পেঁয়াজের বাজার অস্থির

50
সরকারের পদক্ষেপ জরুরি
ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পরপরই দেশে অসাধু ব্যবসায়ীরা অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ালেন। দুদিন ধরে ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১১০ টাকায় কিনেছেন ক্রেতারা। যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য! এতে বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। দাম আরো বাড়তে পারে- এ আশঙ্কায় বাজারে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। অনেকে বেশি করে পেঁয়াজ কিনেছেন। আর সুযোগ নেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। অতি মুনাফালোভী পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের জিম্মি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ভারতের মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশসহ পেঁয়াজের বড় সরবরাহকারী রাজ্যগুলোতে বন্যায় পেঁয়াজের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, সরবরাহের সংকটের কথা বলে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করছেন। তারা ইচ্ছামতো পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন। অথচ চাহিদার বেশি পেঁয়াজ দেশে মজুদ রয়েছে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে দেশে পেঁয়াজের সর্বোচ্চ চাহিদা হলো ২৪ লাখ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি সামান্য ঘাটতি যা থাকে তার জন্য সারা বছরই দেশে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। এরপরও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছেন ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে শুধু নি¤œবিত্ত নয়, সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নাভিশ্বাস চরমে উঠেছে। পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনি নজর দেয়া উচিত। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে কারো কারসাজি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা দরকার। ইতোমধ্যে সারাদেশে মাঠে নেমেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১০টি টিম। এসব মজুদ পেঁয়াজ যাতে স্বাভাবিকভাবে বাজারে সরবরাহ করা হয় এবং বাজারের কোনো পক্ষ যাতে কারসাজি করতে না পারে, সে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি টিমগুলো কাজ করবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিরাও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হলে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। কাজেই নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা দূর করার জন্য সময়মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক কর্মকা-ের প্রতি ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটের আস্ফালন লক্ষণীয়। তবে এটা নতুন কিছু নয়, সাংবার্ষিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্য তো বটেই, সেবা খাতেও সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপ প্রকট। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এ চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এরা ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অনায়াসে অন্যায্যভাবে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। আমরা মনে করি, বাজার পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন বিক্রেতাদের অসৎ, লোভী ও প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কবে ঘটবে তার জন্য অপেক্ষা করে নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে চলবে না। এর জন্য রাষ্ট্র-সমাজের সচেতন দায়িত্বশীল মহলকে ভূমিকা রাখতে হবে।