পদ বেড়েছে প্রশাসনে, ক্ষোভ বেড়েছে অন্য ক্যাডারে

37

সমীকরণ প্রতিবেদন:
সরকারের বিশেষ পদ উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের স্থায়ী পদসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। দুই বছরের ব্যবধানে বর্তমানে এসব পদ বেড়েছে গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশের বেশি। বেশিরভাগ পদে রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। ফলে পদ বাড়ায় এ ক্যাডারে খুশির আমেজ বিরাজ করলেও অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশাসন ক্যাডারের মতো অন্যান্য ক্যাডারের পদ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্যাডার কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। ২০১৭ সালে উপসচিবের পদ ছিল ১ হাজার ৩২৪টি। বর্তমানে উপসচিবের পদ ১ হাজার ৭৫০টি। উপসচিবের পদ বেড়েছে ৩২ শতাংশ। ৩১ শতাংশ বাড়িয়ে যুগ্ম সচিবের পদ করা হয়েছে ৫০২টি। সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে অতিরিক্ত সচিবের পদ। ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে অতিরিক্ত সচিবের পদ করা হয়েছে ২১২টি। এই সময় সচিবের পদ বাড়ানো হয়েছে চারটি। বর্তমানে সচিব বা সিনিয়র সচিবের পদ ৯৩টি।
অভিযোগ রয়েছে, নতুন পদ সৃষ্টি করার কাজে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দীর্ঘ সময় ব্যয় করে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জনবল সংকটের এটাও একটা অন্যতম কারণ। কীভাবে নতুন পদ সৃষ্টিসহ শূন্যপদ পূরণের কাজ গতিশীল করা যায়, তার কৌশল বের করার জন্য ২০১৫ সালে তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞার নেতৃত্বে একটি সচিব কমিটি গঠন করেছিল সরকার। এই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি নতুন পদ সৃষ্টি করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সময় লাগে ২ হাজার ৬০০ দিন বা সাত বছরের বেশি। এই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিছু উদ্যোগ নেয়, যার ফলে নতুন পদ সৃষ্টির সময় কমে আসে। কিন্তু আবারও নতুন পদ সৃষ্টিতে অনেক বেশি সময় লাগছে। বিভিন্ন ক্যাডারভিত্তিক ফোরামের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পদ সৃষ্টিতে যত সময় লাগে, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদ সৃষ্টিতে। পদ সৃষ্টির কাজটি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, যা প্রশাসন ক্যাডারের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়। কাজেই প্রশাসন ক্যাডারের কোনো পদ সৃষ্টির প্রস্তাব গেলে যত গুরুত্ব দেওয়া হয়, অন্য কোনো ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদ সৃষ্টিতে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞার নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে নতুন পদ সৃষ্টিতে দীর্ঘ সময় লাগার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা সঠিক। ক্যাডারভিত্তিক ফোরামের নেতাদের ভাষ্য, অন্যান্য ক্যাডারের পদ সৃষ্টিতেই কেবল দীর্ঘ সময় লাগে। জনপ্রশাসনের পদ সৃষ্টিতে বেশি সময় লাগে না। সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন ক্যাডার দুর্বল হয়ে পড়ছে। ওই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অন্যান্য ক্যাডারের পদে ভাগ বসাচ্ছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, এমনকি প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের ফোরাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা নাম প্রকাশ করে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে নতুন পদ সৃষ্টিতে বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই। আর সরকারের বিশেষ পদ বৃদ্ধি হচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভাগ হয়েছে বলে। সরকারের সেবা সম্প্রসারণের জন্য এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একাধিক বিভাগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব বিভাগের জন্য নতুন পদ দরকার। এ ছাড়া সরকারের বিশেষ পদ উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারাও আসতে পারেন। তাদেরও নির্দিষ্ট সংখ্যায় পদোন্নতি দেওয়া হয়।
প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘সব ক্যাডারের পদ সৃষ্টিতেই সমান আন্তরিক হতে হবে। সব ক্যাডারের প্রয়োজন আছে বলেই এত ক্যাডার সৃষ্টি করা হয়েছে। কাজেই কোনো একটি বিশেষ ক্যাডার দুর্বল হলে ওই সেক্টরটিই দুর্বল হয়ে পড়বে, যা কারও কাম্য নয়।’ শিক্ষা ক্যাডারের জন্য সাড়ে ১২ হাজার প্রারম্ভিক পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয় ২০১৪ সালে। প্রস্তাব দেওয়ার সাড়ে চার বছর পার হয়ে গেলেও এখনো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। ২০১৫ সালে পে-স্কেল ঘোষণার সময় টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করার পর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। ক্লাস ছেড়ে তারা রাস্তায় নেমে আসার পর সংকট সমাধানে মন্ত্রিসভা কমিটি ও সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অধ্যাপক পদের ৫০ শতাংশ থার্ড গ্রেড পর্যন্ত যাবেন। এই সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ঝুলে আছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক শাহেদুল কবীর চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার পদের যে বিন্যাস তা আশির দশকে নির্ধারিত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিগ্রি, অনার্স বা মাস্টার্স থাকলে পদ বিন্যাস কী হবে, তা এনাম কমিশনের পর কেউই সংস্কার করেনি। বছর বছর বিভিন্ন কলেজে যে হারে অনার্স ও মাস্টার্স খোলা হচ্ছে, পদ সেভাবে বাড়ানো হয়নি। এই সংকট বা অচলাবস্থাটি চার দশকের। শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা অধ্যাপক হয়ে সর্বোচ্চ চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত যেতে পারেন। এতে তারা যুগ্ম সচিব পর্যন্তও যেতে পারেন না। কারণ যুগ্ম সচিব পদটি হচ্ছে তৃতীয় গ্রেডের।’ তিনি বলেন, “প্রত্যেক ক্যাডারের একটি ‘এ’ গ্রেডের পদ থাকার কথা। এই ‘এ’ গেডের সঙ্গে মিল রেখে অন্যান্য পদের বিন্যাস হবে। অর্থাৎ, গ্রেড ওয়ান থাকলে টু এবং থ্রি থাকতে হবে। শিক্ষা ক্যাডারে তা হচ্ছে না। পদ সৃষ্টির কাজ হয় অত্যন্ত ধীরগতিতে। এসব কাজের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, যখনই ডেস্ক অফিসার পরিবর্তন হয়, তখনই সব কাগজপত্র নতুন করে দিতে হয়। এটি একটি অস্বাভাবিক বিষয়। কারণ ডেস্ক অফিসার যখন বদল হয়, তখন সিদ্ধান্ত তো বদল হয় না। আগের ডেস্ক অফিসার যেখানে শেষ করেছেন, নতুন ডেস্ক অফিসার সেখান থেকে শুরু করবেন। কিন্তু নতুন ডেস্ক অফিসার এসে আবার নতুন করে শুরু করেন। এগুলোসহ আরও নানা কারণে পদ বাড়ানোর প্রস্তাব ঝুলে থাকে। এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় আমাদের অনেক কর্মকর্তা অবসরে চলে যাচ্ছেন। শিক্ষা ক্যাডারের ‘এ’ গ্রেডের মাত্র একটি পদ। পুলিশেরও অনেক এ গ্রেডের পদ রয়েছে। পুলিশ আর প্রশাসন ক্যাডারের পদ বাড়াতে সময় লাগে না। অন্য সব ক্যাডারের হলেই সমস্যা।”
প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদ বাড়ানোর বিষয়টি সহজে হলেও অন্য ক্যাডারগুলোর ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয় বলে মন্তব্য করেন শাহেদুল কবীর। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ক্যাডারের যখন পদ বাড়াতে হয়, তখন এত কিছু লাগে না, দ্রুত হয়ে যায়। যখন অন্য ক্যাডারের বিষয় আসে, তখনই নানা প্রসঙ্গ আসে। আমরা জনপ্রশাসনের কুয়েরি (জিজ্ঞাসা) মিট আপ (পূরণ) করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। সব ধরনের কুয়েরি মিটআপ করার পরও জনপ্রশাসনে পড়ে থাকে।’ সমবায় সরকারের একটি ছোট ক্যাডার। আশির দশকে যে কয়েকটি পদ নিয়ে ক্যাডারটি যাত্রা শুরু করেছিল, এখনো সেই পদই রয়েছে। বিসিএস পাস করে সমবায় ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উপজেলা পর্যায়ের পদ বা প্রারম্ভিক পদ অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ শুরু করার কথা। কিন্তু তারা কাজ শুরু করেন জেলা পর্যায়ের পদ ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে। অর্থাৎ এখন অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার দিয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রারের কাজ চালানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা চাকরিতে ঢুকেই জেলা পর্যায়ে কাজ করছেন। সমবায় বিভাগ এই সমস্যা সমাধানের জন্য ১৫ বছর আগে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। এখনো সেই প্রস্তাব ঝুলেই আছে বলে সমবায় ক্যাডারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিসিএস সমবায় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক গালিব খান বলেন, ‘২৬ ক্যাডারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি সভা হয়েছিল। সেই সভায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন অন্যান্য ক্যাডারের পদোন্নতি সহজ করার জন্য। এ জন্য এইচটি ইমামের (প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা) নেতৃত্ব একটি কমিটি করে দিয়েছিলেন তিনি। কমিটি বৈঠক করে কিছু সুপারিশও পাঠায়। এসব সুপারিশ বা প্রস্তাব জনপ্রশাসনেই আটকে আছে। আমরা চিঠি দিলে জনপ্রশাসন কোনো উত্তরই দেয় না। শুধু পদোন্নতি নয়, পদ বাড়ানোর জন্যও ঘুরতে ঘুরতে আমরা হয়রান। জনপ্রশাসন এমন কিছু কুয়েরিজ দেয়, যা কোনোভাবেই মিট আপ করা যায় না। এদিকে নানা কারণ দেখিয়ে তাদের পদ বৃদ্ধি করেই যাচ্ছে। আমাদেরটার খবর নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাকরিতে যোগদানের ৯ বছর পর সিনিয়রিটি (জ্যেষ্ঠতা) পাই। আর প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা পাঁচ বছর পরই সিনিয়রিটি পেয়ে যান। সমবায় ক্যাডারে পদ খালি সাপেক্ষে ডিপিসি (বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির বৈঠক) হয়। আর ওদের ডিপিসি বা এসএসবি হতে পদ খালি লাগে না। আমরা ধাপে ধাপে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। প্রশাসন ক্যাডারের পর পুলিশ ক্যাডার সুপার নিউমারারি (সংখ্যাতিরিক্ত) পদ সৃষ্টি করেছে। অথচ আমাদের সুপার নিউমারারি দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য আমরা অনেকবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখেছি। ওই লেখা পর্যন্তই। এ কাজের কোনো ফলাফল নেই।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু জনপ্রশাসনেই পদ সৃষ্টি বা সংস্কার প্রস্তাব আটকে থাকে না। অন্যান্য মন্ত্রণালয়েও আটকে থাকে। গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং তথ্য অধিপ্তরের পদ বাড়ানোর প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন করে দিয়েছে। এখন আটকে রেখেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নানা জিজ্ঞাসা দিয়ে তারা প্রক্রিয়াটাকে পিছিয়ে দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চাচ্ছে, যার উত্তর দিতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে। অথচ সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাওয়া হয়েছে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কাছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া তাদের জন্য খুবই কঠিন কাজ।
বিসিএস ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স ম গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘পদ সৃষ্টির প্রস্তাবে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নানা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিতে হয়। মন্ত্রণালয়ের এসব কর্মকর্তার মধ্যে বেশিরভাগই প্রশাসন ক্যাডারের। একটি সভা করে বলতে হবে নির্দিষ্ট পদ তৈরি করা জরুরি। এ রকম রেজল্যুশনসহ যাওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনা করে। এরপরই সেখান থেকে একের পর এক কুয়েরি দিতে থাকে। একটা কুয়েরি মানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সেই কুয়েরি যাবে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে সেটা অনুমোদন (এনডোর্স) হয়ে আমাদের কাছে পাঠাতে কমপক্ষে ছয় মাস লাগে। একটা কুয়েরিজের উত্তর দিতে দিতে কমপক্ষে এক বছর লেগে যায়। যখন বিভাগগুলো পদ সৃষ্টির অনুমোদন পায়, ততক্ষণে নতুন পদ সৃষ্টির প্রয়োজন হয়ে পড়ে।’