নেত্রকোনায় ট্রলারডুবি, ১৭ জনের লাশ উদ্ধার

87

সমীকরণ প্রতিবেদন:
প্রতিকূল আবহাওয়ায় নেত্রকোনায় পর্যটনবাহী ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৭ জন পর্যটকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন একজন। গতকাল দুপুরে জেলার মদন উপজেলার পর্যটন এলাকা মদন হাওরের রাজালীকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে নিখোঁজ হন ১৮ জন। এর মধ্যে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সবাই ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলা সদরের কোনাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উদযাপন উপলক্ষে নেত্রকোনার মদন হাওরের সুন্দর মনোরম পরিবেশ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা বেড়াতে আসেন। গতকাল সকালে ময়মনসিংহ জেলার কোনাপাড়া মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ ৪৮ জন মদনে আসেন ঘুরতে। পরে তারা দুপুরে পর্যটকবাহী একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে উঠে হাওরের মাঝ বরাবর যেতে চান। এদিকে আবহাওয়া ভালো না থাকায় সকাল থেকেই হাওর ছিল উত্তাল। এরই মধ্যে তারা ট্রলারে ঘুরতে বের হলে প্রবল ঢেউ আর প্রচন্ড বাতাসে ট্রলার কাত হয়ে ডুবে যায়। এতে সবাই পানিতে পড়ে গেলে ৩০ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ১৮ জনই নিখোঁজ হন। এদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু ছিল ছয়জন। সব মিলিয়ে মোট ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
নেত্রকোনা ফায়ারস্টেশনের অফিসার খানে আলম জানান, নৌকাটি ৩০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতার। কিন্তু ওটাতে উঠেছেন ৪৮ জন। নৌকার ওপরে উঠে নড়াচড়া করা এবং প্রচ- বাতাসে উথাল-পাথাল ঢেউ থাকার পরও তারা ট্রলার নিয়ে ঘুরতে যান। লাল বিপৎসংকেত উপেক্ষা করেই ঘুরতে যান যাত্রী ও ট্রলারচালক। লাশ উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করার পর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে স্বজনদের কাছে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বুলবুল আহমেদ বিষয়টিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তবে তিনি বলেন, এখানে ঘুরতে আসা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মকানুন মেনে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর পরও কেন এমন ঘটনা ঘটেছে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে মদন হাওরে ব্রিজসহ সড়ক হওয়ায় কয়েক বছর ধরে এটি বিনোদনের জন্য একটি পর্যটন এলাকা হয়ে উঠেছে। অঘোষিত পর্যটন স্পট হলেও বিভিন্ন উপলক্ষ ছাড়াও মানুষ একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে সময় পেলেই হাওরে ছুটে আসেন। কিন্তু পরিবেশ অরক্ষিত থাকায় হাওরে শ্লীলতাহানিসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটে। এর পরও মানুষ বেড়াতে আসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। আর এভাবে বেড়াতে এসে গত দুই বছরে অর্ধশত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।