প্রতিদিন ১২ লক্ষাধিক টাকার লোকসান বাস মালিকদের

110

চুয়াডাঙ্গায় নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে আন্দোলনে শ্রমিকরা
বিশেষ প্রতিবেদক:
নানা জল্পনা-কল্পনার পরে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস হলেও রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরেনি মোটেও। মোটরসাইকেল চালক-আরোহীরা হেলমেট ব্যবহারসহ কিছুটা আইন মানলেও বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহন, পথচারী পারাপারের চিত্র তেমন বদলায়নি। বাসগুলোয় ধরা পড়েছে চিরাচরিত সব অনিয়ম। নতুন আইন কার্যকর করতে না করতেই চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছে পরিবহন সংশ্লিষ্ট চালক-শ্রমিকরা। আজ টানা তৃতীয় দিনের মতো চলছে পরিবহন ধর্মঘট। আর এতে লোকসানের মুখোমুখি হয়েছেন বাস-ট্রাক মালিকরা। শ্রমিকেরা কাজে না আসায় প্রতিদিন শিডিউল বিপর্যয়ে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বাস-মিনিবাস ও দূরপাল্লার বাস মালিকদের।
পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, যেভাবে আইন করা হয়েছে, তাতে তাঁদের পক্ষে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। এদিকে, নতুন সড়ক পরিবহন আইনের জামিন অযোগ্য ধারা পরিবহন চালক-সঙ্কট বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন মালিকেরা। নতুন আইনকে স্বাগত জানালেও সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি জামিন অযোগ্য ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নিতে ২১ ও ২২ নভেম্বর ঢাকাতে মালিক-শ্রমিকদের সমন্বয়ে যৌথ সভা আহ্বান করা হয়েছে।
এদিকে, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল মঙ্গলবার যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন করেছেন চুয়াডাঙ্গার শ্রমিকরা। টার্মিনালসহ বিভিন্ন অস্থায়ী বাস ডিপোতে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় আঞ্চলিক রুটের বাসগুলোকে। দূরপাল্লার বাসগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভোর বেলায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছায়। এরপর সকাল সাতটার পর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি বাস আটকে চুয়াডাঙ্গায় ফেরত পাঠায় ঝিনাইদহের শ্রমিকেরা। এরপর থেকে টার্মিনাল, বাসস্ট্যান্ড, কাউন্টারগুলোতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয়েছে যাত্রীদের।
চুয়াডাঙ্গার পূর্বাশা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন রুটে ৪৫টি বাস ছেড়ে যায় চুয়াডাঙ্গা থেকে। কিন্তু আন্দোলনের কারণে গাড়ি নিয়ে ট্রিপে যেতে চাচ্ছেন না শ্রমিকেরা। ফলে আগাম টিকিট নেওয়া যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়াসহ প্রায় সব বাসের শিডিউল বাতিল করতে হচ্ছে। এতে পূর্বাশা পরিবহনকে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স কাউন্টার মাস্টার ইলিয়াস হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ৩৭জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস ছেড়ে গেলে সেটি ঝিনাইদহ টার্মিনালে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে পড়ে। এরপর বাস চালক মিণ্টুকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং বাসটি আবারও চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার ম্যানেজার ছানাউল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৪৫মিনিট ও ৯টা ১৫মিনিটে দুটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু ঝিনাইদহ টার্মিনাল থেকে যাত্রীসহ বাস দুটিকে চুয়াডাঙ্গায় ফেরত পাঠিয়ে দেন শ্রমিকেরা। এ ছাড়া ভোরে একটি বাস ঢাকায় পৌঁছায়। এতে করে বাসচালক ও শ্রমিকরা কাজে আসতে চাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এ নাসির আহাদ জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে ক্ষতি মালিক-শ্রমিক উভয়েরই হচ্ছে। নতুন আইনকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু জামিন অযোগ্য ধারাগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন। এ নিয়ে ২১ ও ২২ নভেম্বর ঢাকাতে মালিক-শ্রমিকদের সমন্বয়ে যৌথসভায় কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বাস মালিকদের লোকসানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে ২ শতাধিক যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। আঞ্চলিক রুটে চলাচলকারী বাসগুলো থেকে প্রতিদিন ২ হাজার ৫ শ টাকা ও দূরপাল্লার বাসগুলো থেকে প্রতি ট্রিপ প্রতি ১০ হাজার টাকায় আয় পান মালিকেরা। এর মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ বাসের মেরামত কাজে কিছু টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু বাস বন্ধ থাকলে অনাহারে থাকতে হয় শ্রমিকদের। বাস বন্ধ থাকলে লোকসান গুনতে হয় মালিকদেরকেও।’