পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ

21

* করোনা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠছে আমেরিকায়
* ব্রাজিলে সাত দিনে আক্রান্ত আড়াই লক্ষাধিক
* কারফিউ তোলার পর সংক্রমণ বেড়েছে সৌদিতে
* ভারতে বুধবার থেকে এলাকাভেদে লকডাউন
সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনার আক্রমণের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা এখনো বাকি। করোনা মহামারী অবসানের কাছাকাছিও পৌঁছায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার সঠিক পদক্ষেপ না নিলে আরো বেশি মানুষ করোনাভাইরাসের শিকার হবেন। আরো ভয়াবহ দিন আসছে সামনে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস গত সোমবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক বলেন, সব দেশের সরকারকে সঠিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। আমরা চাই চলমান পরিস্থিতির অবসান হোক। আমরা চাই প্রতিটি জীবন বাঁচুক। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা হলো, এ পরিস্থিতির অবসান হচ্ছে না। নিষ্ঠুর সত্য হলো- সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এখনো আসেনি। করোনাভাইরাস বিদায়েরও কোনো লক্ষণ নেই। নতুন ভাইরাস মারাত্মক এক টালমাটাল অবস্থার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ তো শেষ হয়নি, শেষ হওয়ার কাছাকাছিও যায়নি। বরং ভাইরাসটির সংক্রমণের ভয়াবহ ধাপটি সামনে অপেক্ষা করছে। করোনা মোকাবেলায় অনেক দেশ কিছু কিছু উন্নতি করেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটি দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে। সব দেশের সরকারকে সঠিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। এ রকম পরিবেশ ও অবস্থা চলতে থাকলে আর সতর্ক না হলে করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ব এবারে নতুন ভয়াবহ একটা পর্যায়ে ঢুকছে। এমতাবস্থায় করোনা মোকাবেলায় সফল হিসেবে জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজ থেকে ছয় মাস আগে চীনের উহান শহরে রহস্যময় নিউমোনিয়ার মতো অসুস্থতার খবর প্রথম যখন পাওয়া যায় তখন যে আশঙ্কা করা হয়েছিল বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি খারাপ। এ ভাইরাস আমাদের জীবন ও অর্থনীতিকে এমন ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে, তা ছয় মাস আগে আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি। সামনের মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী আরো বেশি সহনশীলতা, ধৈর্য ও উদারতার প্রয়োজন হবে। বর্তমান পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে আমরা সবচেয়ে খারাপ কিছুর আশঙ্কা করছি। এ মহামারী মনুষ্যত্ববোধের সবচেয়ে ভালো দিক ও সবচেয়ে খারাপ দিক দেখিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। ডব্লিউএইচওর জরুরি কর্মসূচির প্রধান মাইক রায়ান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা পাওয়ার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ প্রচেষ্টা সফল হবে এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। এ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বের দেশগুলোকে বিভিন্ন পন্থায় ভাইরাস সংক্রমণ রোধে লড়াই করে যেতে হবে। খবর দ্য গার্ডিয়ান, এএফপি, আলজাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন, ওয়ার্ল্ডোমিটারস, আরব নিউজ, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের।
আবারো চীন যাচ্ছে ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞরা :
করোনাভাইরাসের উৎস সঠিকভাবে খুঁজতে চীনে আরেকবার বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কারণ সংস্থাটি মনে করছে, করোনাভাইরাসের উৎস না জানা গেলে তা নিধন করা সম্ভব নয়। ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, ভাইরাসটি কিভাবে উৎপত্তি হয়েছিল তা যদি আমরা জানতে পারি, তাহলে ভাইরাসের সাথে আরো ভালোভাবে লড়াই করা যাবে। আমরা এর জন্য আগামী সপ্তাহে একটি দল চীনে পাঠাব এবং আমরা আশা করি, ভাইরাসটি কিভাবে শুরু হয়েছিল তা বুঝতে সক্ষম হবো।
করোনা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠছে আমেরিকায় :
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা বিপর্যয় শেষ হওয়ার জন্য প্রথম ধাপটিই এখনো শুরু হয়নি। চার মাসের কম সময়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৮৩ জনের। দ্বিতীয় দফায় আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত এক ডজন রাজ্যে সবকিছু খুলে দেয়ার পরিকল্পনা থমকে দাঁড়িয়েছে। অ্যারিজোনার গভর্নর ডাগ ডুসেই রাজ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবারো ৩০ দিনের জন্য রাজ্য খুলে দেয়ার পদক্ষেপ স্থগিত রাখার নির্দেশ জারি করেছেন। ফ্লোরিডায় আবার করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। টেনেসির গভর্নর বিল লি ২৯ জুন রাজ্যের জরুরি অবস্থা আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান ক্যাম্প আরো দুই সপ্তাহের জন্য মহামারী প্রতিরোধবিষয়ক সতর্কতা বৃদ্ধি করবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যান্য রাজ্যে সংক্রমণ বাড়ায় নিউ ইয়র্ক, নিউজার্সি ও কানেকটিকাট রাজ্য পরবর্তী ধাপে খুলে দেয়ার আগে নতুন করে ভাবা হচ্ছে।
সৌদিতে কারফিউ তোলার পর সংক্রমণ বেড়েছে :
সৌদি আরবে কারফিউ তুলে দেয়ার এক সপ্তাহ পরেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বেড়ে গেছে। সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডা: মুহাম্মদ আল-আবদে আল-আলি জানান, কারফিউ তুলে দেয়ার জেরে সংক্রমণের হার দেড় গুণ বেড়ে গেছে। এখন আক্রান্ত ব্যক্তি আরো অন্তত দেড় জনকে সংক্রমিত করছেন। তবে সৌদিতে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ সুস্থ হয়ে গেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার চার শ’ ৩৬ জন এবং মারা গেছেন এক হাজার পাঁচ শ’ ৯৯ জন।
ভারতে লকডাউন তোলার পর সংক্রমণ দ্বিগুণ :
ভারতে লকডাউন তুলে নেয়ার পর থেকে দ্বিগুণের বেশি করোনা সংক্রমণ হয়েছে। ভারতে লকডাউন খোলার পর দ্রুতগতিতে বেড়েছে সংক্রমণ। লকডাউনের সময় ৪৭ শতাংশ ছিল সংক্রমণ বাড়ার হার। সেটা আনলক-১ এ এসে ৫৮.৬৭ শতাংশ হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন আরো ৩৮০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী। দেশটিতে করোনা শনাক্ত ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৩১৫ জন। মোট মারা গেছেন ১৬ হাজার ৯১৭ জন। আক্রান্তের নিরিখে আমেরিকা, ব্রাজিল, রাশিয়ার পরই রয়েছে ভারত।
ব্রাজিলে সাত দিনে আক্রান্ত আড়াই লক্ষাধিক : করোনা পরিস্থিতি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ব্রাজিলে। রোববার পর্যন্ত সাত দিনে দেশটিতে ২ লাখ ৫৯ হাজার ১০৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৭ হাজার ৫ জন। এর আগের সপ্তাহে তা ছিল ৭ হাজার ২৮৫ জন। বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পরই ব্রাজিলের অবস্থান। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৮৮ জন এবং মোট মৃত ৫৮ হাজার ৩৮৫ জন।
ভারতের প্রথম করোনা টিকা কোভাক্সিন :
ভারতে তৈরি প্রথম করোনা টিকা কোভাক্সিনের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সম্মতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ায় জুলাইতে শুরু হবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। সিএমআরের সাথে যৌথ প্রচেষ্টায় এ ভ্যাকসিন তৈরি করেছে হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক। সংক্রামক সার্স-কোভ-২ ভাইরাস থেকে তৈরি করা এ টিকা করোনা সংক্রমণ থেকে যথেষ্ট পরিমাণে নিরাপত্তা দিতে এবং মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম। ইতোমধ্যেই টিকাটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
থাইল্যান্ডে নিয়ন্ত্রণে করোনা :
থাইল্যান্ডে করোনাভাইরাসটির সংক্রমণ অনেক কম। থাইল্যান্ড এখন প্রায়ই আক্রান্ত ও মৃত্যুবিহীন দিন পার করছে। ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আবার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। সংক্রমণ কমে আসায় থাইল্যান্ড আজ থেকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল শুরু করছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। একই সাথে পাব, বার ও কারাওকে ভেনুগুলোও আবার খুলে যাচ্ছে। দেশটিতে এখন করোনায় আক্রান্ত সক্রিয় রোগী ৫৮ জন। আক্রান্তদের ৫৮ জন মারা গেছেন। মোট ৩ হাজার ১৭১ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হলেও তাদের ৩ হাজার ৫৬ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
ভারতে এলাকাভেদে লকডাউন আজ থেকে :
করোনার দাপটে প্রথমে ভারত লকডাউনে গেলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। প্রথম ধাপের আনলক-১ শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। আজ বুধবার থেকে দেশে শুরু হচ্ছে আনলক-২। আর সেটা চলবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত। তবে এলাকাভেদে সংক্রমণ বিবেচনা করে ৩১ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন থাকবে। সেখানে ছাড় থাকবে শুধু জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে।
চিকিৎসকদের ৫০ ভাগ বেতন বাড়াল ঘানা :
ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদো করোনা মোকাবেলায় সামনের সারিতে থাকা চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। আফ্রিকার দেশটিতে করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীরা আগামী তিন মাস জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বিশেষ আর্থিক সুবিধা পাবেন। এ তিন মাসে তাদের বেতন পঞ্চাশ শতাংশ বাড়ানো হবে। করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহ দিতে এ বাড়তি আর্থিক সুবিধা দেয়া হয়।
মার্কিন, ব্রাজিল ও চীনা নাগরিকদের ইউরোপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা :
আজ বুধবার থেকে ইউরোপে ১৪টি নিরাপদ রাষ্ট্রের নাগরিকরা প্রবেশ করতে পারবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ তালিকা থেকে বাদ গেছেন মার্কিন, ব্রাজিল আর চীনা নাগরিকরা। নিরাপদ দেশের নতুন তালিকায় আছে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জর্জিয়া, জাপান, মন্টেনিগ্রো, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, রুয়ান্ডা, সার্বিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া ও উরুগুয়ে।
তবুও মাস্ক পরবেন না ট্রাম্প :
যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবুও মাস্ক না পরতে চাইছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মনে করেন কে মাস্ক পরবে, না পরবে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে রিপাবলিকান অনেক নেতাই বলেছেন মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক পরা জরুরি।
সিঙ্গাপুরে করোনা ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তি : সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ব্লুটুথ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের যন্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। দেশটির সরকার স্মার্টফোনে ব্যবহার করার যে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ চালু করেছে, নতুন এ ব্লুটুথ যন্ত্রটি তার বিকল্প ব্যবস্থা। একটি টোকেন ব্যবস্থার নাম ট্রেস-টুগেদার। যাদের স্মার্টফোন নেই বা যারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে চান না, তাদের জন্য নতুন এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
হাঙ্গেরিতে অনিশ্চয়তার দোলাচলে প্রবাসীরা : হাঙ্গেরিতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একদিনের ব্যবধানে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এখন পর্যন্ত পূর্ব ইউরোপের এ দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪১৪৫ জন। সর্বমোট মারা গেছেন ৫৮৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২৬৮৫ জন। করোনা-পরবর্তী সময়ে হাঙ্গেরিতে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিকে আবার সচল করা। ইউরোর বিপরীতে হাঙ্গেরির জাতীয় মুদ্রা হাঙ্গেরিয়ান ফরেন্টের অস্বাভাবিক দরপতন ঘটেছে। দেশটির অনেক অর্থনীতিবিদ ধারণা করছেন, যেকোনো সময় মূল্যস্ফীতি চরমে পৌঁছাতে পারে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি হাঙ্গেরিতে বসবাসরত প্রবাসীদের জীবনকে অনিশ্চয়তার দোলাচলে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানে এক দিনে ১৬২ জনের মৃত্যু : ইরানে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে করোনাভাইরাসে এক দিনেই ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২৬ মার্চ সর্বোচ্চ মৃত্যু সংখ্যা ছিল ১৫৭ জন। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ৬৭০ জন এবং আক্রান্ত সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজার ২০৫ জন ছাড়িয়েছে। দেশটিতে যারা করোনায় মারা গেছেন তাদের ৪০ ভাগ হার্ট, ডায়াবেটিক, প্রেসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
ব্রাজিলে স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন : যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনটি ব্রাজিলের স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে প্রয়োগ করা শুরু হয়েছে। দেশটিজুড়ে প্রথম ধাপে তালিকাভুক্ত ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর ওপর ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হচ্ছে। সাও পাওলো, রিও ডি জেনিরো এবং ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় এই ট্রায়াল হবে। ব্রাজিলিয়ান হেলথ রেগুলেটরি এজেন্সি (এএনভিএসএ) গত ২ জুন দেশটিতে এ ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেয়, যা অ্যাস্ট্রাজেনিকার অংশীদারিত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
করোনাকালে সন্তান না নেয়ার আহ্বান মিসরে : করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে সন্তান না নিতে নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মিসর সরকার। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ওই আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারী সময়ে সন্তান নেয়ায় বিলম্ব করা দরকার। করোনাভাইরাস আক্রান্তের ফলে অনেক ক্ষেত্রে শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এতে গর্ভধারণ থলি ও ভ্রƒণের পুষ্টি জোগানে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। গর্ভধারণের ফলে পরোক্ষভাবে নারীর ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়। ফলে গর্ভবতী নারীদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ার অধিক আশঙ্কা তৈরি হয়।