প্রকৌশলীকে পিটিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

37

ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুু উপজেলার ফলসি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। হরিণাকুণ্ডুু এলজিইজিডির এক প্রকৌশলীকে পিটিয়ে আহত ও মামলার আসামি হওয়ার কারণে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। মামলার পর পুলিশ তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে জেলহাজতেও পাঠায়। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী গত ১৯ জুলাই এ সংক্রান্ত আদেশে সাক্ষর করেন। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন পেয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আরিফ-উজ-জামান বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হরিণাকুণ্ডুু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
মামলার নথি ও মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা রওশন হাবিব নামে এক সহকারী উপজেলা প্রকৌশলীকে মারধর করেন ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান। এ ঘটনায় গত ১৮ মে (সোমবার) হরিণাকুণ্ডু থানায় মামলা করেন প্রকৌশলী রওশন হাবিব। তিনি অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান একটি ঠিকাদারী কাজের বিল নিয়ে প্রকৌশলী রওশন হাবিবের সঙ্গে বাদানুবাদে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে তাঁকে অফিসের মধ্যে ফেলে মারপিট করেন। সে সময় চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মারপিটের কথা অস্বীকার করেন। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হন ফজলুর রহমান। প্রকৌশলী রওশন হাবিব জানান, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে। এ জন্য ২ কোটি ২৩ লাখ টাকার বিল এসেছে। ঈদুল ফিতর সামনে করে সব ঠিকাদারকেই কম বেশি বিল পরিশোধ করা হচ্ছিল। ফান্ডের ১৬ লাখ টাকা ফজলু চেয়ারম্যান একাই নিতে চান। অন্যসব ঠিকাদারকে বঞ্চিত করে একজনকে সব টাকা দিতে অস্বীকার করায় প্রকৌশলী রওশন হাবিবকে মারধর করেন ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান। ৫ মাস আগে মামুন নামে আরেক প্রকৌশলীকে চেয়ারম্যান ফজলু মারপিট করেন বলে অভিযোগ। কিন্তু আওয়ামী লীগ করার কারণে কেউ বিচার করেনি।
এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডুু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নাফিস সুলতানা সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বিধি মোতাবেক একজন প্যানেল চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।