প্রবাসী আয় হ্রাস : অর্থ প্রেরণ সহজ হোক

216

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে; কিন্তু কমেছে প্রবাসী আয়। ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) কমেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০১৭ সালে প্রবাসী আয় এসেছে ১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রবাসী আয় কমার কারণগুলো সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিং ও হুন্ডির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মীদের আয় কমে যাওয়ার কারণে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ভাটা পড়েছে। বৈধ পথ ছেড়ে অবৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশে আসার আরও একটি কারণ, কম খরচে উপার্জনকারীরা অর্থ পাঠাতে পারছেন। বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকেরই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নেই, সংশ্লিষ্টদের দাবি এমনটি। বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী ‘বিকাশ’, ‘রকেট’, ‘মোবিক্যাশ’, ‘ইউক্যাশ’ ইত্যাদির মাধ্যমে দেশে আয় পাঠানোর ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মতো মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও রয়েছে- তা জানা গেছে প্রবাসী কর্মীদের মাধ্যমেই। কিন্তু এসব সংস্থাও দাবি করে, দেশের বাইরে তাদের কোনো শাখা নেই। এসব সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে কম খরচে দ্রুততম সময়ে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ দেশে পৌঁছে যায়। প্রেরণকারীদের বক্তব্য হচ্ছে, এসব এজেন্টের মাধ্যমে দেশে যেমন দ্রুত অর্থ পৌঁছে, তেমনি গ্রহীতাদের ভোগান্তিও কম হয়। তারা ব্যাংকে না গিয়ে এজেন্টের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে থাকেন। এই অবৈধ পথ বন্ধ করতে ব্যাংকের যেমন সেবার মনোন্নয়নে অধিকতর দৃষ্টি দিতে হবে, তেমনি কম খরচে যাতে প্রেরণকারীরা তাদের আয় পাঠাতে পারেন, তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের রিজার্ভের যেহেতু একটি বড় অংশ আসে প্রবাসী আয় থেকে, সেহেতু অবৈধ পথে তা আসার হার হ্রাস পেলে রিজার্ভ সঙ্গতই কমবে। কাজেই প্রবাসীদের আয় পাঠানোর পদ্ধতি সহজ করার পাশাপাশি প্রেরণের চার্জ কমানো দরকার। প্রেরণকারীদের নানারকম প্রণোদনা দিয়ে বৈধ পথটি প্রশস্ত করার ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে দৃষ্টি দিতে হবে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের দিকেও। কারণ অদক্ষ জনশক্তির আয়ও কম।