পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি পুরুষের

17

স্বাস্থ্য ডেক্স:
মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়েছে। খাবারে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত দ্রব্য মেশানোয় এ ক্যান্সার বাড়ছে। এ রোগে নারীদের চেয়ে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে। সমাজের উচ্চবিত্তদের এ ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক একটি ব্যাকটেরিয়া মানুষের পাকস্থলী ও ডিওডেনামে আলসারের সৃষ্টি করে। জীবাণুটি পাকস্থলীতে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষণস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি করে। ক্ষণস্থায়ী প্রদাহ থেকে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থেকে পাকস্থলীতে ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, কেবল হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি দিয়ে আলসারটিই ক্যান্সারে পরিণত হয়। ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্য বিশেষভাবে দায়ী হলেও পাকস্থলীতে ক্যান্সার সৃষ্টিতে এর ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। ধূমপায়ীরা পাকস্থলীর ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হন। এ ছাড়া বেশি লবণ ও ধোঁয়াযুক্ত খাবার, লবণে সংরক্ষিত খাবার, নাইট্রাইট ও নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাবারকে উলেল্গখযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের রক্তের গ্রুপ ‘এ’ তারা অন্যান্য রক্তের গ্রুপধারীদের চেয়ে পাকস্থলীর ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে বংশগত কারণকেও এখন ক্যান্সারের কারণ হিসেবে বলা হয়। পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে পরবর্তী পর্যায়ে শরীরের ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, রক্তবমি, কালো রক্তযুক্ত পায়খানা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীর ওপরের পেটে চাকা থাকে। অনেকে জন্ডিসে আক্রান্ত হতে পারে। পাকস্থলীর ক্যান্সারের রোগী জন্ডিসে আক্রান্ত হলে বুঝতে হবে ক্যান্সারটি লিভারে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের পেটে পানি আসতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যান্সারটি ঘাড়ের লসিকা গ্রন্থিতে ছড়াতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি হাড়, পেরিটোনিয়ামও এ ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ করে ফেলে। তাই শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।