পুলিশকে না জানিয়ে আপস-রফা সম্পূর্ণ বেআইনি

217

দামুড়হুদা মজলিশপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক শাহিন জেলহাজতে
মোজাম্মেল শিশির, দামুড়হুদা:
চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামে ৪র্থ শ্রেণির শিশুছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় গত রোববার পুলিশের হাতে আটক মজলিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহিনুজ্জামান শাহিনকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এ ঘটনায় গত রোববার রাত ১১টার দিকে ভিকটিম শিশুছাত্রীর মা বাদী হয়ে শিক্ষক শাহিনুজ্জামান শাহিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, ওই শিশুছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে বরং তাঁকে বাঁচাতে এবং বিষয়টি মীমাংসার করতে সালিস-বৈঠকের আয়োজন করায় সালিস-আয়োজকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে শাস্তির দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই সালিস-বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় পুরো উপজেলা এখন প্রতিবাদে সরগরম। তারা বলছে, ‘স্কুলশিক্ষককে বাঁচাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসার জন্য যে সালিস-বৈঠকের আয়োজন করে, তা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে এটি আমাদের অপ্রত্যাশিত।’ তা ছাড়া এ প্রহসনের আপস-মীমাংসার বৈঠকের ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে ওই স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম উদ্দীন খুশির নির্দেশে মসলিশপুর গ্রামের মৃত করিম ম-লের ছেলে ফরিদ (৪৫), আব্দুল রশিদের ছেলে ছানাউল্লাসহ (৪৩) অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজন ব্যক্তি দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সদস্য রোকনুজ্জামান রোকনের ওপর যে হামলা চালান, তার তীব্র নিন্দা জানান সুধীজনেরা। এ উপলক্ষে গতকাল দামুড়হুদা প্রেসক্লাবে এক জরুরি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাপোযুক্ত বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, স্কুলশিক্ষক শাহিন দীর্ঘদিন যাবৎ মজলিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এর একপর্যায়ে ৪র্থ শ্রেণির ওই শিশুছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলশিক্ষককে বাঁচাতে সালিস-বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক রোকনুজ্জামান লাঞ্ছিত হন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। গত রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে মজলিশপুর স্কুল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাংবাদিক রোকন দামুড়হুদা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো আসামি আটক নেই।