প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার আদায়ে বৈশ্বিক পদক্ষেপ আমরা ঘন্টা বাজাই’ একই সময়ে ঘন্টাধ্বনী বাজিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করলো বাংলাদেশের শিশুরা

228

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার আদায়ে বৈশ্বিক পদক্ষেপ
আমরা ঘন্টা বাজাই’
একই সময়ে ঘন্টাধ্বনী বাজিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করলো বাংলাদেশের শিশুরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গাসহ সারা বাংলাদেশের শিশুরা একযোগে এক মিনিট ধরে ঘন্টা বাজিয়ে সকল প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষার অধিকার আদায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলো নীতি নির্ধারক ও দেশবাসীর। আমরা ঘন্টা বাজাই নামক বিশ্বব্যাপী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ও অ-প্রতিবন্ধী শিশুরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘন্টা, ঢোল, বাদ্যযন্ত্র এমনকি থালা বাসনে আওয়াজ তুলে প্রতীকী এ কর্মসূচী পালন করেছে। জানাগেছে নেদারল্যান্ড ভিত্তিক লিলিয়ান ফাউন্ডেশন ও ডিআরআরএ এর সহযোগিতায় প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে গতকাল বেলা ১২টা থেকে ১২টা এক মিনিটের এই কর্মসূচিতে সারাবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এবারও চুয়াডাঙ্গায় ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও ঝিনুক বিদ্যাপীঠ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নীতি নির্ধারক ও দেশবাসীকে  প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষার অধিকার আদায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ঘন্টা বাজাতে প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেব প্রসাদ পাল। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মধ্যামিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল্লা আল সামি, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কনসালটেন্ট, ডা: মো: সেলিম রেজা, ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা, সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, ঝিনুক বিদ্যাপীঠ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হাবিল হোসেন জোয়ার্দ্দার, প্রধান শিক্ষক শেফালী খাতুন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রত্যাশার সমন্বয়কারী সাইদুর রহমান, আরিফুর রহমান, শারমিন খাতুন প্রমুখ। প্রতিবন্ধী ও সাধারণ স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের আঙ্গিনায় একত্রিত হয়ে ১ মিনিটব্যাপি বেল ও ড্রাম বাজিয়ে অসাধারণ ভাবে কোলাহল তৈরী করেছে। এই কর্মসূচীর মাধ্যমে তারা প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয় গমনে প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে সকল প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য নীতি-নির্ধারক ও সংশ্লিষ্ঠদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। একই সময়ে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী আমরা ঘন্টা বাজাই’ নামক এই ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেছে। যে সমস্ত প্রতিবন্ধী শিশু স্কুলে যেতে পারেনা তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অন্য সকল প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধী নয় এমন সকল শিশু, তাদের শিক্ষক, অভিভাবক মিলে এ কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ঠ নীতি নির্ধারন কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষন করলো। চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও ঝিনুক বিদ্যাপীঠ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর বারোটা থেকে বারোটা এক মিনিট পর্যন্ত একযোগে ঘন্টাধ্বনী বাজালো চুয়াডাঙ্গার শিশুরা। এদিকে বক্তরা বলেন প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষায় সহায়তা প্রদান ও সকলকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সারা বিশ্বে এ বিষয়ে সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। এসব স্কুল প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আক্ষরিক ও চরিত্র গতভাবে আরও বেশি প্রবেশগম্য হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ যেন প্রতিবন্ধী শিশুদের চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং শিক্ষা যে প্রতিবন্ধী শিশুরও মৌলিক অধিকার সেটা যেন সকলে অনুধাবন করে।