পৃথিবীর বুকে আরেক স্বর্গ

1449

6-99

বিস্ময় ডেস্ক: ইকুয়েডর উপকূল থেকে আরো ৬০০ মাইল ভেতরে এই দ্বীপটিতে বহিরাগত অনেক প্রাণীর সন্ধান মেলে। দেখা যায় দৈত্যাকৃতি কচ্ছপ। চোখে পড়ে অনেক বিরল পাখি। তেমনই রয়েছে বিরল কিছু গাছ। দুনিয়ার আর কোথাও সচরাচর দেখা যায় না। তাই চাইলেই ও অর্থের সামর্থ্য থাকলে ঘুরে আসতে পারেন এই সুন্দরতম দ্বীপ থেকে।
এই দ্বীপের গায়ে প্রেমের গন্ধ মেখে আছে। ভালোবাসার রঙিন ফুল হাতছানি দিয়ে ডাকে। হাত ধরাধরি করে গুঁড়ো গুঁড়ো সাদা বালির সৈকত আর সাগরের আশমানি জলরং। যেন গোটাটাই তুলি দিয়ে এঁকে দিয়েছে কেউ। স্বপ্নের মতো সাজানো চারপাশ। ভালোলাগার সব রসদ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। ভারত মহাসাগরের কোলে মরিশাস হানিমুন স্পেশাল।
নব্য বিবাহিত যুগলের সুন্দর রোমান্টিক হলিডে কাটানোর জন্য আদর্শ। ‘প্যারাডাইস আইল্যান্ড’ বলা হয় একে। ঝলমলে বালুকাভূমি, সমুদ্রের ধারে বালিয়াড়ি ঘেরা লবণাক্ত স্বচ্ছ নীল জলের হ্রদ আর প্রবাল প্রাচীর মুগ্ধ করবে। সমুদ্রতীরে মিড-নাইট ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করতে চান? সেও সম্ভব। হোটেল কর্তৃপক্ষই সব ব্যবস্থা করে দেবে। অন্যরকমভাবে বেড়ানোকে উপভোগ করতে চাইলে তটরেখা ধরে চলে যান লং ড্রাইভে। শহর ছাড়িয়ে চলে যান একটু দূরে। অনেক ছোট গ্রাম আছে ঘুরে দেখার। দেখুন বিখ্যাত বিচগুলোর পাশাপাশি অখ্যাতগুলোও। বেল মারে, লা কুভেত, লা মোর্নে ব্রাবান্ট বিচগুলো অবশ্য দ্রষ্টব্য। যেতে যেতে চা-বাগান চোখে পড়বে।
বাগান-কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গোটা চত্বরটাই পরিদর্শন করতে পারেন। চা নিয়ে বিশদ জানতে সাহায্য করবেন ওরাই। পথচলা শুরু হোক আবার। মাঝে পরিপাটি মসৃণ রাস্তা, দু’পাশে সারি সারি আখের ক্ষেত। দূরে পাহাড়। চারিদিক সবুজে সবুজ। এমন অপরূপ দৃশ্য দেখে জীবন সার্থক। এই আখ গাছগুলো বপন করা হয়েছিল ডাচ ঔপনিবেশিকদের আমলে। ফরাসি এবং ব্রিটিশরা সেগুলোকে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে চাষ করতে শুরু করেন। কারখানা গড়ে তোলেন। এখানেই রয়েছে একটি সংগ্রহশালা দল অ্যাডভেঞ্চার দু সুক্রেদ, যেখানে আখ চাষের ইতিহাস এবং এর নানান ব্যবহার সম্পর্কে জানা যাবে। আখের রস খেয়ে দুদ- জিরিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ুন নতুন গন্তব্যের উদ্দেশে।
যেতে যেতে পৌঁছে যাবেন দক্ষিণ মরিশাসের ছোট্ট গ্রাম ক্যামারেল-এ। এখানে দেখতে পাবেন মরিশাসের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত ক্যামারেল ফল্স, সেভেন কালার্ড আর্থস এবং ব্ল্যাক রিভার জর্জেস ন্যাশনাল পার্ক। পাহাড়বেষ্টিত এই দ্বীপের ৩.৫ শতাংশ এলাকা ঘিরে আছে ব্ল্যাক রিভার জর্জেস ন্যাশনাল পার্ক। ৬৫৭৪ হেক্টর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই অরণ্যরাজ্য। নানান ধরনের ফুলগাছ, পাখি, ঝরনা, নানান প্রজাতির জন্তু চোখে পড়বে। সেভেন কালার্ড আর্থস মূলত বালিয়াড়ি, যাতে রয়েছে লাল, বাদামি, সবুজ, বেগুনি, নীল, হলুদের সমাহার। এ এক অদ্ভুত সৃষ্টি। এছাড়া দেখুন বোটানিক্যাল গার্ডেন। এটি তৈরি হয়েছিল ১৭৬৭ সালে। ৩৭ হেক্টর জায়গা জুড়ে এর বিস্তার। মধ্য আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকা এবং ভারত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা অন্যান্য দ্বীপ থেকে সংগ্রহ করা তালগাছ, বৃহদাকার শালুক এবং মসলার বাগানের জন্য এই বোটানিক্যাল গার্ডেন বিখ্যাত।