নেতার আনুগত্য প্রসঙ্গে ইসলাম

11

ধর্ম প্রতিবেদন:
একটি পরিবার, সমাজ, দল ও রাষ্ট্র নিখুঁতভাবে পরিচালনা করার জন্য দরকার হলো যোগ্য নেতৃত্বের। যার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হবে পরিবার, সমাজ, দল বা রাষ্ট্রের লোকজন। কারণ যোগ্য ও আদর্শ নেতৃত্ব ছাড়া কোনো কাজে সফলতা আসে না। নেতার আনুগত্য মেনে চললে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে শান্তির পথে আগানো সম্ভব। ইসলাম নেতৃত্ব মানার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। এক হাদিসে নেতাকে ‘ঢালস্বরূপ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। ইসলাম নেতার জন্যও বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই নির্দেশনা মোতাবেক আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) কর্তৃক নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী নেতার আনুগত্য প্রকাশ অপরিহার্য ঘোষণা করেছে, যেমন অপরিহার্য ঘোষণা করেছে আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ। অবশ্য যৌক্তিক বা আদর্শিক মতপার্থক্য দেখা দিলে নেতৃত্ব ও পরিচালিত সবাইকেই আল্লাহ ও তার রাসুলের দিকে প্রত্যাবর্তন করার কথাও বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কোরানে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে ইমানদার লোকেরা, আনুগত্য কর আল্লাহ এবং তার রাসুলের আর সেসব লোকেরও, যারা তোমাদের মধ্যে সামগ্রিক দায়িত্বশীল। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যদি কোনো ব্যাপারে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়, তখন ব্যাপারটা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমানদার হয়ে থাক তাহলে এটি সঠিক কর্মনীতি আর পরিণতির দিক থেকেও উত্তম।’ সুরা আন নিসা: ৫৯ নেতার আনুগত্য প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন ব্যক্তির জন্য (আমিরের) কথা শোনা ও মানা অপরিহার্য। যেসব কথা পছন্দ হয় না সেগুলোও, যতক্ষণ তিনি আল্লাহ ও রাসুলের বিধানের বিরোধী কোনো হুকুম না দেবেন। অবশ্য যখনই তিনি আল্লাহ ও রাসুলের বিধানের বিরোধী কোনো হুকুম দেবেন, তা শোনাও যাবে না, মানাও যাবে না।’ বোখারি ও মুসলিম উপরোক্ত কোরানের আয়াত ও হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ইসলামে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ স্বয়ং আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করারই সমতুল্য। পক্ষান্তরে আল্লাহর ও রাসুলের অনুসারী থাকা সত্ত্বেও নেতাকে অমান্য করা স্বয়ং আল্লাহ ও রাসুলকে অমান্য করার সমতুল্য। বস্তুত নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যবিহীন জীবন সত্যিকার ইসলামী জীবন নয়। সে জীবনে সফলতাও অসম্ভব।