পৃথিবী কে শাসন করবে, মানুষ না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?

19

প্রযুক্তি ডেস্ক
জাপান সফরে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। স্থানীয় কিউশু বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জন্য যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের এখনই টিক করতে হবে যে ভবিষ্যতে পৃথিবী কে শাসন করবে, মানুষ না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সামাজিক ব্যবসা সফর উপলক্ষ্যে জাপান অবস্থানকালে জাপানের খ্যাতনামা সুপার মডেল, অভিনেত্রী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও লেখিকা রোলা হোটেলে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। রোলার সঙ্গে ছিলেন তাঁর জমজ ভাই ও ম্যানেজার। তারা দু’জনেই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জাপানী নাগরিক যাদের পিতা বাঙ্গালী। রোলা সামাজিক ব্যবসার একজন সমর্থক এবং তিনি সামাজিক সমস্যাগুলোর সাথে আরো বেশী সম্পৃক্ত হবার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জাপান সফরে প্রফেসর ইউনূস ২০ নভেম্বর জাপানের ব্যবসা ইনকিউবেটর ও শিক্ষামূলক সংগঠন ট্রাস্ট কর্পোরেশন আয়োজিত ‘সোশ্যাল বিজনেস ফোরাম’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেন। টোকিও কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই ফোরামে ১,৬০০ এর বেশী নারী উদ্যোক্তা তার ভাষণ শুনতে সমবেত হন। ফোরামে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই এসেছিলেন সামাজিক ব্যবসাগুলো কীভাবে কাজ করছে এবং তারা কীভাবে নিজেদের সামাজিক ব্যবসা গড়ে তুলতে পারেন সে বিষয়ে জানতে। প্রফেসর ইউনূস তার ভাষণে অর্থনীতির বিদ্যমান তত্ত্বগুলো সমাজে কীভাবে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করছে তা তুলে ধরেন। তিনি শ্রোতাদেরকে তাদের পৌত্র-পৌত্রীদের জন্য তারা কী ধরনের পৃথিবী রেখে যেতে চান তা কল্পনা করতে বলেন এবং বলেন যে, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের জন্য এরকম একটি পৃথিবী নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, পৃথিবী বর্তমানে যে পথে এগাচ্ছে তাতে তাদের জন্য টিকে থাকাটাই একরকম অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ভুল তাত্ত্বিক কাঠামো মানুষকে ভুলভাবে গড়ে তুলেছে ।
২১ নভেম্বর প্রফেসর ইউনূস সোশ্যাল টেক সামিট ২০১৯ -এ ভাষণ দেন। কিউশু বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এই সামিটের বিষয়বস্তু ছিল আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের যুগ। তিনি কর্ম-নিয়োগের উপর আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের ভয়াবহ প্রভাবের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন যে, এতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ অতি দ্রুত বেকার হয়ে পড়বে। তিনি ম্যাক-কিনসে কর্তৃক একটি গবেষণার ফলাফল উদ্ধৃত করেন যেখানে আগামী ১৫ বছরে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের বিকাশের উপর কঠোর সামাজিক নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেন এবং বলেন যে, একে কোনো ভাবেই মানব জাতির জন্য অভিশাপ বয়ে আনার সুযোগ দেয়া যাবে না। ২২ নভেম্বর প্রফেসর ইউনূস ওসাকা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজীতে অনুষ্ঠিত কানসাই সোশাল বিজনেস ফোরাম-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ইউনূস এন্ড ইয়োশিমোতো সোশ্যাল অ্যাকশন কোম্পানী স্পন্সরকৃত এই ফোরামের বিষয়বস্তু ছিল সামাজিক ব্যবসা নির্মিত ভবিষ্যতের সমাজ।
২৩ নভেম্বর প্রফেসর ইউনূস টোকিওতে ইয়োশিমোতোর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সামাজিক ব্যবসা মেলায় মূল ভাষণ প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করে ইয়োশিমোতোর সামাজিক ব্যবসা ইউনূস ইয়োশিমোতো সোশ্যাল অ্যাকশন। তারা একটি সামাজিক ব্যবসা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এবং ইউনূস ইয়োশিমোতো সোশ্যাল অ্যাকশন স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাপানের ৪৭টি নগরীর সবগুলোতে সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টির জন্য কমেডিয়ানদের নিয়োগ করবে। মেলায় ১৮টি নগরী থেকে কমেডিয়ানদের ১৮টি টীম প্রফেসর ইউনূসের সামনে তাদের সামাজিক ব্যবসা পরিকল্পনা তুলে ধরে ও এগুলো বিষয়ে তার মতামত জানতে চায়। সামাজিক ব্যবসা সম্বন্ধে উৎসাহী প্রায় ১০০ জন ব্যক্তি এই আলোচনায় যোগ দেন। ২৪ নভেম্বর প্রফেসর ইউনূস জাপান অ্যাকশন ট্যাংক উদ্বোধন করেন। একটি বিশাল সম্মেলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করা হয় যার লক্ষ্য বৃহৎ কর্পোরেটগুলোকে নিজ নিজ সামাজিক ব্যবসা তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করা।