। আবার বিদেশের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে পারিনি। ফলে আমাদের পাঠানো জনশক্তির একটি বড় অংশ যে অর্থ খরচ করে বিদেশে যায়, তাদের বিনিয়োগ তুলতেই চুক্তির সময় চলে যায়। বাধ্য হয়েই অনেকে বেছে নেয় অবৈধ পথ। আবার অসৎ ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে অনেকেই অবৈধ পথে পা বাড়িয়ে সেখানে গিয়ে ধরা পড়ে। অনেকেই মানবপাচারের শিকার হয়। গত কয়েক দিন যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচার বিষয়ে যে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাতে যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা ভাবনার বিষয়। অন্যদিকে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে সৌদি আরব থেকে কর্মীদের ফিরে আসার খবরটি। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি ছিল বাংলাদেশের জনশক্তির সবচেয়ে বড় বাজার। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রগ্রামের সূত্রে গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিককে সৌদি আরব থেকে ফেরত আসতে হয়েছে। ফেরত আসা শ্রমিকদের সূত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সেখানে প্রতিদিনই ধরপাকড় চলছে। গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে শ্রমিকদের মধ্যে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সৌদি সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে একটি সমঝোতায় আসার চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে কাজের অনুমতিপত্র বা আকামা থাকার পরও ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে হবে। বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারলে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।