পুলিশের অভিযানে গম ও আটা উদ্ধার, আটক ১

59

চুয়াডাঙ্গা জ্যোতি ফ্লাওয়ার মিলে গভীর রাতে মালামাল চুরি
সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জ্যোতি ফ্লাওয়ার মিল থেকে চুরি হওয়া গম ও আটা উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চুয়াডাঙ্গার হাতিকাটা খেয়াঘাট পাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৪০ বস্তা গম, ৭ বস্তা ভুষি ও ১ বস্তা ধান উদ্ধার করে সদর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় গোলজার হোসেন (৪০) নামের এক ক্রেতা আটক হয়েছেন। আটক হওয়া গোলজার হোসেন হাতিকাটা খেয়াঘাট পাড়ার মতিয়ার রহমানের ছেলে। তবে এ ঘটনার পর চুরির মূল হোতা ওই ফ্লাওয়ার মিলের নৈশপ্রহরী আলাল উদ্দিন পালিয়ে গেছেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে জ্যোতি ফ্লাওয়ার মিলের মালিক কিশোর কুমার আগরওয়ালা সংবাদ পান, তাঁর মিল থেকে মালামাল পাচার হচ্ছে। এমন সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মিলের ম্যানেজারকে ঘটনাস্থলে পাঠান এবং কিছুক্ষণ পর তিনি নিজে ও তাঁর ভাই কুমার শঙ্ক আগরওয়ালা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৈশপ্রহরী আলালকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ওই নৈশপ্রহরী পালিয়ে যান। পরে তাঁরা বিষয়টি সদর থানার পুলিশকে জানালে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং চোর ধরতে অভিযানে নামে। যে রাস্তা দিয়ে গম পাচার করা হয়েছে, ওই রাস্তায় গম ছিটানো ছিল। এ ছিটানো গম অনুসরণ করে পুলিশ হাতিকাটার খেয়াঘাট পাড়ার গোলজার হোসেনের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় গোলজার হোসেনের ঘর থেকে ৪০ বস্তা গম, ৭ বস্তা ভুষি ও ১ বস্তা ধান উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গোলজার হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
এ বিষয়ে জ্যোতি ফ্লাওয়ার মিলের মালিক কিশোর কুমার আগরওয়ালা জানান, তিনি বেশ কয়েকদিন ধরেই লক্ষ্য করতেন যে, রাতে তিনি যে পরিমাণ মাল মিলে রেখে যেতেন, সকালে এসে তা কম পেতেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি সংবাদ পান, তাঁর মিল থেকে মাল পাচার হচ্ছে। এ সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং নৈশপ্রহরী আলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু সুযোগ বুঝে ওই নৈশপ্রহরী পালিয়ে যান। তিনি ধারণা করছেন, এ ঘটনার মূল হোতা নৈশপ্রহরী। নৈশপ্রহরী আলালের বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাাড়িতে।
এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ জানায়, জ্যোতি ফ্লাওয়ার মিলে চুরির ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে হাতিকাটা খেয়াঘাট পাড়া থেকে গোলজার নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বাড়ি থেকে চুরি হওয়া ৪০ বস্তা গম, ৭ বস্তা ভুষি ও ১ বস্তা ধান উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, আটক গোলজারকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি কম দামে প্রতি বস্তা ১২ শ টাকা দরে এসব মালামাল ক্রয় করতেন। আর এ চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন জ্যোতি ফ্লাওয়ার মিলের নৈশপ্রহরী আলাল উদ্দিন, গাড়িচালক চুয়াডাঙ্গা বঙ্গজপাড়ার যায়দুল ও ইয়াছিন। ধারণা করা হচ্ছে এরা একটা বড় সিন্ডিকেট।