প্রতিবেশী দাদার সঙ্গে নাতনীর অনৈতিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৩

42

দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার বেগমপুরে প্রতিবেশী দাদার সঙ্গে নাতনীর অনৈতিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দাদার পরিবারের এক নারীসহ তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রাম্য বিচার সালিশের আয়োজন করা হলেও একপক্ষ হাজির না হওয়ায় ভেস্তে গেছে বিচার-সালিশ।
জানা গেছে, গত বুধবার বেলা ১১টার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ডিহি কৃষ্ণপুর ডাক্তার পাড়ার নাতনীর ডাকে বাড়িতে কেউ না থাকায় প্রবেশ করেন প্রতিবেশী দাদা মধু (৬০)। তিনি বাড়িতে ঢুকে নাতনীর সঙ্গে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। তাঁদের এ অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিবেশী এক নারী দেখে ফেলেন। পরে নাতনীর পরিবারের লোকজন বাড়িতে এলে প্রত্যক্ষদর্শী ওই নারী ঘটনাটি তাঁর পরিবারকে জানিয়ে দেয়। এ কথা জানালে রায়হানসহ তাঁর পরিবারের লোকজন ওই দিন সন্ধ্যায় প্রতিবেশী মধুর বাড়িতে যায়। বাড়িতে মধুকে না পেয়ে নাতনীর পরিবারের লোকজন বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানায়। এ ঘটনা নিয়ে দুই পরিবার ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পরে। একপর্যায় উভয়ের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা শান্ত হলেও ঘটনাটি রায়হান তাঁর বড় জামাই চুয়াডাঙ্গা গাইদঘাট এলাকার সাদ্দামকে জানায়। এ কথা শুনে ওইদিন রাত ১১টার দিকে ৪-৫ জন সাঙ্গপাঙ্গকে সঙ্গে নিয়ে সাদ্দাম তাঁর শ্বশুর বাড়ি ডিহি কৃষ্ণপুর ডাক্তার পাড়ায় প্রবেশ করেন। এরপর সাদ্দামের শ্বশুর বাড়ির লোকজনসহ সাঙ্গপাঙ্গদেরকে সঙ্গে নিয়ে মধুর বাড়ি প্রবেশ করে পরিবারের লোকজনের ওপর দেশীয় লাঠি দিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে মধুর ছেলে বদরকে (২৫) বেদম মারধর শুরু করেন তাঁরা। তাঁর মারধর ঠেকাতে গিয়ে বদরের মা, ভাবীসহ পরিবারের তিনজন আহত হন। এতে করে হামলার শিকার হয়ে বদর মারাত্মকভাবে আহত হন।
এ ঘটনায় বদরের পরিবারের লোকজন গ্রাম্য মাতব্বরদের স্মরণাপণ্ন হলে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিচার-সালিশের আয়োজন করে। কিন্তু রায়হানসহ তাঁর পরিবারের লোকজন বিচার-সালিশে হাজির না হওয়ায় ভেস্তে যায় গ্রাম্য বিচার-সালিশ বৈঠক। তবে বদরের পরিবার আইনি আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে অভিযুক্ত রায়হানের গ্যাঙের বিরুদ্ধে।