পৌর মেয়রসহ ছয়জনের নামে ধর্ষণ মামলা

33
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহে মোহাম্মদ আজাদ-আসমত হোসেন নামের দুইজন ক্লিনিক মালিক, কোটচাঁদপুরের পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলাম জিরেসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার দুই নারী পৃথকভাবে মামলা দুটি করেন। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গতকাল বুধবার ওই দুজন নারীল ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু শহরের হাসপাতাল মোড়ের ভাই ভাই ক্লিনিকের মালিক আসমত হোসেন ও তাঁর ভাই আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে একই ক্লিনিকের এক নার্স ধর্ষণ মামলা করেন। বুধবার সকালে হরিণাকুণ্ডু থানায় উপস্থিত হয়ে ওই নারী মামলাটি করেন। যার মামলা নম্বর ১৩/২০২০। হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মামলা রেকর্ডের কথা স্বীকার করে বলেন, ক্লিনিকের এক নার্সকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ক্লিনিক মালিক দৌহিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ওই নার্স আইনের আশ্রয় নেন। বুধবার দুপুরে ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে ওসি জানান।
এদিকে, কোটচাঁদপুর শহরের নার্সিং হোম ক্লিনিকের মালিক মো. আজাদ হোসেন, স্থানীয় পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলাম জিরেসহ চারজনের নামে ধর্ষণ মামলা করেছেন স্বামী পরিত্যাক্তা (৩৫) এক নারী। আদালতের নির্দেশ পেয়ে গত মঙ্গলবার কোটচাঁদপুর থানার পুলিশ ধর্ষণ মামলাটি রেকর্ড করে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন নার্সিং হোমের নার্স রুমা এবং নার্স গোল বানু। এদের মধ্যে গোল বানুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুল আলম বুধবার বিকেলে বলেন, ‘সোমবার ভুক্তভোগী ওই নারী ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। আদালতের নির্দেশে আমরা নার্সিং হোম ক্লিনিকের মালিক মোহাম্মদ আজাদ, কোটচাঁদপুর পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলামসহ চারজনের নামে মামলা রেকর্ড করি।’ মামলার এজাহার বলা হয়েছে, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মহেশপুর উপজেলার ঘুগরি পান্তাপাড়া গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারী দুবাই থাকতেন। সেখান থেকে ফেরার পর কোটচাঁদপুরের নার্সিং হোম ক্লিনিকের মালিক মোহাম্মদ আজাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলামের সহযোগিতায় ক্লিনিক মালিক তাঁকে ধর্ষণ করেন।