পাট পচানোর পানি নেই, বাজারে দাম নেই!

28

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট চাষ করে বিপাকে চুয়াডাঙ্গার চাষিরা
বিশেষ প্রতিবেদক:
পাটের ভরা মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট চাষ করে এখন বিপাকে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার চাষিরা। দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পাটকে সোনালি আঁশ বলে বিবেচনা করা হলেও চাষিদের দুর্ভোগ নিরসনে সরকারিভাবে নেই কোনো উদ্যোগ। এদিকে, সঠিক সময়ে পাট কাটতে না পারা, প্রখর রোদে শুকিয়ে যাওয়া ও নদী-নালা- খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট পচাতে না পারা এবং এক পানিতে বারবার পাট পচানোর কারণে কালো রং ধারণ করায় দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। এতে করে সোনালি আঁশের মান ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে বলে দাবি করছেন চাষিরা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলার ১৫ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা তুলনায় ১ শ একরেরও বেশি জমিতে পাট চাষ করেছেন চাষিরা। তবে নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবা-জলাধারগুলোতে পানি না থাকায় পাট পচানো নিয়ে বিপাকে রয়েছেন চাষিরা। এ ছাড়া পাটগাছ বড় হলেও পানির অভাবে প্রখর রোদে গাছ পুড়ে যাওয়ায় অপরিপক্ক পাট কেটে ফেলতে হচ্ছে কৃষকদের।
চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির অভাবে খাল-বিল, ডোবা-নালায় পানি না থাকায় চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত পাট পচাতে পারছেন না। চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে চলা চারটি শাখা নদী নবগঙ্গা, কুমার, ভৈরব ও চিত্রার অবস্থা আজ করুণ। এ ছাড়া প্রধান নদী মাথাভাঙ্গায় পানি থাকলেও সবাই সেখানে পাট পচানোর সুযোগ পান না। উপায় না পেয়ে ছোট জলাশয়-জলাধারে পাট পচাতে হচ্ছে অধিকাংশ চাষিকে। এদিকে, অল্প পানিতে অধিক পাট পচানোর ফলে আঁশ কালো রঙ ধারণ করছে। ফলে বাজারে আশানুরূপ দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে রয়েছেন জেলার কয়েক হাজার পাটচাষি।
আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশ জেলায় পাটের আবাদ ভালো হলেও পানির অভাবে পাট পচাতে পারছেন না কৃষকেরা। অল্প পানিতে বারবার পাট পচানোয় আঁশের রং কালো হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ১২ শ থেকে ১৪ শ টাকায় প্রতি মণ পাট কেনা হচ্ছে। আর পাটের আঁশ একটু কালো হলেই দাম কমে যাচ্ছে ৪ শ থেকে ৫ শ টাকা পর্যন্ত।
দামুড়হুদার মজলিশপুরের পাটচাষি সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রতি মণ পাট উৎপাদন করতে খরচ হয় ৮ শ থেকে ১ হাজার টাকা। বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে পাওয়া যায় ১২ শ থেকে ১৩ শ টাকা। যতগুলো চাষাবাদ আছে, তার মধ্যে পাটচাষ করতে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। পাট কাটার পর তা পচানোর জন্যও পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত পানিপূর্ণ জলাশয়। ফলে আমাদের সোনালি আঁশের মান ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।’
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলী হাসান সময়ের সমীকরণকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার চুয়াডাঙ্গায় পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়গুলোতে সঞ্চয় না হওয়ায় এখন পাট পচানোর জন্য পানি-সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার জেলার সব নদী, শাখানদী ও জলাশয়গুলো খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; যার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আপাতত পাট পচানোর শঙ্কা মোকাবিলায় চাষিরা সমন্বিত উদ্যোগ নিলে লোকসান কমতে পারে। যেখানে পানি আছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে পাট পচানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে।