পণ্যমূল্যে ভোগান্তি ইসলামে নিষিদ্ধ

228

ধর্ম ডেস্ক: অতি মুনাফার লোভে প্রতারণা করে ও অপকৌশল অবলম্বন করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য আটক রাখাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে ইসলাম। আধুনিককালে পৃথিবীর নানা স্থানে কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়া হয়। আমাদের দেশেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে অহরহ। যেমন সম্প্রতি চাল নিয়ে ঘটেছে চালবাজি। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ইসলামে এই অভ্যাসটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা এর সঙ্গে জড়িত তারা বান্দার হক নষ্ট করেন। আমাদের দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর হাতে কুক্ষিগত। অতি মুনাফাখোর অসাধু একদল ব্যবসায়ীর জাঁতাকলে আজ সাধারণ মানুষ নিষ্পেষিত। অসাধু ব্যবসায়ীশ্রেণী সিন্ডিকেট করে পণ্য গুদামজাত করে রাখে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে পণ্যের মূল্য নিজেদের ইচ্ছামতো নির্ধারণ করে। ক্রেতাসাধারণ আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্যের কারণে হয়ে পড়ে দিশেহারা। এটা ইসলামে সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ। দুনিয়া ও আখেরাতে মজুদদারির ভয়াবহ শাস্তির কথা কোরানে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা সোনা-রুপা জমা করে এবং আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তাদের জন্য আপনি যন্ত্রণাদায়ক আজাবের সংবাদ দিন। সেদিন এরূপ ধন-সম্পদ আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর আর পিঠেও দাগ দেয়া হবে। (বলা হবে) তোমরা যা কিছু নিজের জন্য জমা করে রেখেছিলে এগুলো তো সেসব ধন-সম্পদ। সুতরাং তোমরা যা কিছু জমা করে রেখেছিলে, এখন তার স্বাদ গ্রহণ করো।’ আল্লাহর সৃষ্ট জীবকে কষ্ট দিয়ে বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর লক্ষ্যে অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে বা সামষ্টিকভাবে সম্পদ মজুদ করে রাখা ইসলামে মারাত্মক অপরাধ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ রাত পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য মজুত করবে, সে মহান আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে এবং তার সঙ্গে মহান আল্লাহরও কোনো সম্পর্ক থাকবে না।’ মদিনায় ইহুদিরা একচেটিয়া ব্যবসা করত। তারা সেখানে মজুদদারি, মুনাফাখোরি, ধোঁকাবাজি ও সুদের মাধ্যমে মদিনার সব ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। রাসুল (সা.) সেখানে বাজারব্যবস্থা সবার জন্য উš§ুক্ত করে দেন। তিনি মদিনার বিভিন্ন স্থানে ঘোড়া, উট, বকরি ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বেচাকেনার জন্য বেশকিছু বাজার সৃষ্টি করেন। এসব বাজারে স্বাধীনভাবে সব মানুষের ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেন এবং যাবতীয় সিন্ডিকেটের ব্যবসাকে নিষিদ্ধ করেন।