প্রতীক বরাদ্দ ৩০ ডিসেম্বর : ভোট ১৬ জানুয়ারি

56

মেহেরপুরের গাংনীসহ ৬১ পৌরসভার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দ্বিতীয় ধাপে মেহেরপুরের গাংনীসহ ৬১টি পৌরসভায় ভোট হবে ১৬ জানুয়ারি। এর মধ্যে ২৯টি পৌরসভায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ও ৩২ পৌরসভায় ব্যালটে ভোট হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশন পৌরসভার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ২০ ডিসেম্বর, বাছাই ২২ ডিসেম্বর, প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ৩০ ডিসেম্বর। ভোট হবে ১৬ জানুয়ারি।
ইভিএমের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক জেলায় যাতে ইভিএম এবং ব্যালট থাকে। ২টাই যেন পাশাপাশি থাকে। এমন যেন না হয় যে, সব ইভিএম বা সব ব্যালটে ভোট। আর ইভিএম দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক সুবিধা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। তিন শতাধিক পৌরসভার মধ্যে আরও প্রায় ১৭০ পৌরসভা ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। গত রবিবার ৭৩তম কমিশন সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার চার ধাপে পৌর নির্বাচন করতে চায় কমিশন। ইতিমধ্যে প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভায় ইভিএমে ২৮ ডিসেম্বর ভোট হবে। জানুয়ারির শেষ দিকে তৃতীয় ও মধ্য ফেব্রুয়ারির চতুর্থ ধাপের ভোট হবে। সময়মতো তফসিল দেবে ইসি। দেশের পৌরসভা রয়েছে মোট ৩২৯টি। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই পৌরসভার ভোট করতে হয়। স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর ২০১৫ সালে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয় পৌরসভায়। সেবার ২০টি দল ভোটে অংশ নেয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ২৪ নভেম্বর পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৩৬ দিন সময় দিয়ে ভোটের তারিখ দেওয়া হয় ৩০ ডিসেম্বর। এক দিনে ভোট হয় ২৩৪টি পৌরসভায়। বাকিগুলোয় মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বিবেচনায় ও বিভিন্ন জটিলতা সেরে ভোট হয়।
দ্বিতীয় ধাপে যে ৬১টি পৌরসভায় ভোট হবে সেগুলো হলো- চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর (ইভিএম), সিরাজগঞ্জ সদর, উল্লাপাড়া, বেলকুচি ও রায়গঞ্জ। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও কেন্দুয়া (ইভিএম)। কুষ্টিয়ার কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা, মিরপুর ও কুমারখালী (ইভিএম)। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জের তারাব (ইভিএম)। শরীয়তপুরের শরীয়তপুর (ইভিএম)। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী। গাইবান্ধার গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ। দিনাজপুরের দিনাজপুর সদর, বিরামপুর ও বীরগঞ্জ (ইভিএম)। মাগুরার মাগুরা সদর (ইভিএম)। ঢাকার সাভার (ইভিএম)। নওগাঁর নজিপুর (ইভিএম)। পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর (ইভিএম), সাঁথিয়া, ঈশ্বরদী ও সুজানগর। রাজশাহীর কাঁকনহাট (ইভিএম), আড়ানী (ইভিএম) ও ভবানীগঞ্জ। সুনামগঞ্জের সুনামগঞ্জ, ছাতক ও জগন্নাথপুর (ইভিএম)। হবিগঞ্জের মাধবপুর ও নবীগঞ্জ। ফরিদপুরের বোয়ালমারী। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া (ইভিএম)। নাটোরের নলডাঙ্গা (ইভিএম), গুরুদাসপুর ও গোপালপুর। বগুড়ার সারিয়াকান্দি (ইভিএম), সান্তাহার (ইভিএম) ও শেরপুর। পিরোজপুরের পিরোজপুর (ইভিএম)। মেহেরপুরের গাংনী (ইভিএম)। ঝিনাইদহের শৈলকুপা (ইভিএম)। খাগড়াছড়ি (ইভিএম)। বান্দরবানের লামা। নীলফামারীর সৈয়দপুর (ইভিএম)। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি (ইভিএম)। কুমিল্লার চান্দিনা (ইভিএম)। ফেনীর দাগনভূঞা (ইভিএম)। কিশোরগঞ্জের কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর (ইভিএম)। নরসিংদীর মনোহরদী (ইভিএম)। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা। নোয়াখালীর বসুরহার (ইভিএম) ও বাগেরহাটের মোংলাপোর্ট (ইভিএম)।
প্রথম ধাপের পৌরসভায় তিন পদে আগ্রহী ১৩৩৩ জন :
প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১ হাজার ৩৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২৮ ডিসেম্বর ভোট হবে ইভিএমে। মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। বাছাই শেষে প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে ১০ ডিসেম্বর। ইসি কর্মকর্তারা জানান, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে প্রথম ধাপের পৌরসভাগুলোয় মেয়র পদে ১১২ জন, সংরক্ষিত নারী আসনে ২৮৩ এবং সাধারণ বা কাউন্সিলর পদে ৯৩৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।