পানির অপচয় রোধ

386

ধর্ম ডেস্ক: পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া জীবন অচল। নাগরিক জীবনে পানি যে কতটুকু প্রয়োজনীয় তা আমরা প্রতি মুহূর্তে টের পাই। আমাদের দেশে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায়ই পানির সংকট দেখা দেয়। যারা পানির সংকটে ভুগেন তারা বুঝেন পানি যে কত প্রয়োজনীয়। এজন্য ইসলাম নেয়ামত থাকতে তার কদর করতে বলেছে। দেড় হাজার বছর আগে ইসলামই প্রথম পানি অপচয় না করার কথা বলেছে। পানির অপচয়ের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে বলেও হাদিসে হুঁশিয়ারি রয়েছে। এমনকি কেউ নদীতে গোসল বা অজু করার সময়ও পানির যেন অপচয় না হয়সে দিকে নজর রাখার তাগিদ করেছে ইসলাম। বর্তমানে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে পানির অপচয় রোধ করার কৌশল অবলম্বন করা হয়। অথচ ইসলামের নির্দেশনা মোতাবেক চললে কেউ পানির অপচয় করতে পারে না। পানির যে সংকট সবই অপচয়ে কারণে। এ ব্যাপারে এখনই সবাই সচেতন না হলে সামনে পানির আরও ভয়াবহ সংকট দেখা দেবে বলে আভাস দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কথিত আছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে পানির জন্য। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) একসময় হজরত সাদ (রা.) এর কাছে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সাদ (রা.) তখন অজু করছিলেন। রাসুল (সা.) বললেন, ‘পানি অপব্যয় করছ কেন?’ সাদ (রা.) বললেন, ‘অজুতেও কি অপব্যয় হয়?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘প্রবহমান নদীতেও যদি তুমি অজু কর, তবুও অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা যাবে না’ (মুসনাদ আহমাদ)। আমাদের দেশ নদীমাতৃক। এজন্য পানির সংকট তুলনামূলক কম। নগর জীবনে পানির কিছুটা সংকট হলেও গ্রামীণ জীবনে পানির তেমন সংকট নেই। এজন্য পানি ব্যবহারে আমাদের মধ্যে অপচয়টা বেশি লক্ষ্য করা যায়। আমরা যখন মসজিদে অজু করতে বসি তখন পানির টেপ ছেড়ে দীর্ঘ সময় লাগিয়ে অজু করি। এতে পানির প্রচুর অপচয় হয়। হাদিসের ভাষ্য থেকে জানা যায়, তৎকালীন আরবে পানির প্রকট সংকট ছিল। এজন্য রাসুল (সা.) মেপে মেপে পানি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। অজু-গোসলের জন্য কতটুকু পানি ব্যবহার করবে এর নির্দেশনাও হাদিসে রয়েছে। আমরা ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি ব্যবহার করা উচিত এবং এ পথ অবলম্বন করলে আমাদের সংকটে পড়তে হবে না।