নৌকার মাঝি রাজু, ধানের শীষে আকতার

46

চুয়াডাঙ্গার নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ
আকিমুল ইসলাম:
চুয়াডাঙ্গা সদরের নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাতটার দিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক প্রদান করা হয়। এতে গড়াইটুপি গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান সাব্দারের ছেলে শফিকুজ্জামান রাজু ওরফে রাজু মাস্টারকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এদিকে, বিএনপির ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আকতার হোসেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নামবেন খেজুরতলা গ্রামের আব্দুল মতিন খোকন, জামায়াত ইসলামের আমির তেঘরী গ্রামের রেজাউল করিম, সড়াবাড়ীয়া গ্রামের আবু সাঈদ, খাসপাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা রহমত উল্লাহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিবেন সড়াবাড়ীয়া গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওয়াহেদ মিয়া। নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের ৯টি ওয়ার্ডের সাড়ে ১৬শ ভোটারকে নিয়ে সকল প্রার্থীর মধ্যে ইতিমধ্যে ভোট জয়ের যুদ্ধে নামার সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন মনোনয়ন জমা দিয়ে নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় প্রার্থীগণ।
নৌকার প্রার্থী রাজু বলেন, ‘আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য তাঁর অনেক অবদান রয়েছে। আমিও দেশের জন্য ও আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে চলেছি। যার জন্য নের্তৃবৃন্দ আমাকে প্রতীক দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন আমি এলাকার মানুষের মনে অনেক আগে থেকেই জায়গা করে রেখেছি। আর এই নৌকার মাঝি হয়েই জয়ের নদী পার হবো।
তিতুদহ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আকতার হোসেন বলেন, ‘আমি তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিন তিনবার নির্বাচিত হয়েছি। সঠিকভাবে কার্য-পরিচালনার জন্য জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আগামীতেও নির্বাচিত করবে, ইনশা-আল্লাহ।’
এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন খোকন বলেন, ‘আমি অনেক আগে থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুুতি নিয়েছি। আমি আওয়ামী লীগের প্রকৃতকর্মী হলেও দলীয় প্রতীক পায়নি। কিন্তুু তারপরও নির্বাচন করব।’
সড়াবাড়ীয়া গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওয়াহেদ বলেন, ‘আমি সোমবার মনোনয়নপত্র তুলেছি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট করব।’
খাসপাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা রহমত উল্লাহ বলেন, ‘প্রতীক আকতার চেয়ারম্যান পেয়েছে। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করব।’
আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ বলেন, ‘আমি স্থানীয় নের্তৃবৃন্দদের সাথে আগে বসবো, তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’
দলীয় প্রতীক না পেয়ে দুঃখভরা মন নিয়ে গড়াইটুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘আমি যেহেতু দলীয় প্রতীক পায়নি, সেহেতু দলের বিরুদ্ধে যেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা আমার নেই।’
অপরদিকে, বর্তমানে নির্বাচনের মাঠে সাত জনের নাম থাকলে এর মধ্যে থেকে আগামী ৩ অক্টোবর প্রত্যাহারের শেষ দিনে কয়জন ভোটের মাঠে টিকবেন তা এখন দেখার বিষয়।