পাকিস্তানে সেনা-পুলিশ মুখোমুখি অবস্থানের আশঙ্কা

30

বিশ্ব প্রতিবেদন:
পাকিস্তানে আধাসামরিক বাহিনীর হাতে সিন্ধুর পুলিশ প্রধান অপহরণের ঘটনায় দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। এ ঘটনায় সেনা প্রধান তদন্তের নির্দেশ দিলেও সেনাবাহিনী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ শঙ্কার কথা জানিয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বিলওয়াল ভুট্টো জারদারির এক মুখপাত্রের দাবি, আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত রেঞ্জার্সের সেনারা সোমবার প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান মুশতাক আহমেদ মাহারকে অপহরণ করে। তারা বিরোধীদলীয় নেতা সফদার আওয়ানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশনামায় মুশতাক আহমেদকে স্বাক্ষরে বাধ্য করে। স্বাধীনতার পর পাকিস্তান বড় একটি সময় সেনা শাসনে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ইমরানকে ক্ষমতায় আনার পেছনেও সেনাবাহিনী কলকাঠি নেড়েছিল। সাংবিধানিকভাবে দেশটিতে সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের সমালোচনা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগ দাবি এবং রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের অভিযোগে দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলীয় জোট। যেসব নেতা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সফদার। রাজনীতিতে সেনা হস্তক্ষেপে যেখানে প্রশাসন ও রাজনীতিতে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে, সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাকে অপহরণের ঘটনা আগুনে ঘি ঢালার মতোই হতে পারে। সিন্ধুর পুলিশ প্রধানের অপহরণের পর প্রদেশের সব শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিবাদ হিসেবে ছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সেনাবাহিনীর পৃথক তদন্তের আদেশ আসার আগ পর্যন্ত পুলিশ প্রধান মাহার তাদেরকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বা তার সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য এখনও আসেনি। তবে মঙ্গলবারই সেনা প্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।